হোম > বিনোদন

সচেতন শিল্পীদের সমাজ, রাষ্ট্রের বয়ান

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে ঢুকতেই মনটা অন্যরকম হয়ে গেল। পুরোনো শিকড়ের গাছের পাতার ছবি। তিন অবস্থার। সাদা, কালো ছবিগুলো কথা বলছে নিজেরাই। এই ছবিটির শিল্পী মেহজাবীন ইসলাম, প্রিন্ট মেকিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। জয় করেছেন শিল্পী হাবিবুর রহমান মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড-২০২৪। তাদের বিভাগের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী হচ্ছে ২০২৩ ও ’২৪ সালের, ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি।

প্রদর্শনী কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, ‘গত বছর আমাদের অনুষদের ৭৫ বছর উপলক্ষ্যে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা প্রদর্শনী একই সঙ্গে করা হয়েছিল। এই কারণে এবার দুই বছরের বার্ষিক বিভাগীয় প্রদর্শনী একই সঙ্গে করতে হয়েছে। ফলে আমাদের বিভাগের ছাত্র, ছাত্রী ৫০ জন হলেও ১৮০টি ছবির প্রদর্শনী হচ্ছে। ছাত্র, ছাত্রীদের আটটি করে ১৬টি ছবির জন্য পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। সকল মাধ্যমে তারা ছবি এঁকেছে। কাঠখোদাই, এচিং, একুয়াটিন্ট, ড্রাই পয়েন্ট, লিথোগ্রাফি, পেন্সিল স্কেচ, লিথোগ্রাফি, জল রং, ডিজাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যম নিরীক্ষাধর্মী কাজ আছে। কম্পোজিশনও খুব ভালো। কালার, টেকনিক ইত্যাদি বিবেচনা করে সেরা ছবিগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এবার আমরা দেখেছি, তারা অনেক বেশি উন্নতি করেছে কাজে। মেয়েরা এবার বেশি পুরস্কার পেয়েছে। ৫টিই তারা জয় করেছে আর ছেলেরা ৩টি। গত বছরের পুরস্কার সমান সমান ছিল। ছেলেরা পার্ট টাইম কাজ করে ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকে বলে ওরা মেয়েদের চেয়ে পিছিয়ে গিয়েছে। আর মেয়েরা কাজে অনেক বেশি মনোযোগ দেয়। আমরা যে পুরস্কারগুলো ছাত্র, ছাত্রীদের দিয়েছি- সেগুলো হলো শিল্পগুরু সফিউদ্দিন আহমেদ পুরস্কার (এমএফএতে সকল মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার), শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়া পুরস্কার (এমএফএতে শ্রেষ্ঠ নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার), শিল্পী মাহমুদুল হক পুরস্কার (বিএফএ সম্মানে সকল সকল মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার), শিল্পী হাবিবুর রহমান স্মৃতি পুরস্কার এবং চারটি মাধ্যমে ৮টি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।’

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম চঞ্চল বলেছেন, ‘আমাদের অনুষদের অন্যতম ভাইটাল ডিপার্টমেন্ট হলো প্রিন্ট মেকিং। এই বিভাগের ছাত্র, ছাত্রীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনেক বেশি পজেটিভ হয়ে কাজ করছে।’

ছাত্র, ছাত্রীদের উন্নত মানের কাজ নিয়ে বিভাগের অধ্যাপক ড. রোকনুজ্জামান বলেছেন, ‘আমাদের বিভাগের উন্নতির কারণ হলো, বাইরে থেকে পড়ে আসা অধ্যাপকরা বিভাগে আছেন। ছাত্র, ছাত্রী ও তারা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীগুলোতে মোটামুটি অংশগ্রহণ করছেন। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামঞ্জস্য বিধান হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা তাদের সময় দিচ্ছি।’

ছবিগুলোও তেমন স্বাক্ষর রেখে চলেছে। একজন বৃদ্ধ আরাম কেদারায় বসে আছেন। পেন্সিলে করা এই ছবিতে কখনো একবার দেখলে বাবা, আরেকবার দেখলে মডেল মনে হয়। আরেকটি ছবিতে শির্ল্পীই নেই। বাকি সব প্রস্তুত। দুটি বড় গাছের কাণ্ডের মাঝখানে ক্যানভাস, টুল, ছবির মতো সাজানো প্রকৃতি রয়েছে। বেশিরভাগ ছবিই এমন ভ্রম তৈরি করে। একটিতে দুটি পুতুল, মা ও সন্তান। কখনো ভালুক বলে ভ্রম হয়। তবে তারা পুতুলই চেয়ারে বসা। রঙিন প্রজাপতিও যে ছবি হতে পারে, হাতের ছবিতে তাও ফুটে উঠেছে। তবে তিনটি ছবি তিন অবস্থার, মা, কিশোর প্রজাপতি, ছোট প্রজাপতি আবার তিনটি পাখা আছে। সন্তানের করুণ মৃত্যুর প্রতীক। পিনাক চন্দ্র দাস তৃতীয় বর্ষের, ওয়াটার কালারের জন্য পেয়েছেন শিল্পী হাবিবুর রহমান মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড-২০২৩। একটি মাটির ঘরা পড়ে আছে। চারপাশেই দালান। মাঝখানে ঘরাটি। ওপরে একটি দালানে শ্যাওলার মধ্যে গাছের জন্ম হয়েছে। এভাবে তাদের আকা প্রতিটি ছবিই সমাজ সচেতন, বর্তমানমুখী ও ভবিষ্যতের আশাবাদ এবং পরিণতির। এই প্রদর্শনী চলবে প্রতিদিন ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওসমান জামান মিলনায়তনে।

আসছে নির্জন-মিতুল জুটির ‘কোটি টাকার বউ’

অশ্রু স্মরণ ও শ্রদ্ধায় মুস্তাফা মনোয়ারকে চিরবিদায়

রিমান্ড শেষে অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

‘অথবা তুমি আমি’তে পারসা ইভানা

বক্স অফিসে হতাশ করল ‘সুপারগার্ল’, দাপট অব্যাহত ‘টয় স্টরি ৫’-এর

নায়ক-নায়িকা খোঁজার মিশনে চুমকি-রিচি

শিল্পকলায় পূর্ণিমা তিথি-তে ‘সাধুমেলা’

একাধিক প্রজন্মের শৈশবের জাদুকর মুস্তাফা মনোয়ার

মুস্তাফা মনোয়ারের আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : তথ্যমন্ত্রী

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, বনানী কবরস্থানে দাফন