মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনা, অসুস্থতা ও কীটনাশক পানের মতো মর্মান্তিক ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত ১০ থেকে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পৃথক এসব মৃত্যুর ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মারা যাওয়া তিন শিক্ষার্থী হলেন—পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সাদমান রহমান নাবিল, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ জিসান হাসান এবং রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শাহরিয়ার বাঁধন।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সাদমান
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদমান রহমান নাবিল। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন তপোবন আবাসিক এলাকার সামনে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি হঠাৎ সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা খেলে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসানের মৃত্যু
এর দুদিন পর সোমবার (১২ অক্টোবর) মাথায় রক্ত জমাট বাঁধার কারণে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিসান হাসান।
কীটনাশক পানে বাঁধনের মৃত্যু
সবশেষ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাঁধন। গত ৪ অক্টোবর রাতে বাসা বা মেসের একটি কক্ষে কীটনাশক পান করার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে টানা নয় দিন ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বাঁধনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও কলহের জের ধরেই তিনি অভিমানে কীটনাশক পান করেছিলেন।
একটানা তিন শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম।