হোম > ফিচার > ক্যাম্পাস

ঐতিহ্যের বাহক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশে পঞ্চম

আতিকুর রহমান, চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফতেহপুর ইউনিয়নের জোবরা গ্রামে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও জাতীয় পর্যায়ে অবদান রেখে চলেছে। বহু গবেষক, জ্ঞানী-গুণীজন, পণ্ডিত ও রাজনীতিবিদের জন্ম হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ নানা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে।

ইতিহাস

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে চট্টগ্রাম বিভাগে কোনো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় চট্টগ্রামবাসী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুভব করেন। ১৯৪০ সালের ২৮ ডিসেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সম্মেলনে মাওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামবাদী এ অঞ্চলে একটি ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ নির্মাণের কথা উপস্থাপন করেন। দুই বছর পর ১৯৪২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নূর আহমদ বঙ্গীয় আইন পরিষদে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করেন। এভাবেই শুরু হয় চট্টগ্রাম বিভাগে একটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার দাবির যাত্রা।

২০ বছর পর ষাটের দশকে তৎকালীন পাকিস্তানের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৬০-১৯৬৫) প্রণয়নকালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজকে সম্ভাব্য ক্যাম্পাস করে একটি ‘বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি ১৯৬২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনশিক্ষা উপপরিচালক মোহাম্মদ ফেরদাউস খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একটি প্রাথমিক খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেন। একই বছর ১৯৬২ সালের নির্বাচনি প্রচারে ফজলুল কাদের চৌধুরী এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাধারণ প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

১৯৬৪ সালের ৯ মার্চ ফজলুল কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম ওসমান গণিকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’ গঠিত হয়। এই কমিশন সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার নির্জন পাহাড়ি ভূমিকে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে সুপারিশ করে। এরপর ১৯৬৪ সালের ১৭ থেকে ১৯ জুলাই ইসলামাবাদে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সভায় ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’-এর সুপারিশের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়। পরে ১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

অবস্থান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উত্তরে হাটহাজারী থানার ফতেহপুর ইউনিয়নের জোবরা গ্রামে অবস্থিত। ২ হাজার ৩০০ একর জায়গা নিয়ে জোবরা গ্রামের পাহাড়ি ও সমতল ভূমির ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়িয়ে আছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরিবিলি পরিবেশের কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয় বিখ্যাত। চারপাশে গ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় শহরের ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্ত চবি।

অনুষদ

দেশের অন্যতম স্বায়ত্তশাসিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০টি অনুষদ, ৫৪টি বিভাগ, সাতটি ইনস্টিটিউট, ছয়টি গবেষণা কেন্দ্র ও ২৬টি অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক রয়েছেন ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭০২ জন ও মহিলা ২৯৪ জন। কর্মকর্তা রয়েছেন ৪৪৫ জন। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন যথাক্রমে ৫৪৫ ও ৯৮৩ জন।

শিক্ষার্থী

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে সিটসংখ্যা রয়েছে ৬ হাজার ৪০০টি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছেন ২৮ হাজার ৫১৫ জন। এর মধ্যে আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ২২ দশমিক ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী। স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন আবাসন সুবিধা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২০ শিক্ষক উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যথাক্রমে আজিজুর রহমান মল্লিক ও ইউএন সিদ্দিকী। সর্বশেষ ২০তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার।

