শিশুদের ভয়হীন, বৈষম্যহীন ও সৃজনশীল মুক্ত আলোয় গড়ে তোলার আহ্বান নিয়ে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো শিশু-কিশোর শিল্পীদের নিয়ে বিশেষ পরিবেশনা ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’। ২৫ আগস্ট, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) জনাব রুহুল কবির রিজভী এমপি। তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান সময়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, ‘নজরুলের গান ও কবিতা শিশুদের বেশি বেশি চর্চা করাতে হবে, যাতে তারা শিল্প-সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হয় এবং মাদক থেকে দূরে থাকে।’
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। সেই সাথে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রতিটি আয়োজনে শিশু-কিশোরদের সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে শিশুদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। নজরুলের ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই আমাদের শিশুরা একটি সুন্দর ও মানবিক পৃথিবী নির্মাণ করবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির সচিব জনাব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় ৫০ জন শিশু-কিশোর শিল্পীর কণ্ঠে সমবেত উদ্বোধনী সংগীত ‘দাও শৌর্য দাও ধৈর্য’, ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’ এবং সমবেত নৃত্য ‘প্রজাপতি, প্রজাপতি’।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোর নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায় সমবেত নৃত্য ‘বনের হরিণ আয়’, একক সংগীত পরিবেশন করেন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিল্পী রবিউল ইসলাম শান্ত। এছাড়া ফিফা চাকমার পরিচালনায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের সমবেত নৃত্য তপস্যা দলের পরিবেশনায় প্রশংসিত হয়।
এছাড়াও নজরুল সংগীত, একক ও সমবেত নৃত্য এবং আবৃত্তিতে অংশ নেয় সাবরিনা জাহান সেজুতি, তানজিম বিন প্রত্যয়, দেবিকা শ্রেয়ণী পাল, অদিতি বাইন, মাহির আজমাইন ইভান, লিউনা তাসনিম সাম্য এবং স্পন্দন ও রিদম ডান্স সেন্টারসহ বিভিন্ন দলের শিল্পীরা।
৫০ জন শিশু-কিশোর শিল্পীর কণ্ঠে ‘মনের রঙ লেগেছে’ সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে আবেগঘন এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
একাডেমির প্রত্যাশা, এই ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমেই শিশুরা আগামী দিনের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হয়ে উঠবে।