ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ আনাস হল এলাকায় এক বিধবা নারীকে চায়ের দোকান খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করিয়ে বিনিময়ে ধার নেওয়ার নাম করে দোকানির টাকা নিয়ে উধাও ইবির সেই বিতর্কিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ।
সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী চায়ের দোকানির কান্নাজড়িত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। ভুক্তভোগী দোকানি শহীদ আনাস হলের সামনের লিচু বাগানে চায়ের দোকান চালান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করায় এই নেতা ইতোমধ্যেই ক্যাম্পাসে এক বিতর্কিত নাম।
ভিডিও সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের সময় এক দিনের জন্য বলে ওই দোকানির কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নেয় বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ। অভিযোগ রয়েছে, এরপর একাধিকবার টাকা ফেরত দেওয়ার তারিখ পরিবর্তন করলেও এখন পর্যন্ত তা পরিশোধ করেননি। সর্বশেষ গত ২০ জুন টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা দেননি। এছাড়া দোকানের নাস্তার বিল ২৩০ টাকা বকেয়া হলেও সেটাও পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী দোকানির।
ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী দোকানি অভিযোগ করে বলেন, বাঁধন আমার কাছ থেকে ৫,০০০ টাকা হাওলাত (ধার) নিছে, আমার দোকান খোলার বাবদে। আমার যে কোনো কারণবশত আমার দোকানটা বন্ধ হয়েছিল, ও খুলে দিয়েছিল। তাই বলে আমার এতো বড় ক্ষতি করবে বলেন? ও বলেছে, খালা আমি আপনার উপকার করেছি, আমারও একটু উপকার করেন। তাই বলে ৫,০০০ টাকা হাওলাত নিছিল। নিয়ে আজ দেয় কাল দেয়, দেয় না। ২০ তারিখে দেয়ার কথা ছিল, আজ ২৫ তারিখ, একটা টাকাও দেয়নি। তারপরে দোকান বিল ২৩০ টাকা, তাও আমারে দেয় নাই।
তিনি আরও বলেন, "আমি আপনাদের কী দিয়ে কী খাওয়াব? আমি তো গরিব মানুষ। টাকা না দিলে কীভাবে দোকান চালাব? আজ আমার স্বামী বেঁচে থাকলে আমাকে এই কষ্ট করতে হতো না। কোনো কারণে দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ও আবার খুলে দিতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু পরে এভাবে আমার এত বড় ক্ষতি করবেন, সেটা আমি ভাবিনি। আমি আপনাদের কী বলবো, আমার দোকানে তো ৫,০০০ টাকার মালই থাকে না। আমি অনেক মামাদের জানাইছি তারা বলছে খালা, আমরা তো ওর সঙ্গে পারি না, আপনি প্রক্টর স্যারের সাথে কথা বলেন।”
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব বাধন বিশ্বাসকে একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে শুনেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। যেহেতু মানুষ একজনের কাছে অন্যজন ধার নিতেই পারে তবে আসলে ঘটনা কী ঘটেছে সেটা লিখিত অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ, বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ফেসবুক পোস্টে কমেন্টের জেরে এক জুনিয়রকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সে। এসময় জুনিয়র শিক্ষার্থীর হলের সিটের ব্যাপারেও হুমকি দেয়। তারও আগে তার বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। ওই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তার স্বামীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
এছাড়া নির্বাচনের আগে ইবিতে আয়োজিত জাতীয় ছাত্রশক্তির হ্যাঁ ভোটের প্রচারণায় বাঁধা দেয় সে। এসময় অনুষ্ঠানস্থল থেকে অতিথিদের বসার চেয়ার ও বৈদ্যুতিক তার নিয়ে সাদ্দাম হোসেন হলের গেস্টরুমে আটকে রাখে সে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে পূজা উৎযাপন পরিষদ এবং জেলা সমিতি থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।