সরকারি অনুদান পাওয়া বেশ কয়েকটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাজ অর্থ সংকট ও অর্থ ছাড়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আটকে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্মাতাদের দাবি, নির্ধারিত সময় পার হলেও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ না পাওয়ায় একাধিক সিনেমার শুটিং বন্ধ হয়ে গেছে এবং নতুন পরিকল্পনাও স্থবির হয়ে পড়েছে। অনুদান পাওয়া নির্মাতারা জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঘোষিত অনুদানের প্রজ্ঞাপন জারির পর গত বছরের জুলাইয়ে অর্থ অনুমোদন দেওয়া হলেও সেপ্টেম্বরে প্রথম কিস্তির মাত্র ২০ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়। এরপর থেকে আর কোনো অর্থ ছাড় দেওয়া হয়নি। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অনুদান পাওয়া নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল গণমাধ্যমে বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম কিস্তির অর্থ পাওয়ার পর চিত্রনাট্য, শুটিং পরিকল্পনা ও শিল্পী-কলাকুশলীদের চুক্তি জমা দেওয়ার পরও দ্বিতীয় কিস্তির ৫০ শতাংশ অর্থ এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, গত ডিসেম্বরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ‘চলচ্চিত্র বাছাই ও তত্ত্বাবধান’ কমিটির কাছে নির্মাতারা শুটিং পরিকল্পনা উপস্থাপন করলে দ্রুত অর্থ ছাড়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে আশ্বাসের পরও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। নির্মাতাদের অভিযোগ, এ পরিস্থিতির কারণে একাধিক চলচ্চিত্রের শুটিং মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন শুটিং শুরু করাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে গল্প লেখক ও চিত্রনাট্যকারদের জন্য নির্ধারিত প্রণোদনা অর্থও এখনো দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে গোলাম সোহরাব দোদুল বলেন, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, কিন্তু অর্থ না পাওয়ায় নির্মাণ কাজ থমকে গেছে। তিনি বলেন, সরকার যদি কোনো কারণে অর্থ ছাড়ে দেরি করে, তাহলে নির্মাতাদের স্পষ্টভাবে জানানো উচিত ছিল। এদিকে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা।
গত বছরের অনুদান কমিটির একাধিক সদস্য জানান, ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার আসার পর চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো আগের সদস্যরাই থাকবেন নাকি নতুন সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে সেই সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি তথ্য মন্ত্রণালয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সদস্য জানান, ফেব্রুয়ারির পর দুটি মিটিংয়ের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। মিটিংয়ের আগের দিন নোটিস দিয়ে সেই মিটিং স্থগিত করা হয়। তারপর অনুদানসংক্রান্ত আর কোনো খবর নেই। তিনি আরো জানান, বিএনপিপন্থি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের কথা শোনা গেছে। আরো শোনা গেছে মন্ত্রণালয়ে কে বা কারা থাকবেন তা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে না। কমিটির সদস্যদের নাম গোপন থাকবে। কিন্তু বিএনপিপন্থি পর্যাপ্ত চলচ্চিত্রশিল্পী না পাওয়ায় গোপন কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। বিএনপিপন্থি দু-একজন চলচ্চিত্রকর্মী নিজেরা কমিটি দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেও বিশ্বস্ত ও যোগ্য মানুষ পাচ্ছে না। ফলে পাণ্ডুলিপি বাছাই, অনুদান কমিটিসহ কোনো কমিটিই আলোর মুখ দেখছে না। অনুদান নিয়ে জটিলতাও কাটছে না। সহসা এই জটিলতা কাটার সম্ভাবনা নেই বলে জানান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতেই নির্মাতারা দ্রুত সমাধান ও বকেয়া অর্থ ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন, যাতে আটকে থাকা চলচ্চিত্রগুলোর কাজ পুনরায় শুরু করা যায়।