বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেছেন, "মেধা, নৈতিকতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়; বরং জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের সর্বোত্তম সময়।
সোমাবার (২৯ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় দিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সিবগাতুল্লাহ বলেন "আমাদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে, তাদের প্রতি আমাদের কোনো নেতিবাচক অনুভূতি নেই। আমরা চাই সবাই শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক কাজ করুক। নবীনবরণ, মাদকবিরোধী কর্মসূচি, সায়েন্স ফেস্ট কিংবা মেধাবী সংবর্ধনার মতো আয়োজন আরও বাড়ুক, যাতে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরাই উপকৃত হয়।"
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই ভালো ফলাফল করার লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে কোনো কারণে প্রত্যাশিত ফল না হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখলেই জীবনে ভালো করার আরও অনেক সুযোগ রয়েছে।"
তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখান থেকে একজন শিক্ষার্থী চাইলে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। এখানে কী গ্রহণ করবে, সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই নিতে হবে। তাই ভালো বন্ধু নির্বাচন, সৎসঙ্গ এবং ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে নিতে হবে।"
সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তা বলেন, "আল্লাহ তাআলা সবাইকে সমানভাবে যে নেয়ামত দিয়েছেন, সেটি হলো সময়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চারটি বছর খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই শুরু থেকেই সময়ের সঠিক ব্যবহার করে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমান বিশ্বে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। বিজনেসের পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন আধুনিক টুল ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে হবে।"
দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেশের সাধারণ মানুষের করের অর্থে তৈরি হয়েছে। তাই এই সুযোগের যথাযথ মূল্যায়ন করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।"
নীতি-নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "মেধা থাকলেও নৈতিকতা ও আল্লাহভীতি না থাকলে মানুষ সহজেই দুর্নীতির পথে চলে যায়। তাই একজন সৎ, আদর্শবান ও নৈতিক মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।"
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, "তোমরাই আগামী বাংলাদেশের আশার আলো। জুলাই-পরবর্তী নতুন প্রজন্ম হিসেবে তোমাদের কর্মকাণ্ডের ওপর দেশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে। তাই যোগ্যতা, মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেম ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।"
শিবির সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফের সভাপতিত্বে এবং শিবির সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। এছাড়াও প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শামীম উদ্দিন খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের এবং বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)-এর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম।