ফেসবুকের একটি কমেন্টকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিবের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একপর্যায়ে রাকিবুলকে মেসেঞ্জারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে অবস্থান নেন রাকিবুল। পরে রাকিবুল চলে যাওয়ার পর দলবল নিয়ে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট হাতে সেখানে আসেন আহসান হাবিব।
রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আহসান হাবিব ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, মববাজ, নিয়োগ বাণিজ্যকারী, অর্থ আত্মসাৎকারী কুলাঙ্গার সালাউদ্দিন আম্মারের ডিএনএ টেস্টের দাবি জানাচ্ছি। আমি নিশ্চিত সে বহু নারীকে ভয় দেখিয়ে, ফাঁদে ফেলে অথবা লোভ দেখিয়ে বহুবার ধর্ষণ করেছে। ওর হিম্মত থাকলে ও প্রমাণ করুক সে ভার্জিন।”
ওই পোস্টে কমেন্ট করেন রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম। তিনি লেখেন, “কার খুনের আসামী করলি? ক্লিয়ার কর। এগুলো ছাত্রলীগের বয়ান।”
এরপর রাকিবুলকে মেসেঞ্জারে হুমকি দিয়ে আহসান হাবিব লেখেন, “(গালি) আমারে যে ছাত্রলীগ কইলি আমার প্রোফাইল দেখছস একবার? আমি একা যতো ছাত্রলীগ পিটায়ে পুলিশে দিছি তোর বাপ আম্মার আর তোর দাদা শফিকের দল জামাত শিবির সারাদেশেও অতো ছাত্রলীগ পিটায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে একমাত্র মামলার বাদী আমি। সাহস থাকলে আয় আমার সামনে। ছাল তুলে ফেলবো আমারে চিনস? সৎ সাহস থাকলে লোকেশন বল তোর দেখা যাবে কে কার ... ... ছিঁড়ে ফেলে। ছাত্রলীগ, শিবির, বাম সব মিলেও এক আহসান হাবিবের সামলাতে পারবিনা, টোটাল ছাত্রদলের কথা বাদই দিলাম।”
এর জবাবে রাকিবুল ইসলাম লেখেন, “ক্যাম্পাসেই থাকি। আজকে সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পরিবহন মার্কেটে আছি। একাই থাকবো। যদি পারে কেউ রাকিবের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক। দেশ কারো কাছে বর্গা দেয়া হয়নাই।”
জানা গেছে, রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে অবস্থান নেন রাকিবুল। এ সময় তিনি ফেসবুকে একাধিক আপডেট দিতে থাকেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে আহসান হাবিব আসেননি।
রাকিবুল পরিবহন চত্বর থেকে চলে যাওয়ার পর সাড়ে ৫টার দিকে দলবল নিয়ে সেখানে আসেন আহসান হাবিব। এ সময় তার সঙ্গে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট ছিল। পরে তিনি বিষয়টি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহসান হাবিব পরিবহন চত্বরে অবস্থান করছিলেন। তিনি রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমি সেখানে সকাল থেকেই উপস্থিত ছিলাম। বিকাল ৫টা পর্যন্ত থাকার পরও সে আসেনি। আমি আসার পর জানতে পারলাম তারা এসেছে। ছাত্রদলের পুলাপান হকিস্টিক নিয়ে এসেছে, তারা হয়তো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রেখে যাওয়া দায়িত্ব পালন করছে। তারা চেষ্টা করতে থাকুক এবং দেখুক ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা তাদের এসব হকিস্টিক গ্রহণ করে কি না।”
রাবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব বলেন, “সম্প্রতি সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের ফটোকার্ড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ গ্রুপে পোস্ট করায় রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম আমাকে ও আমার মা-বোনকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। আমি তাঁকে ইনবক্সে বলেছি, ছাত্রদলকে লাগবে না, আমি একাই যথেষ্ট। সাহস থাকলে আমার সামনে আসতে বলেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকার ঘোষণা দিলেও অসুস্থ থাকায় তাঁর পোস্টটি দেখতে পারিনি। পোস্টটি দেখার ২০ মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাসে এসে তাঁকে পাইনি। আমি এখন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করব। তাঁর যদি সাহস থাকে, তাহলে সালাউদ্দিন আম্মারকে সঙ্গে নিয়ে আমার সামনে আসুক। পারলে তাঁদের সঙ্গে সামনাসামনি কথা হবে।”
এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “আমি এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানি না। ওদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা দেখছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “বিকালের পর থেকে এ বিষয়টা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছে। এ বিষয়টা আমরা প্রশাসন জেনেছি। আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে নিভৃত করার এবং তাদেরকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি।”