হোম > প্রবাস

মালদ্বীপের এমএনইউতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের বই উপহার, সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

আমার দেশ অনলাইন

মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এমএনইউ)-তে একটি বিশেষ বই হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয় ‘পাওয়ার অব বন্ডিং অ্যান্ড নন-ওয়েস্টার্ন সফট পাওয়ার স্ট্র্যাটেজি’ শীর্ষক গ্রন্থ। বইটির লেখক মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমএনইউর উপাচার্য ড. আইশাথ শেহেনাজ আদম আনুষ্ঠানিকভাবে বইটি গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রধান গ্রন্থাগারিক, শিক্ষক, গবেষক, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে এমএনইউর প্রধান গ্রন্থাগারিক হুসেইন হালিম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ গবেষণা ও জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার কেবল বই সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার রচিত গ্রন্থটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি, সফট পাওয়ার এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে ক্ষুদ্র ও মধ্যম রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন গবেষণা ও একাডেমিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি তার ‘পাওয়ার অব বন্ডিং’ তত্ত্বের ব্যাখ্যায় বলেন, পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, বন্ধুত্ব, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কই আধুনিক সফট পাওয়ারের মূল ভিত্তি। তার মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষে-মানুষে সংযোগই টেকসই আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলে।

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বর্তমান সম্পর্ককে ‘পাওয়ার অব বন্ডিং’-এর সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক ও সুদৃঢ় হয়েছে। ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, একাডেমিক সেমিনার, বৃত্তি কর্মসূচি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নকে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন।

সমাপনী বক্তব্যে এমএনইউর উপাচার্য ড. আইশাথ শেহেনাজ আদম বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, হাইকমিশনারের লেখা বইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের জন্য মূল্যবান সংযোজন হবে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমএনইউ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তুলতে আগ্রহী।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠান শিক্ষা কূটনীতি, জ্ঞান বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং ‘পাওয়ার অব বন্ডিং’ ধারণার বাস্তব প্রয়োগেরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

এসআর

যুক্তরাজ্যে তৃষ্ণার্ত পথচারীদের পাশে ওবায়দুল কবীর

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চুক্তিকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত

দুই’শ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক থেকে স্টেট সিনেটর, এমডি মাসুদুর রহমানের উত্থানের গল্প

সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা

মালদ্বীপ প্রবাসীদের জন্য এবার যে নতুন উদ্যোগ

মালদ্বীপে বাংলাদেশি মোশারফ হোসেনের দীপ্ত পদচারণা

ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল নির্বাচনে বাংলাদেশিদের সাফল্য

কুয়েত প্রবাসীদের সমস্যার কথা শুনলেন রাষ্ট্রদূত

ফ্রান্সের বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে কাজী নজরুল ইসলাম

ইইউর নতুন অভিবাসন আইনে কী আছে