হোম > ফিচার > ক্যাম্পাস

ডাকসু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মাহির কাইয়ুম, ঢাবি

রাত পোহালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। ভোটকেন্দ্র ও বুথ প্রস্তুত, বিশেষ শাটল সার্ভিসেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রচার, সমর্থন-প্রত্যাহার ও নানা আয়োজনে মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বুথ সংখ্যা বাড়িয়ে নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণের আশ্বাস দিলেও ছাত্রসংগঠন, শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখনো সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা আটটিই থাকবে। তবে বুথের সংখ্যা বাড়িয়ে ৮১০টি করা হয়েছে। এ বুথ ব্যবস্থাপনায় সব ভোটার একসঙ্গে উপস্থিত হলেও এবং একজন ভোটার গড়ে ১০ মিনিট সময় নিলেও বিকাল ৪টার মধ্যে ভোটদান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে শেষ করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, ভোটগ্রহণের সময় সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিকাল ৪টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রে লাইনে উপস্থিত থাকবেন, তারাও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

৮ ভোটকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট হলসমূহ

কার্জন হল কেন্দ্রÑড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, অমর একুশে হল এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থীদের জন্য। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রÑজগন্নাথ হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থীদের জন্য। ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)Ñরোকেয়া হলের শিক্ষার্থীদের জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্রÑবাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থীদের জন্য। সিনেট ভবন কেন্দ্রÑস্যার এএফ রহমান হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল এবং বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থীদের জন্য। উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রÑসূর্যসেন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, কবি জসীম উদ্‌দীন হল এবং শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীদের জন্য। ভূতত্ত্ব বিভাগ কেন্দ্রÑকবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থীদের জন্য। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রÑশামসুন নাহার হলের শিক্ষার্থীদের জন্য।

ভোটের দিন থাকবে শাটল বাস সার্ভিস

ভোটের দিন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে অতিরিক্ত বাস চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিন শাহবাগ থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ শাটল সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছে ঢাবি প্রশাসন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী জানান, ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকাল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত শাহবাগ থেকে আটটি ভোটকেন্দ্রে শাটল সার্ভিস চলমান থাকবে।

প্রচারের সমাপ্তি

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার রোববার রাতে শেষ হয়েছে। শেষ সময়ে প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করতে শপথ, মিছিল, গণসংযোগসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।

এদিন দুপুরে টিএসসি চত্বর, মধুর ক্যান্টিন, আর্টস বিল্ডিং, মল চত্বর, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও গণগ্রন্থাগার এলাকাজুড়ে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায়। সেখানে লিফলেট বিতরণ ও প্রচারে অংশ নেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকরা।

ছাত্রদল সমর্থিত আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ দুপুরে আর্টস বিল্ডিংয়ের সামনে শপথ পাঠ করে। ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, আমরা নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে প্রচারের সময় বলেন, ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লব হবে।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী আবদুল কাদের গণগ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গণসংযোগ করেন। একই সময় ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ডাকসু ফর চেঞ্জ প্যানেলের বিন ইয়ামীন মোল্লাও প্রচারে অংশ নেন।

‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নাইম হাসান হৃদয় মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিল শুরু করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। অন্যদিকে বাম জোটের শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা আবাসিক হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চান।

প্রচারের শেষদিনে শিক্ষার্থীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুও ছিল আসন্ন নির্বাচন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী রিজওনুল হক বলেন, বিগত দিনে যারা শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন, আমরা তাদেরই মূল্যায়ন করব। রোকেয়া হলের সাদিয়া আক্তার জানান, আমরা যোগ্যপ্রার্থীকে বেছে নেব। দল কোনো ব্যাপার নয়।

ডাকসুর ভিপি পদপ্রার্থী আবদুল কাদের বলেন, আমরা প্রতিটি ক্রান্তিকালে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম, আশা করি এবারও তাদের ভালোবাসা পাব।

১০ দাবি শিক্ষক নেটওয়ার্কের

এদিন দুপুরে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

১০ দফা দাবিগুলো হলো—প্রবেশপথ বন্ধ না করে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে, কারা প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করবে তা প্রকাশ করতে হবে, নারী শিক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাইয়ে নারী শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, পোলিং অফিসার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে হবে, ভোট গ্রহণের সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাড়াতে হবে ইত্যাদি।

ভোট দিতে আসার আহ্বান বামপন্থী প্যানেলের

অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডাকসু নির্বাচনে জিএস প্রার্থী মেঘমল্লার বসু বলেছেন, আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দিন, তবে প্লিজ ৯ সেপ্টেম্বর ভোট দিতে আসুন। আপনারা ভোট দিতে এলেই গোটা ইকুয়েশন বদলে যাবে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বাগছাসের প্রশ্ন

নির্বাচনের প্রচার ঘিরে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল। এদিন মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার অভিযোগ করেন, প্রতিদিনই নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে। যারা আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীদের কল দিয়ে ভোট চাওয়ায় বিতর্ক

আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মোবাইলে কল দিয়ে ভোট চাওয়া নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তাদের নিজ নিজ এলাকার রাজনৈতিক দলের নেতারা সরাসরি কল করে নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীদের ভোট দিতে চাপ দিচ্ছেন।

গত শনিবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের শিক্ষার্থী কাইফ বিন শফি লিখেছেন, একটু আগে আবিদ ভাইয়ের সাথে ছবি পোস্ট করার পর কক্সবাজার বিএনপির হারুন ভাই ফোন দিয়ে আবিদ ভাইকে ভোট দিতে বললেন। জয় আবিদ ভাইয়েরই হবে।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ গালিব বলেন, আমাকে দিনাজপুর জেলা বিএনপির এক নেতা ফোন দিয়ে ছাত্রদলকে ভোট দিতে বলেছেন।

অন্যদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিস আহমেদ হিমেল অভিযোগ করেছেন, তার মাকে এক জামায়াত নেত্রী ফোন করে শিবির মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইতে বলেন।

শামসুন নাহার হলের এজিএস প্রার্থী নিয়ন মনি ফেসবুকে লিখেছেনÑঢাবির শিক্ষার্থীরা কাকে ভোট দেবে, সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কোনো জেলার নেতা এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন না। এভাবে ফোন দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য হুমকি।’

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের পর খুলনার রূপসা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আলী সুজনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রদল মনোনীত জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন। তিনি লিখেনÑ‘কোনো শিক্ষার্থীকে কল করে বিব্রত করবেন না। এটি আমাদের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।

এদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, শিক্ষার্থীকে ফোন দিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করা ফ্যাসিবাদী কায়দা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবে।

এরই মধ্যে শনিবার রাতে আরেকটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আমিন আল-আমিন ঢাকায় এক শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে ডাকসু নির্বাচনে তাদের প্যানেলের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন।

এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের ব্যক্তিগত নম্বর কীভাবে জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার বলেন, এটি শুধু প্রাইভেসির লঙ্ঘন নয়, নারীদের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।

অনার্স শেষেও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পিডিএফ-এর ১৫ সদস্য পাচ্ছেন শিক্ষা বৃত্তি

কুবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৬ হাজার পজিশনেও সাবজেক্ট

ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, ডাকসুর নিন্দা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী–সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসুর নিন্দা

চবিতে দুইদিনে ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন

জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আমার দেশের তাওহীদ, সম্পাদক ওসমান