সমুদ্রবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ব্লু ইকোনমি বিষয়ক গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভারন্যান্স (আইসিওজি) এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থা (ব্রিন)-এর রিসার্চ সেন্টার ফর ডিপ সি-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় সংলগ্ন সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থা (ব্রিন)-এর রিসার্চ সেন্টার ফর ডিপ সি-এর প্রধান অধ্যাপক ড. আ’আন ওয়াহিউদি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
সমুদ্রবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ব্লু ইকোনমি বিষয়ে গবেষণা সহযোগিতা শীর্ষক এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সামুদ্রিক বিজ্ঞান গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন অধ্যয়ন, ব্লু ইকোনমির উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, একাডেমিক বিনিময় এবং যৌথ বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্র শাসন এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক গবেষণা অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের গবেষকরা অত্যাধুনিক গবেষণা পরিচালনা, বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান ও উদ্ভাবন বিনিময়ের নতুন সুযোগ পাবেন, যা উভয় দেশের ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিন-এর মধ্যকার এই অংশীদারিত্ব সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু গবেষণা এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির, আইসিওজি’র ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট অধ্যাপক ড. টোনিয়া অ্যাস্ট্রিড কাপুয়ানো, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দা রোযানা রশিদ এবং ইন্দোনেশিয়ার ব্রিন-এর রিসার্চ সেন্টার ফর ডিপ সি-এর গবেষক ও প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সমন্বয় করেন আইসিওজি’র পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সমঝোতা স্মারকের আওতায় যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও জ্ঞান বিনিময়সহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং ব্লু ইকোনমির উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।