উপাচার্যের বক্তব্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে আমি যোগদান করে উপলব্ধি করলাম বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক জায়গায় নেই। বিশ্ববিদ্যালয় হলো সর্বোচ্চ একাডেমিক ইনস্টিটিউশন, কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি আমি অনেক আগে থেকেই লক্ষ করেছি। এখন আরো বেশি লক্ষ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশে নেই, পৃথিবীর সব দেশেই বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেভাবে চলছে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেভাবে চলছে না। এখানে একাডেমিক চর্চার চেয়ে রাজনৈতিক চর্চার প্রাধান্য আমাকে ব্যথিত করে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ইমেজটা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেজন্য যা যা করা দরকার, সেই কাজ আমরা করছি। এটি টিচিং ইউনিভার্সিটি। ছাত্রদের পড়াতে হবে। সেখানে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এজন্য আমরা ‘সাডেন ভিজিট প্রোগ্রাম’ চালু করেছি। হঠাৎ অনুষদে গিয়ে যদি দেখি কোনো ক্লাসে শিক্ষক নেই, তাহলে তার কারণ জিজ্ঞেস করি।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং উন্নতির জন্য গবেষণা-প্রকাশনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। একটি কমিটি রয়েছে। সেই কমিটি বিভিন্ন সিম্পোজিয়াম-সেমিনার করে তরুণ ফ্যাকাল্টিদের উৎসাহিত করছে, যাতে তারা তাদের গবেষণা বড় বড় আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করে।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য নতুন নীতিমালা সিন্ডিকেটে পাস করিয়েছি। আমাদের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি স্তরে ন্যায্যতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেটা ক্লাস নেওয়া থেকে শুরু করে সব জায়গায়। এজন্য আমরা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছি।

আল্লাহর বড় রহমত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা। আমাদের একটাই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য—যদি এই সৌন্দর্যের সঙ্গে একাডেমিক এক্সিলেন্স ও লেখাপড়ার মান যুক্ত করা হয়, তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয় মানুষ টিকিট কেটে দেখতে আসবে। এত সুন্দর এই ক্যাম্পাস, কিন্তু লেখাপড়া যদি ভালো না হয়, তাহলে এই সৌন্দর্য অর্থহীন।

সাম্পান মনোগ্রাম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রামটি ঐতিহ্যবাহী সাম্পান নৌকা আকৃতির। এটি এঁকেছেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান। মনোগ্রামটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিক্ষাকে ধারণ করে অঙ্কন করা হয়েছে। এর ওপরের অংশে আরবি ভাষায় ‘রাব্বি জিদনি ইলমা’ লেখা আছে, যার অর্থ ‘হে আল্লাহ, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।’ মনোগ্রামে একটি খোলা বই স্থাপন করা হয়েছে, যা জ্ঞানার্জন ও শিক্ষার প্রতীক। পাশে একটি অ্যাটমিক সিম্বলও রয়েছে, যা বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। এ ছাড়া মনোগ্রামে আঁকাবাঁকা পলো অংশ দ্বারা পাহাড় এবং সাদা ঢেউগুলো দ্বারা সাগরের ঢেউ বোঝানো হয়েছে।

জাদুঘর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর বাংলাদেশের একমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক জাদুঘর। ১৯৭৩ সালের ১৪ জুন মধ্যযুগের চারটি কামান নিয়ে এই জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে জাদুঘরে বেলে পাথরের একাধিক ভাস্কর্যসহ বেশ কিছু প্রাচীন পাথরের ভাস্কর্য এবং একটি কামান রয়েছে। জাদুঘর ভবনটি পাঁচটি গ্যালারিতে বিভক্ত—প্রাগৈতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গ্যালারি, ভাস্কর্য গ্যালারি, ইসলামিক আর্ট গ্যালারি, লোকশিল্প গ্যালারি এবং সমসাময়িক আর্ট গ্যালারি। জাদুঘরটি মানব ইতিহাস এবং শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সহায়তা করে থাকে।

বিশেষ অর্জন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। গ্রামীণ ব্যাংক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কার ছাড়াও ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম এবং ২০১০ সালে কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেলসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান

১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছে। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক, ১২ শিক্ষার্থী ও তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী শহীদ হন। সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দুই শিক্ষার্থী শহীদ হন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের পাশে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া সাত মুক্তিযোদ্ধার ছবি-সংবলিত একটি স্মরণ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ ফরহাদ হোসেনের নামে একটি হল ও শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার নামে একটি একাডেমিক ভবনের নামকরণ করা হয়েছে।

