হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

‘কৌশলে’ ড. শামীমের সিন্ডিকেট সদস্যপদ বাতিল করল প্রশাসন

আতিকুর রহমান, চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সদ্য সাবেক উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের অধ্যাপক ক্যাটাগরির নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্ পদ বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ডায়েরি ও ক্যালেন্ডারে অধ্যাপক ক্যাটাগরির একটি সিন্ডিকেট সদস্যপদ শূন্য দেখানোকে এর অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে বিষয়টি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকেও আইনি মতামত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিন্ডিকেটের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাদা দলের প্রার্থী ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান দুই বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচিত হন। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৬ মার্চ তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ২৩ (৩) ধারা অনুযায়ী, সিন্ডিকেট সদস্যদের উত্তরসূরি নির্বাচিত বা মনোনীত হয়ে কার্যভার না নেওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যকাল অব্যাহত থাকবে। একই ধারায় আরো বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সিনেট প্রতিনিধি এবং সরকার মনোনীত ব্যক্তিদের কার্যকাল ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তদ্রূপ শিক্ষক, সদস্য এবং কর্মকর্তা হিসেবে বহাল থাকবেন।

এদিকে, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আচার্য ড. শামীম উদ্দিন খানকে চার বছরের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য একাডেমিক পদে নিয়োগ দেন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে তাকে ডেপুটেশনে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ৯ জুন জারি করা আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তাকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ফাইন্যান্স বিভাগে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়। পরদিন, ১০ জুন তিনি বিভাগে যোগদান করেন। তবে মূল বিভাগে ফিরে এলেও অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে তিনি পুনরায় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না— এই প্রশ্নকে সামনে এনে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্যপদ বহাল না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরবর্তী সময়ে গত ১১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৭তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় অংশ নিতে গেলে শিক্ষকদের একটি অংশের বাধার মুখে পড়েন ড. শামীম উদ্দিন খান। পরে তিনি সভায় অংশগ্রহণ করলেও তার সদস্য পদ বহাল থাকবেন কি না— এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের আইনগত মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

পরবর্তী সময়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতের ভিত্তিতে গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ড. শামীমকে জানায় যে, তিনি আর অধ্যাপক ক্যাটাগরির সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারবেন না। তবে এরই মধ্যে ৩০ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সভার নোটিস জারি করা হয়। ওই সভায় ড. শামীমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

জানতে চাইলে ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, সরকার আমাকে ডেপুটেশনে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল এবং আমি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন শেষে আমার বিভাগে ফিরে এসেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো ছুটি গ্রহণ করিনি। ডেপুটেশনকে সক্রিয় সার্ভিস হিসেবে গণ্য করা হয়। অধ্যাপক পদে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধাসহ সিন্ডিকেট সদস্যপদ বহাল থাকার কথা। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমার সিন্ডিকেট সদস্যপদ বাতিল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, সিন্ডিকেটের প্রস্তাবনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিষয়টি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নেওয়া হবে। সেই মতামতের ভিত্তিতেই ড. শামীমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পরবর্তী সময়ে ২৯ তারিখে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত অনুযায়ী তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

ড. শামীম উদ্দিন খানের নিযুক্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন আমার দেশকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ছিল ৩০ জুনের সিন্ডিকেট সভায় অংশগ্রহণের জন্য ড. শামীমকে আমন্ত্রণ জানানো। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তিনি এখনো অধ্যাপক ক্যাটাগরির বৈধ সিন্ডিকেট সদস্য।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনায় কোনো পদ শূন্য দেখানোর আইনগত ভিত্তি নেই। এটি কেবল একটি প্রকাশনা, আইনগত দলিল নয়। তার দাবি, নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যায় না। এ ছাড়া সিন্ডিকেটের কোনো সভায়ও ড. শামীমের অধ্যাপক ক্যাটাগরির সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। ফলে তৎকালীন রিটার্নিং কর্মকর্তা বা রেজিস্ট্রার যে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছিলেন, সেটি এখনো বহাল রয়েছে। তার ডেপুটেশনে থাকা অবস্থার পর বিভাগে ‘অধ্যাপক’ হিসেবে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘সিন্ডিকেট সদস্য—অধ্যাপক ক্যাটাগরি’ পুনর্বহাল হয়েছে এবং তার সঙ্গে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মেয়াদ পর্যন্ত তিনি সেই অবস্থায় বহাল থাকবেন বলে আমাদের আইনগত মতামত।

অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন বলেন, মাননীয় অ্যাটর্নি জেনারেল তার মতামত দিয়েছেন, তবে সেখানে গত ১১ তারিখের সভায় ড. শামীমকে আমন্ত্রণ জানানো, তার অংশগ্রহণ এবং এর আইনগত ফলের বিষয়টি অনুপস্থিত। হয়তো এ বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি। তারপরও সেই মতামতেও বলা আছে যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের বিধান সুস্পষ্ট নয়।

শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রকল্প শুরু হয়নি দুই বছরেও

ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি, অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন

‘মসজিদ নিয়ে প্রশাসনের একাংশের নোংরা রাজনীতি খোলাসা’ করলেন ডাকসু নেতা

১০০ হাফেজে কোরআন ও এ লেভেল গ্র্যাজুয়েটকে সংবর্ধনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো বৃক্ষ শুমারি

ববিকে প্রথম ফ্যাসিস্টমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতির দাবি ছাত্রদলের

চাকসুর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সেবা নিলেন দেড় হাজার ছাত্রী

লক্ষাধিক শিক্ষক নিয়োগ হবে, জানালেন মন্ত্রী

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ফারসি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ

উপাচার্যের আশ্বাসে অনাস্থা, আন্দোলন অব্যাহত বেরোবি কর্মকর্তাদের