ঢাকা কলেজের আবাসিক হলে অবস্থানরত মাস্টার্স ও লেখাপড়া শেষ হয়ে গেছে এমন শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশ বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়েছে কলেজ প্রশাসন। শুক্রবার মধ্যরাতে দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সাবেক প্রভোস্ট অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের বিভিন্ন হলের প্রতিটি কক্ষে কক্ষে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন হল প্রভোস্টরা। মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং ২০১৯–২০ সেশনসহ মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ত্যাগের নির্দেশনা দেন তারা।
অভিযানের খবর পেয়ে প্রভোস্টদের মুখোমুখি এড়াতে মেয়াদোত্তীর্ণ অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে চলে যান।
অভিযান চলাকালে প্রভোস্টরা কঠোর ভাষায় জানান, ৩০ তারিখ ছিল শেষ সময়। ১ তারিখের মধ্যে সবাইকে হল ছাড়তে হবে। অনার্স পাসের পর পরীক্ষা দিক বা না দিক, আর থাকা যাবে না। ২০১৯–২০ বা তার আগের কোনো সেশনের শিক্ষার্থী রুমে থাকলে তাকে অবিলম্বে হল ত্যাগ করতে হবে। এখানে কোনো ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ চলবে না, সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, ‘যদি সবাই একসঙ্গে হল ত্যাগ করে, তাহলে আমরাও চলে যাব। কিন্তু আমরা বের হওয়ার পর কেউ যদি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হলে থেকে যায়, তা মেনে নেওয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান, তাই সবার ক্ষেত্রেই একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তারা আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রভোস্টরা মূলত ২০১৯–২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার কথা বলছেন। অথচ এর বাইরেও বহু পুরোনো সেশনের যেমন ২০১৫–১৬ সেশনের শিক্ষার্থীরাও হলে অবস্থান করছেন, যাদের বিষয়ে প্রশাসন তেমন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে না। তাছাড়া কোন হলে কত শিক্ষার্থীর মেয়াদ শেষ হয়েছে এখন পর্যন্ত লিস্ট করে নাই।’
এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ‘আমরা হল ছাড়ার পর আমাদের আসনগুলো কাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আমরা বের হওয়ার পর আমাদের সিট দখল হয়ে যাবে না, এমন নিশ্চয়তা কি প্রশাসন দিতে পারবে?’
মো. ইমরান মাহমুদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘যেসব বুড়োগুলো হলে আছে, যাদের পড়াশোনা আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে শেষ, ওরা আছে কীভাবে? ১৮-১৯ থেকে সব চলে যাওয়ার মতো, তারপর ১৯-২০ আরো থাকার মতো সময় আছে।’
এর আগে, ২৩ এপ্রিল ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিগত বছরে মাস্টার্স শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ৩০ এপ্রিল তারিখের মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
এলআর