ইউরোপে বাংলাদেশ বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিত ইতালি আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বিমানের কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট এখনো বহাল। গত সোমবার ইতালিতে বিমানের পক্ষ থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের টিকিট সিন্ডিকেটকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সিন্ডিকেট ব্যবসায় বিমানের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকা নিয়ে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইতালি আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিস ফরাজির পপুলার ট্রাভেল এজেন্সি, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক জি এম কিবরিয়ার রূপসী বাংলা ট্রাভেলস এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমেদ বাবুর সিএসবি ট্রাভেল এজেন্সিকে ‘বেস্ট সেলার’ সম্মাননা দিয়েছে বিমান। দীর্ঘদিন থেকে এই সিন্ডিকেট বিমানের টিকিট বিক্রির মনোপলি ব্যবসা করেছে। অন্য কাউকে বিমানের টিকিট বিক্রির সুযোগ না দিয়ে এখন আবার তাদেরই পুরস্কৃত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করে রোমের ইতালিয়ান এজেন্সি ডেস্টাল।
আওয়ামী সিন্ডিকেটকে পুরস্কৃত করার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিমানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ড. শফিকুর রহমান, পরিচালনা বোর্ডের সদস্য শাহরিয়ার আলম চৌধুরী, মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের পরিচালক আলম আশরাফুল, আইটি বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার আনারুল হক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের অনুগত আওয়ামী লীগ নেতাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট বছরের পর বছর একচেটিয়া টিকিট বাণিজ্য করেছে। যাত্রীদের জিম্মি করে তাদের ইচ্ছামতো টিকিটের দাম হাঁকিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ইতালিতে বিমানের টিকিট বিক্রির সিন্ডিকেট হিসেবেই পরিচিত পপুলার ট্রাভেলস ও রূপসী বাংলা ট্রাভেলস। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকই হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে রোম-ঢাকা-রোম রুটে পপুলার ট্রাভেল ও রূপসী বাংলা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বিমানের সরাসরি টিকিট বিক্রি করা হয়। এই দুটি এজেন্সি ছাড়া অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সির সরাসরি বিমানের টিকিট ক্রয় বা বুকিং করার এখতিয়ার নেই। অন্য ট্রাভেলস এজেন্সি শুধু পপুলার ট্রাভেল ও রূপসী বাংলা ট্রাভেলের মাধ্যমে টিকিট বুকিং করতে পারে। এই দুই প্রতিষ্ঠান যেভাবে টিকিটের দাম ঠিক করে দেয়, সেভাবে দাম নিতে হয় যাত্রীদের কাছ থেকে।
অন্য ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর পরিচালকরা দাবি করছেন, বিমানের টিকিটের অনেক চাহিদা ইতালিতে। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির বাস ইতালির বিভিন্ন শহরে। বাংলাদেশে যাতায়াতে তাদের প্রথম পছন্দ বিমান। কিন্তু টিকিট সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ ট্রাভেল এজেন্সিগুলো যাত্রীদের ন্যায্যমূল্যে টিকিট দিতে পারে না। আওয়ামী লীগ নেতাদের মালিকানায় থাকা পপুলার ট্রাভেল ও রূপসী বাংলা ট্রাভেলসের নির্ধারণ করে দেওয়া মূল্যে টিকেট বিক্রি করতে হয়।
তারা আরো জানান, গ্রীষ্ম ও স্কুল ছুটির সময় টিকিটের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। অনেক সময় সিট বুকিং করতে গেলে ফাঁকা নেই বলে ফেরত পাঠানো হয় যাত্রীদের। পরে আবার বেশি দামে সিট ম্যানেজ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় বিমানের সিট ফাঁকা যাওয়ার পরও এসব এজেন্সিকে কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। যদিও পরবর্তী সময়ে সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় খুচরা টিকিট বিক্রেতা ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে। ইউরোপে বিমানের টিকিট বাণিজ্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এতদিন কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি। তবে আওয়ামী লীগের পতনের পরও এই টিকিট বাণিজ্য এখনো একই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে।
এ বিষয়ে বিমানের বক্তব্য জানতে সংস্থার মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের পরিচালককে বারবার কল করা হলেও তা রিসিভ করা হয়নি।