চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা আগামীকাল মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে । নয়টি সাধারণ এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবারের পরীক্ষায় দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে এই পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে শিক্ষামন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডগুলো।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী এ সময় বলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সাইবার ক্রাইম সহ কেউ কোন ধরণের অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এবারের পরীক্ষার খাতা দেখার জন্য পরীক্ষক বাড়ানো হবে। খাতা দেখার বিষয়ে বিশেষ কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, তবে তা ‘লিবারেল ওয়েতে’ দেখতে হবে বলে জানান তিনি।
পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে কিনা-সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরাতো কোচিং সেন্টারের রেজিস্ট্রেশন দেই না, কোচিং সেন্টারের কোন তালিকাও আমাদের কাছে নেই।
পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্নফাঁস না হওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আমি খুবই কেয়ারফুল ও সিরিয়াস। যারা ক্রাইম করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
ডিসেম্বরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোর্স শেষ করে প্রত্যেক পরীক্ষা যে সময়ে হয় সেই সময়েই হবে। কোর্স শেষ হলে পরীক্ষা হবে না কেন? মানুষ আগের পদ্ধতি পছন্দ করেনি। তবে এবছর ডিসেম্বরে এসএসসি ও এইচএসসি হবে কিনা-সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি মন্ত্রী।
এ সময় তিনি আরও বলেন, এই মন্ত্রণালয়ে কেউ দুর্নীতি করলে ২৪ ঘন্টাও থাকতে পারবে না।
লিখিত বক্তব্যে মাহ্দী আমিন বলেন, জনবান্ধব সরকার ছাত্র ছাত্রীদের মন থেকে "পরীক্ষা ভীতি" নামক শব্দটি দূর করতে চায়, সাথে সাথে সন্মানিত অভিভাবকদেরও আশ্বস্ত করতে চাই আপনারাও সন্তানদের নিয়ে অকারণে আতঙ্কিত হবেন না।
পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে শান্ত স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, পরীক্ষা হলে এমন পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা খুব ভালোভাবে অবহিত আছি যে এবারের এসএসসি ব্যাচ করোনাজনিত কারণে প্রাথমিক ও জুনিয়র উভয় বৃত্তি পরীক্ষা বঞ্চিত হয়েছে; ফলে এবারের এসএসসি পরীক্ষা তাদের জীবনের প্রথম এবং পূর্ণ সিলেবাসের পাবলিক পরীক্ষা।
সেকারণে পরীক্ষার হল যেন পরীক্ষার্থীবান্ধব থাকে সেটা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা এটাও জানি বিগত জুলাই অভ্যুত্থানে এই কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে রাজপথে প্রতিবাদ মুখর থেকে, দেয়ালে গ্রাফিতি একে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। তাদের এই সৃজনশীলতা পরীক্ষায় প্রতিফলিত হবে ইনশাআল্লাহ।
মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ নিরাপদ পানি, আলো ও ফ্যান, স্বাস্থ্যকর টয়লেট ও জরুরি বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন। পরীক্ষা কেন্দ্র যানজট মুক্ত রাখতে হবে। ছাত্রীদের চলাচল শতভাগ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে হবে।
আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট, পরিদর্শক, ইনভিজিলেটরদের দায়িত্ব হবে পরীক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করা। অকারণে আতঙ্ক সৃষ্টি নয়।
তিনি বলেন, পরীক্ষা পত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অহেতুক কঠোরতা আমাদের লক্ষ্য নয়, কোন পরীক্ষার্থী যেন তার প্রাপ্য মূল্যায়ন থেকে সামান্যতম বঞ্চিত না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই পরীক্ষার্থীরা বিনা টেনশনে হাসিমুখে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসবে, শান্তি পূর্ণ পরিবেশে উত্তর পত্রে লিখবে এবং হাসিমুখে পরীক্ষা কেন্দ্র ত্যাগ করবে।
আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মানুষ গড়ার কারিগর হিসাবে গড়ে তুলতে চাই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্মৃতি যেন একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ স্মৃতি হয় আর পরীক্ষা ভীতি শব্দটি যেন জাদুঘরে স্থান পায়- এমন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। এরমধ্যে ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন ছাত্রী। মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের দাখিল পরীক্ষার্থী সংখ্যা তিন লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন। এরমধ্যে এক লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন ছাত্র ও এক লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন ছাত্রী। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী সংখ্যা এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। এরমধ্যে এক লাখ এক হাজার ৫০৯ জন ছাত্র এবং ৩৩ হাজার ১৫১ জন ছাত্রী।