সরকারের "লার্নিং উইথ হেপিনেস" কর্মসূচির অংশ হিসেবে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা।
রোববার সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার বিভিন্ন কলেজের ১ হাজার ৪৭২ জন অ্যাথলেট ও খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে জেলার সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিভাগের এই পর্ব শেষ হবে। এ পর্বের বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনা নয়, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দময় ও মানবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে চায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ লক্ষ্যেই অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্রীড়া চর্চার জোয়ার সৃষ্টি করা সম্ভব হলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনে। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
শিক্ষার্থীদের জীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আমানুল্লাহ বলেন, আমাদের অনেকেরই শৈশব হারিয়ে গেছে। এখন আমরা আবার সেই শৈশবকে ফিরিয়ে আনার, কৈশোর ও যৌবনের আনন্দ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। সরকারের যে চাহিদা ও আগ্রহ রয়েছে, সেই অনুযায়ী সারা দেশের ছেলেমেয়েদের মধ্যে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করতে চাই।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, ঢাকা বিভাগ দিয়ে শুরু হওয়া এই ক্রীড়া আয়োজন পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য সাতটি বিভাগেও অনুষ্ঠিত হবে। তরুণ সমাজকে সুস্থ, কর্মক্ষম ও মাদকমুক্ত রাখতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে তাকে যুক্ত হতে হবে। শুধু সার্টিফিকেট অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও এসব কার্যক্রমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তিনি বলেন, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন কলেজ থেকে আসা যেসব শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই ভবিষ্যতে নানাভাবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুমিনুল হাসানসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, কর্মকর্তা, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।