দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো পেশা সাংবাদিকতা উত্তর-আধুনিক এই যুগে এসেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে টিকে আছে। এ দীর্ঘ সময়ে সাংবাদিকতার ধরন ও বাহনের মাত্রাগত বিবিধ পরিবর্তন হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উত্থান গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার গতিপথকে একদিকে যেমন ত্বরান্বিত করেছে, অন্যদিকে যোগাযোগ, গণযোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগ, প্রচারমাধ্যম—এসব বিষয়ের পার্থক্যকরণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে। তা না হলে ফেসবুক-ইউটিউবকেও সাংবাদিকতা বলে ধরে নেওয়ার ভুল ধারণা একসময় সাংবাদিকতা পেশাকেই সংকীর্ণ ও গুরুত্বহীন করে তুলবে।
গণতন্ত্রের সঙ্গে গণমাধ্যমের সমান্তরাল একটি সম্পর্ক থাকা দুটির জন্যই জরুরি। শুদ্ধ গণতন্ত্র যেমন নিশ্চিত করে শুদ্ধ গণমাধ্যম; তেমনি শুদ্ধ গণতন্ত্রের জন্যও প্রয়োজন শুদ্ধ ও স্বাধীন গণমাধ্যম। আর এই শুদ্ধ গণমাধ্যম চর্চার দুটি দিক রয়েছে—শিক্ষাগত ও ব্যবহারিক। সাংবাদিকতার শিক্ষাগত জায়গাটিতে শুদ্ধতা আনার লক্ষ্যে সেই ষাটের দশকেই এদেশে সাংবাদিকতার একাডেমিক যাত্রা শুরু হয়। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও সাংবাদিকতার বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অন্যতম।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে এ বছর বিভাগটি ১৪ বছরে পদার্পণ করেছে। তবে এর মধ্যেই এ বিভাগের গ্র্যাজুয়েটরা সদর্পে বিচরণ করছে সব মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায়। ইতোমধ্যে কিছু শিক্ষার্থী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও নোঙর ফেলেছে এবং উচ্চশিক্ষা অর্জন করছে।
তবে শুরুর জার্নিটা ছিল একেবারেই ঢাল-তলোয়ারহীন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে এবং বিভাগের বর্তমান প্রধান রফিকুজ্জামানকে নিয়ে বিভাগের যাত্রা। বর্তমানে বিভাগে নিয়মিত শিক্ষকের পাশাপাশি রয়েছেন একঝাঁক খণ্ডকালীন শিক্ষক। মিডিয়ার দক্ষ, অভিজ্ঞ ও খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা হাতে-কলমে পাঠদান করে থাকেন। প্রায় প্রতিটি মিডিয়া হাউসের অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীরা এখানে ক্লাস নেন, কর্মশালা পরিচালনা করেন এবং সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে থাকেন।
এ পর্যন্ত ২৭টি ব্যাচের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। শতাধিক গ্র্যাজুয়েট দেশের প্রথম সারির সবকটি গণমাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রথম আলো, এনটিভি, যমুনা টেলিভিশন, স্টার নিউজ, সময় টিভি, চ্যানেল আই, চ্যানেল ২৪, মাছরাঙা, নিউজ ২৪, ডিবিসি, নাগরিক টিভি, দেশ টিভি, এসএ টিভি, আমার দেশ, কালবেলা, দেশ রূপান্তর, মানবজমিন, কালের কণ্ঠ, বণিক বার্তা, সময়ের আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, প্রতিদিনের বাংলাদেশ, জনকণ্ঠ, জাগো নিউজ ও এশিয়া পোস্ট। এছাড়া প্রথম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী তুরস্কের একটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন এবং আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী বিশ্বের নামিদামি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত আছেন।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এমনিতেই অত্যন্ত কম খরচে পড়ানো হয়। তবে অন্যান্য বিভাগের তুলনায় সাংবাদিকতা বিভাগের টিউশন ফি আরো কম; বলা যায়, সর্বনিম্ন খরচে সর্বোত্তম সেবা। লক্ষ্য একটাই—দক্ষ ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ সংবাদকর্মী তৈরি করা। এজন্য রয়েছে অত্যন্ত আধুনিক ও উন্নত কারিকুলাম। শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য রয়েছে একটি কম্পিউটার ল্যাব, একটি অত্যাধুনিক স্টুডিও, যেখান থেকে পরিচালিত হয় এমআইইউ ক্যাম্পাস টিভি। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও চাকরি পাওয়া এবং দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে বিভাগের শিক্ষকরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে থাকেন।
মানারাতের সাংবাদিকতা বিভাগ কেবল পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে রয়েছে বিভাগের চমৎকার সম্পর্ক। দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক ড. মাহমুদুর রহমান, দৈনিক নয়াদিগন্তের সাবেক সম্পাদক প্রয়াত আলমগীর মহিউদ্দিন, মানবজমিন-এর সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, খ্যাতনামা কবি ও সাহিত্যিক এবং যুগান্তর-এর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, এসএ টিভির প্রধান অপারেটিং অফিসার (সিওও) ও ঘুড্ডি চলচ্চিত্রের পরিচালক প্রয়াত সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকি, রয়টার্সের বেস্ট ক্যামেরাম্যান খেতাবপ্রাপ্ত ফটোসাংবাদিক রফিকুর রহমান, সাংবাদিক, কবি, অনুবাদক ও গবেষক এরশাদ মজুমদার, বিখ্যাত ফটোগ্রাফার রফিকুল ইসলাম এবং সারগাম সম্পাদক কাজী রওনাক হোসেন বিভিন্ন সময়ে বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময় করেছেন। এছাড়া ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বহু অভিজ্ঞ সাংবাদিক বিভাগের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
সাংবাদিকতা মানারাতের এমন একটি বিভাগ, যেটি বছরজুড়ে নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে সরগরম ও প্রাণবন্ত করে রাখে। সেমিনার, কর্মশালা, ভর্তা-ভাত, হাঁসপার্টি, খেলাধুলা, আউটডোর শুটিং, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রতি সেমিস্টারে একটি করে এক দিনের শিক্ষাসফর এবং বছরশেষে লং ট্যুর ছাড়াও রয়েছে নানা কর্মকাণ্ড। দেশের একমাত্র মিডিয়া অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে মানারাতের সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে। ২০২৫ সালে আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম এমআইইউ মিডিয়া অলিম্পিয়াড। অলিম্পিয়াডে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্লোগান হচ্ছে ‘আ সেন্টার অব একাডেমিক অ্যান্ড মোরাল এক্সিলেন্স’। অর্থাৎ মানারাত তার শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক পাঠদানই করে না; নৈতিক জ্ঞানেও সমৃদ্ধ করে। এ লক্ষ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে বিভাগের একদল দক্ষ ও বন্ধুভাবাপন্ন শিক্ষক অভিন্ন লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। মানারাতের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে বের হচ্ছে একদল দক্ষ ও সৎ কলমসৈনিক। তারাই হবে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ আলোকবর্তিকা।