ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্লাবে আওয়ামী লীগপন্থী নীল দলের শিক্ষকদের পুনর্বাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুর ১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘স্বৈরাচারের গদিতে, আগুন জ্বালাও একসাথে; সাদা-নীল ভাগাভাগি, এই ক্যাম্পাসে হবে না; ফ্যাসিবাদের দালালের, হুঁশিয়ার সাবধান; আওয়ামী লীগের চামচারা হুঁশিয়ার সাবধান; গণহত্যার মদদদাতারা, হুঁশিয়ার সাবধান; ঢাবি ক্লাবে হবে না, দালালদের ঠিকানা’- ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী দোসর নীল দলের শিক্ষকদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। মূলত এর সঙ্গে জড়িত আছে সাদা দলের শিক্ষকরা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ সময় তারা অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কমিটি বাতিল করে ক্লাব থেকে সকল ফ্যাসিবাদের দোসরদের উৎখাতের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবি জুবায়ের বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর অতিক্রান্ত হতে না হতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খুনি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। ঢাবি ক্লাবের ১৫ সদস্যের কমিটির ৭ জন নীল দলের। এটা সাদা দলের শিক্ষকদের জন্য লজ্জাজনক। খুনি হাসিনাকে যারা বিভিন্ন ন্যারেটিভ তৈরি করে ফ্যাসিস্ট হতে সাহায্য করেছে, তাদেরকে সাদা দল পুনর্বাসন করছে। তারা এর মাধ্যমে জুলাইয়ের আহত ও শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষতিয়ে দেখা হোক, কোন স্বার্থে আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন কলা অনুষদের ডিন ও সাদা দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান ১৫ সদস্যবিশিষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কার্যকরী পরিষদ ২০২৫–২৬ ঘোষণা করেন। কমিটি ঘোষণার সময় তিনি জানান, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান এবং নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আমজাদসহ অন্য শিক্ষকরা কয়েকবার সভা করে সমন্বিতভাবে এই কমিটির বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন। কমিটিতে ঢাকা বিএনপিপন্থি সাদা দল ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের শিক্ষকদের নিয়ে সমন্বিতভাবে করা হয়েছে। মোট ১৫ সদস্যের এ কমিটিতে সাদা দলের সাতজন ও নীল দলের সাতজন শিক্ষক রয়েছেন। আওয়ামী লীগের আমলে নীল দলের এসব শিক্ষকরা সিনেটসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন।