হোম > ফিচার > ক্যাম্পাস

ঢাবি হবে সত্যিকার অর্থে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়

সাক্ষাৎকারে জামালুদ্দীন খালিদ

মাহির কাইয়ুম, ঢাবি

ফাইল ছবি

আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকে ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এবং কবি জসীম উদ্‌দীন হলের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়।

ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা খালিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিকরণ ও প্রশাসনিক আধিপত্য দূর করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। আমি নির্বাচিত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থে একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার জন্য কাজ করব।’

তার দৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রধান সংকটগুলোর কথা জানিয়ে খালিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সংকটগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, প্রশাসনিক রাজনীতিকরণ। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি জায়গায় অতি-রাজনীতিকরণ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। বিগত সময়গুলোতে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও আধিপত্যের মাধ্যমে আবাসন সংকট থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব বড় সংকট রয়েছে, সেগুলো যুগের পর যুগ জিইয়ে রাখা হয়েছে।

আপনি কেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে খালিদ বলেন, ‘আমি এমন একটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখি যেখানে শিক্ষকরা অরাজনৈতিক থাকবেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থাকবে নিরপেক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিকার অর্থে একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সবাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করবেন। রাজনীতি থাকবে; তবে কেউ কারো ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে না, কারো অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। সবার প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় গবেষণাভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানের একটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠবে।

জামালউদ্দিন খালিদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা সত্যিকার অর্থে একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে চাই। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় তার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত একান্তভাবে নেবে। যেখানে রাষ্ট্রীয় কিংবা কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। এ জন্য ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে পরিবর্তন প্রয়োজন। এই অধ্যাদেশে শিক্ষার্থীদের অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে ডাকসুকে নিয়মিত করে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।’

বিগত ডাকসুগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচন কেন ভিন্ন-এমন প্রশ্নের যেভাবে তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, সেটা কোনো নির্বাচন ছিল না; ছিল শুধুই ধোঁকা। তারপরও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার জন্য, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আমরা সে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। তবে সে নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারেননি। প্রশাসন সরাসরি ছাত্রলীগের পক্ষ নিয়েছিল। তবে এবারের নির্বাচন খুবই উৎসবমুখর পরিবেশে হতে চলেছে। ইতিহাসের সর্বাধিক প্রার্থী এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখতে পাচ্ছি। আশা করছি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন ৯ সেপ্টেম্বর আমরা পাব।’

আপনাদের স্বতন্ত্র প্যানেল নিয়ে কতটুকু আশাবাদী-এমন প্রশ্নের জবাবে খালিদ বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট আশাবাদী। কেননা, আমাদের প্যানেলে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীরা রয়েছেন। এ প্যানেলে যারা আছেন, গত ৪-৫ বছর তারা অ্যাক্টিভিজমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়। শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সমুন্নত রাখাতে তারা সব সময় রাজপথে থেকেছেন, প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ক্যাম্পাসের যে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের প্যানেলের প্রার্থীরা সক্রিয় ছিলেন। তাই মনে করছি শিক্ষার্থীরা আমাদের মূল্যায়ন করবেন।’

ডাকসুর এই ভিপি প্রার্থী বলেন, ‘আমাদের প্যানেলটি দলনিরপেক্ষ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আমাদের বেছে নেবেন। রাজনৈতিক আধিপত্যের বাইরে গিয়ে, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্রসংগঠনের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে এখন সচেষ্ট। আশা করছি এবারের নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।’

নির্বাচনি পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ বলেন, ‘পরিবেশ এমনিতে মোটামুটি ভালোই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কিছু কিছু প্যানেল থেকে বা প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘিত হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন থেকে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বস্ততার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেই মনে করছি।’

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে খালিদ আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কাজের জন্য আমাকে ভোট দেবেন। বিগত ছয় বছর ধরে আমি ক্যাম্পাসে আছি এবং অ্যাকটিভিজম করছি। অভ্যুত্থানের আগে বা পরে আমি মাঠে শিক্ষার্থীদের যে কোনো প্রয়োজনে পাশে ছিলাম। তারা সবাই আমাকে চেনেন ও জানেন। দলকেন্দ্রিক লেজুড়বৃত্তির বাইরে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি শিক্ষার্থীরা আমাদের নিরাশ করবেন না।’

অনার্স শেষেও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পিডিএফ-এর ১৫ সদস্য পাচ্ছেন শিক্ষা বৃত্তি

কুবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৬ হাজার পজিশনেও সাবজেক্ট

ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, ডাকসুর নিন্দা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী–সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসুর নিন্দা

চবিতে দুইদিনে ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন

জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আমার দেশের তাওহীদ, সম্পাদক ওসমান