যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সংগঠন আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির (এপিএস) ২০২৬ সালের ‘ফেলো’ নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় এপিএস’র ওয়েবসাইটে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ বছর সারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্য থেকে মাত্র ১৫৩ জন এই অনন্য সম্মান অর্জন করেছেন।
নিউক্লিয়াস-নিউক্লিয়াস বিভবের প্রয়োগের মাধ্যমে নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যার সমাধানে অসামান্য অবদান এবং বাংলাদেশে কম্পিউটার সচেতনতা ও বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসারে পথিকৃৎ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হলো, অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একমাত্র পদার্থবিদ যিনি আন্তর্জাতিক এই সম্মান অর্জন করলেন।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ২০২৬ সালের ‘গুণী শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’র সম্মাননাও লাভ করেন।
৮৬ বছর বয়সেও গবেষণা, শিক্ষকতা ও বিজ্ঞানশিক্ষায় তার নিরবচ্ছিন্ন অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তার এই বিরল অর্জন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে এক নতুন গর্বের অধ্যায় যুক্ত করল।
আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক বলেন, এই স্বীকৃতি আমার দীর্ঘদিনের গবেষণা, শিক্ষকতা ও বিজ্ঞানচর্চার এক অনন্য সম্মান। আমি মনে করি, এটি কেবল আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং সমগ্র বাংলাদেশের বিজ্ঞানশিক্ষা ও গবেষণার জন্যও বড় গর্বের বিষয়। দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা যেন বিজ্ঞানচর্চা ও মৌলিক গবেষণায় আরও বেশি আগ্রহী হয়, সেটিই আমার মূল প্রত্যাশা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখা সম্ভব। আমি চাই, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হোক এবং আমাদের নতুন প্রজন্ম বিশ্বমানের বিজ্ঞানী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলুক।
অধ্যাপক বসাককে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির মতো বিশ্ববিখ্যাত ও মর্যাদাপূর্ণ সংগঠনের ফেলো নির্বাচিত হওয়া অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাকের বহুমাত্রিক গবেষণা ও বিজ্ঞানচর্চার চমৎকার স্বীকৃতি। তার এই অর্জনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ পুরো বাংলাদেশ আজ গর্বিত। এই অভাবনীয় সাফল্য দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মৌলিক গবেষণায় অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।