ফরহাদ হোসেন—ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ৪ আগস্ট সরকার পতনের মাত্র একদিন আগে নিজ জেলা মাগুরায় ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন তিনি।

হৃদয় চন্দ্র তরুয়া—ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ১৮ জুলাই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুলাই শহীদ হন হৃদয়।

প্রধান গেট

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট ‘১ নম্বর গেট’ নামে পরিচিত। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রবেশদ্বার এবং ক্যাম্পাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে একটি। ২০০৭ সালে নির্মিত এই গেট স্থাপত্যশৈলীতে অসাধারণ ও চবি-প্রেমিকদের আবেগের কেন্দ্র।

গিরিপথ

প্রকৃতির নিপুণ হাতে সাজানো পাহাড়-অরণ্যে ঘেরা চট্টগ্রামের এক বৈচিত্র্যময় ভ্রমণ গন্তব্যের নাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আছে বিভিন্ন রোমাঞ্চকর স্থান। চালন্দা গিরিপথ তেমনি এক অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ জায়গা।

চালন্দা গিরিপথের প্রতিটি পদক্ষেপে অদ্ভুত শিহরন-জাগানিয়া রোমাঞ্চ অনুভব করা যায়। চারদিকের সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে স্বচ্ছ পানির ধারা মনকে প্রশান্ত করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ঝুপড়ির পাশের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার উৎপত্তিস্থল বা ছড়ার পানি ধরে পশ্চিমদিকে ঘণ্টাখানেক হেঁটে গেলে প্রাকৃতিক বিস্ময় চালন্দা গিরিপথের দর্শন পাওয়া যায়। গিরিপথের ভেতরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে হিমশীতল অনুভূতি শরীরকে ছুঁয়ে যায়। দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রকৃতির তৈরি রাস্তায় এগিয়ে যেতে সমানভাবে হাত-পায়ের ব্যবহার করতে হয়। পাহাড়ের ঢালে ঢালে প্রকৃতির বর্ণিল চিত্র যেন অজানা রহস্যের গোলকধাঁধা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের পাশে ঝুপড়ি। পেছনেই ছড়া। এই ছড়ার পানি দিয়ে হাঁটতে হবে। হাঁটা সহজ না। কাদা, পানি—কখনো পা ফসকে যাওয়ার ভয়। ৫০ মিনিট হাঁটার পর ছড়ার বামে বা দক্ষিণে চোখে পড়বে পথটা। এটাই চালন্দা গিরিপথ। পাশাপাশি দুটি পথ। একটি চালন্দার দিকে গেছে, অন্যটি সীতাকুণ্ডের দিকে। তাই ঠিক পথের ধারণা না থাকলে সীতাকুণ্ড চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গিরিপথের পাহাড়ের গা বেয়ে নামছে পানি। কোথাও ভেজা, কোথাও শুকনো। গিরির ভেতরে ঢুকতেই শরীরটা কেমন যেন হিমশীতল হয়ে ওঠে। দুই পাহাড়ের মধ্যে হাত ও পায়ের সমন্বয়ে এগিয়ে যেতে হবে। দুই পাশে পাহাড়ের খাঁজ। কোথাও পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে যেন নেমেছে রোদ। খাঁজে খাঁজে রোদের বর্ণিল চিত্র। কোথাও কুয়াশার মতো আবছা আঁধার। তবে এসবের ভেতরেও কানে আসবে পাখির কিচিরমিচির। গিরিপথে প্রায় আধা কিলোমিটার ঝুঁকিহীনভাবে যাওয়া যায়। কিন্তু আরেকটু ভেতরের দিকে যেতেই দেখা দেবে ভয়। মনে হবে একটা ভুতুড়ে পরিবেশে এসে পড়েছেন। পথচলাও কঠিন হয়ে পড়বে। ক্রমেই বাড়বে ঝুঁকি। একটু অসতর্ক হলে ঘটতে পারে বড় ধরনের বিপদ। তাই চলতে হবে বেশ সাবধানে।

