চ্যাম্পিয়ন আইবিএ টিম
জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টারের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ টিম।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫)। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর টিম। প্রথম রানার্স আপ হয়েছে লোক প্রশাসন বিভাগের টিম এবং দ্বিতীয় রানার্স আপ হয়েছে অপরাধবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের যৌথ টিম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশাররফ হোসেন, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মো. যোবায়ের হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম।
প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে ৪০টি নীতি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্য থেকে ১০টি টিম দ্বিতীয় রাউন্ডে এবং পরবর্তীতে ৫টি টিম ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। চূড়ান্ত পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয় আইবিএর টিম অদিতি শাওয়াল নূর, ইত্তেসাফ রহমান ও আলিফ বিন হাসান।
প্রথম রানার্স আপ হয় লোক প্রশাসন বিভাগের টিম মো. মাহতাবুল ইসলাম মাহিন, সাকিবুল বাশার ও মায়েশা মমতাজ।
দ্বিতীয় রানার্স আপ হয় অপরাধবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের যৌথ টিম জারিন তাসনিম, হুমায়রা তাবাসসুম জারিন ও আমিরাস সালেহীন হা-মীম। এছাড়া ফাইনালে অংশ নেয় প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের টিম এবং ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ ও জাপানিজ স্টাডিজের যৌথ টিম।
এসময় বিজয়ী দলের হাতে ক্রেস্ট, মেডেল ও আর্থিক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। চ্যাম্পিয়ন দল পায় ৪৫ হাজার টাকা, প্রথম রানার্স আপ দল ৩০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানার্স আপ দল ১৫ হাজার টাকা। চ্যাম্পিয়ন দল জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।
প্রতিযোগিতায় জুরি বোর্ডে ছিলেন বিজয় ৭১ হলের প্রভোস্ট ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স. ম. আলী রেজা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম আরিফ মাহমুদ, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী এবং রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “বর্তমানে নীতি প্রণয়নে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন কেন্দ্রীভূত ধারা বজায় থাকার কারণে অনেকেই মনে করেন নীতি নির্ধারণ কেবল সরকারের কাজ। এই ধারণা ভাঙতে হবে।” তিনি আরও বলেন, দেশের প্রয়োজনে জাতীয় নীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানা ও কাজ করা দরকার। বিভাজনের দলান্ধ রাজনীতি সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।
জুলাই আন্দোলনে তরুণদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে উপাচার্য বলেন, “দেশের সব ক্ষেত্রে তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সমন্বিত অগ্রযাত্রার দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
প্রতিযোগিতায় সহযোগী হিসেবে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি ও গ্রীন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।