বহু সিনেমায় অভিনয় করে একজন নায়িকা হিসেবে যেমন এক সময় এ দেশের তরুণ দর্শকের মনে ঝড় তুলেছিলেন, আবার একটা সময় পেরিয়ে সিনেমায় তিনি একের পর এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেও এ দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন। তবে এই সময়ে এসে তাকে আর আগের মতো সিনেমায় দেখা যায় না।
তবে ভালো গল্পের সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব পেলে অভিনয় করার ইচ্ছা আছে বলে জানান সূচরিতা। রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে নিজের বাসাতেই সময় কাটে সূচরিতার। দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে তিনি পেয়েছেন এ দেশের কোটি কোটি দর্শকের অসীম ভালোবাসা। সে ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়েই এখনো অভিনয় করে চলেছেন তিনি।
অভিনয় জীবনের প্রাপ্তি প্রসঙ্গে সূচরিতা বলেন, ‘সেই ছোট্টবেলা থেকে সিনেমায় অভিনয় করছি আমি। পরিণত বয়সে এসে নায়িকা হয়েও বহু সিনেমায় অভিনয় করেছি। বারবার দর্শকের ভালোবাসায় নিজেকে সিক্ত করেছি। আবার যখন সিনেমায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি, তখনও দর্শক আমার চরিত্রগুলোকে নিয়ে আবেগে মেতেছেন। এই যে দর্শকের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা, এটাই তো এক জীবনে অনেক বড় প্রাপ্তি। আবার আমি মনে করি একজন শিল্পী যতদিন সুস্থ থাকেন, সচেতন থাকেন, ভালো থাকেন; ততদিনই তিনি অভিনয় করে যেতে পারেন। শিল্পীদের কোনো অবসর নেই। তাই আমি যতদিন অভিনয় করব, ততদিন যেন আমাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা না দেওয়া হয়।’
মুস্তাফিজের ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে শিশু চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন সূচরিতা। তখন তার নাম ছিল হেলেন। ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তিনি শিশু চরিত্রে আরো অভিনয় করেনÑ‘নিমাই সন্ন্যাসী’, ‘অবাঞ্ছিত’, ‘রং বেরং’, ‘টাকা আনা পাই’, ‘কতো যে মিনতি’, ‘রাজ মুকুট’, ‘বাবলু’সহ আরো বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে।
নায়িকা হিসেবে আজিজুর রহমানের নির্দেশনায় ‘স্বীকৃতি’, দীলিপ বিশ্বাসের ‘সমাধি’ এবং অশোক ঘোষের ‘মাস্তান’ চলচ্চিত্রে পরপর অভিনয় করেন। তবে ১৯৭৭ সালে প্রয়াত আব্দুল লতিফ বাচ্চুর ‘জাদুর বাঁশী’ সিনেমায় অভিনয় তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। এরপর থেকে একে একে তিনি ৩০০ সিনেমায় অভিনয় করেন। সূচরিতার নিজের অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘বজ্রমুষ্ঠি’ সিনেমার ‘জীবনে একজন প্রিয়জন সবারই প্রয়োজন’, ‘আঁখি মিলন’ চলচ্চিত্রের ‘আমার গরুর গাড়িতে’ এবং ‘জাদুর বাঁশী’ চলচ্চিত্রের ‘আকাশ বীনা চাঁদ’, ‘জীবন নৌকা’ সিনেমার ‘তুমিতো এখন আমারই কথা ভাবছো’ ‘মহেশখালীর বাঁকে’র ‘আমার প্রেমের তরী বইয়া চলে’, ‘মেঘ বৃষ্টি বাদল’ সিনেমার ‘ও বন্ধুরে প্রাণও বন্ধুরে’ গান পাঁচটি ভীষণ প্রিয়।