এখন এই গিরিপথে অনেকেই আসেন। কিন্তু চালন্দা নামটি খুব বেশি দিন আগের নয়। যারা পথের নামকরণ করেছেন, তাদের একজন মইনুল ইসলাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র মইনুল বলেন, ২০১১ সালে আমরা ১১ বন্ধু ক্যাম্পাস থেকে পাহাড় দিয়ে হেঁটে ভাটিয়ারী যাওয়ার পরিকল্পনা করি। যাওয়ার সময় একজন কৃষক ছড়া দিয়ে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যান। একসময় চোখে পড়ে একটি ছোট সরু জায়গা দিয়ে ঠান্ডা পানি আসছে। সেই ঠান্ডা পানির খোঁজে আমরা ঝোপের ভেতর ঢুকে পড়ি। দেখি ঠান্ডা হিম হিম বাতাস এবং আঁধারে ছাওয়া এই গিরিপথ। প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। ভেতরে যত যাই, ততই মুগ্ধ হই। পরে ভারতের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্বিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘চ’ যোগ করে ‘চালন্দা’ নামকরণ করি। এই নামটা আসার কারণ আছে। আমরা ইতিহাসের ছাত্র। ভারতের প্রাচীন ইতিহাস পড়ার সময় স্যার বারবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলতেন। নামটা মনের মধ্যে গেঁথে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে একদিন একটা ছবি ফেসবুকে আপলোড করি। বেশ সাড়া পড়ে। এরপর সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে চবির এই চালন্দা গিরিপথ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতিতে কাটা পাহাড়ের মাথায় নির্মিত এই মিনার এক পবিত্র প্রাঙ্গণ।

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং প্রাচীন একটি গ্রন্থাগার। এটি ১৯৬৬ সালের নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এখানে চার লক্ষাধিক বই ও জার্নাল রয়েছে। চবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ওয়েবসাইটে এই গ্রন্থাগারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞানার্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

ফরেস্ট এরিয়া

৫০ একর সবুজ এলাকা, যেখানে রয়েছে হেলিপ্যাড, সুইমিংপুল, লেক ও মেমোরিয়াল গার্ডেন।

শাটল ট্রেন ও স্টেশন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল আকর্ষণ হলো শাটল ট্রেন। ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য এই ট্রেনটি পরিচালিত হয়ে আসছে। শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরই দুটি শাটল ট্রেন আছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আকর্ষণ ও ঐতিহ্য। স্থানীয় গ্রামের লোকদের উৎপাতের কারণে শিক্ষার্থীরা একে ‘জোবরা এক্সপ্রেস’ নামে ডাকে।

১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও কোনো শাটল ট্রেন ছিল না। তখন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন ছিল বাস, যা বর্তমানে তরী নামে পরিচিত। তবে সেই তরীর সংখ্যা ছিল অপ্রতুল। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে দৈনন্দিন যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের ছিল চরম ভোগান্তি। অবশেষে ১৯৭৯ সালে শাটল ট্রেনটি চালু হয়। বর্তমানে এই শাটল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবেগের স্থান।

যাত্রাপথ

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন (বটতলী)-চট্টগ্রাম জংশন কেবিন-ঝাউতলা ষোলশহর জংশন-চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট-চৌধুরীহাট-ফতেয়াবাদ জংশন-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশন।

প্রাকৃতিক ঝরনা

বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে রয়েছে প্রকৃতির নিজের হাতে আঁকা ঝরনাধারা।

অনার্স শেষেও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পিডিএফ-এর ১৫ সদস্য পাচ্ছেন শিক্ষা বৃত্তি

কুবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৬ হাজার পজিশনেও সাবজেক্ট

ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, ডাকসুর নিন্দা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী–সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসুর নিন্দা

চবিতে দুইদিনে ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন

জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আমার দেশের তাওহীদ, সম্পাদক ওসমান