প্রায় চার দশক ধরে বিশ্বব্যাপী বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করে চলা সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন আজ। ১৯৫৪ সালের এই দিনে (৪ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলাগানের জীবন্ত এ কিংবদন্তি। তার পারিবারিক নাম দিলশাদ ইয়াসমিন। দিলশাদ থেকে সাবিনা ইয়াসমিন হয়ে ওঠার পেছনের গল্প ও শুভ জন্মদিনে তার সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আমার দেশ-এর সাংবাদিক আফসানা খানম আশা
আমার দেশ : আপনি কেমন আছেন?
সাবিনা ইয়াসমিন : হুম, ভালো আছি।
আজ আপনার জন্মদিন, ‘আমার দেশ’-এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন!
সাবিনা ইয়াসমিন : ধন্যবাদ।
আমার দেশ : জন্মদিন নিয়ে স্পেশাল কোনো পরিকল্পনা আছে?
সাবিনা ইয়াসমিন : না না, জন্মদিন নিয়ে আমি কোনো প্ল্যান করি না। ঘরোয়াভাবেই আমার বোন, ভাগনে-ভাগনি আর কিছু বন্ধুদের বাসায় ডাকি। তেমন কোনো কিছু করা হয় না কখনোই, ওটাই করব আর কি।
আমার দেশ : দিলশাদ থেকে কীভাবে সাবিনা ইয়াসমিন হয়ে উঠলেন?
সাবিনা ইয়াসমিন : ১৯৬২ কি ১৯৬৪ সালে ভারতের বিখ্যাত শিল্পী তালাত মাহমুদ সাহেব ঢাকায় এসেছিলেন। ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো’ গানটি তিনি গেয়েছিলেন। তার এক অনুষ্ঠানে বড় আপা (ফরিদা ইয়াসমিন) একটি গান গেয়েছিলেন। তিনি গল্প করতে করতে শুনলেন তালাত মাহমুদের মেয়ের নাম সাবিনা তালাত।
নামটা আপার এত পছন্দ হয়েছিল যে বাড়িতে এসে মাকে বললেন, ও তো এখনো অনেক ছোট, ওর নাম তালাত মাহমুদ সাহেবের মেয়ের নামে রাখো না। মা বললেন, না না। অনেক অনুরোধ করার পর নামটা রাখলেন। দিলশাদের বদলে সাবিনা নাম হলো। বোনদের সবার নামের শেষে ইয়াসমিন আছে, আমারও হলো তাই।
আমার দেশ : আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন?
সাবিনা ইয়াসমিন : হ্যাঁ, ভালো আছি তো। আমার কথাবার্তা শুনছেন না? সুস্থ। কেন এত সুস্থ-অসুস্থ জিজ্ঞেস করেন? আমি তো সুস্থ, কোনো টেনশনের দরকার নেই। আমি ভালো আছি, সুন্দর আছি, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ অনেক ভালো রেখেছেন।
আমার দেশ : বর্তমানে আপনার দেখাশোনা কে করছেন?
সাবিনা ইয়াসমিন : আমার দেখাশোনা আবার করবে কে? আল্লাহ যদি ১০০ বছর বয়স বাঁচিয়ে রাখেন, তখন হয়তো দেখাশোনার মানুষের কথা চিন্তা করব। এখন তো আমিই দেখাশোনা করি কত মানুষের!
আমার দেশ : আপনার ছেলেমেয়েরা কে কোথায় থাকেন?
সাবিনা ইয়াসমিন : আমার ছেলে থাকে লন্ডনে, মেয়ে দেশেই আছে। সে ব্যাংকে চাকরি করে। এই তো।
আমার দেশ : আপনি তো চ্যারিটির সঙ্গে যুক্ত আছেন, সে সম্পর্কে কিছু বলুন।
সাবিনা ইয়াসমিন : আমি অনেকদিন ধরে ‘ডিস্ট্রেসড চিলড্রেন’ নামে একটি আমেরিকান অর্গানাইজেশনের সঙ্গে জড়িত আছি, বেশ কবছর হয়ে গেল। আর অরূপ রতন চৌধুরীর ‘মানস’ নামে প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারি হিসেবে আছি অনেক বছর ধরে। এছাড়া এমনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। কারো কোনো অসুবিধা হলে বা সাহায্যের দরকার হলে, যতটুকু পারি, করার চেষ্টা করি।
আমার দেশ : সামনে কি গানের কোনো প্রোগ্রাম আছে?
সাবিনা ইয়াসমিন : গানের প্রোগ্রাম? হ্যাঁ, আছে। ওটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, এ মাসেই আছে সম্ভবত। আর সামনের মাসে বিদেশে যাব গানের জন্য... এই।
আমার দেশ : এ প্রজন্মের গান কি শোনা হয়?
সাবিনা ইয়াসমিন : গান শোনার সময় কোথায়? যখনই সময় পাই, পুরোনো গান শুনি। এখনকার গান আমি তেমন একটা শুনি না।
আমার দেশ : এ প্রজন্মে অনেক শিল্পী আছেন, কিন্তু তারা ওই রকম আইকনিক হয়ে উঠতে পারছেন না। এটা নিয়ে কি বলবেন?
সাবিনা ইয়াসমিন : কিছু বলব না। আমি নিজেই তেমন কিছু জানি না, কীভাবে বলব। আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।
আমার দেশ : ভক্তদের উদ্দেশে আপনার কি বলার আছে?
সাবিনা ইয়াসমিন : ভক্তরা যেন ভক্তই থাকে সারা জীবন, এটাই চাই। ভালো ভালো গান যেন ওরা শোনে। বাজে গান বাদ দিয়ে ভালো গান, বাংলা গান শুনলে আমার ভালো লাগবে। আমি সব সময় ভালো গানের পক্ষে। সবাই বেশি করে গান শুনবেন, ভক্তরা সবাই ভালো থাকবেন।
আমার দেশ : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ;
সাবিনা ইয়াসমিন : আপনাকেও ধন্যবাদ।