পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দুই দিনের মাথায় প্রকাশ করা হয়েছে এর নান্দনিক ক্যারেক্টার পোস্টার। পোস্টারে দেখা গেল অভিনেতা খায়রুল বাশার ও মাসুমা রহমান নাবিলাকে। গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে সিনেমাটির টিজার। পর্যায়ক্রমে ট্রেলার, গান ও অন্যান্য কনটেন্ট প্রকাশ করা হবে। নির্মাতার ভাষ্য, জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা ‘বনলতা সেন’-এর ভাবনা ও রহস্যময় আবহ থেকেই নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্রটি। কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বরে, ‘কবিতা’ পত্রিকায়।
পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছিলেন বুদ্ধদেব বসু। পরে ১৯৪২ সালে ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয়। প্রায় শতবর্ষ পেরিয়েও কবিতাটির আবেদন এখনো সমান শক্তিশালী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কবিতার রহস্যময়তা, দর্শন ও আবেগ যেমন পাঠককে মোহাবিষ্ট করে রাখে, চলচ্চিত্রটিও তেমনি দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। চলচ্চিত্রটিতে ঐতিহাসিক চরিত্রের পাশাপাশি থাকছে কিছু কাল্পনিক চরিত্রও।
বাস্তবধর্মী ও রূপকধর্মী উপস্থাপনার সমন্বয়ে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। ফলে এটি দর্শকের জন্য নতুন ধরনের চলচ্চিত্র অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে বলে আশা করছেন নির্মাতারা। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ২০২১-২২ অর্থবছরের অনুদানে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্রটি। ইতোমধ্যে এটি চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে মুক্তির অনুমতি পেয়েছে। আগামী ঈদুল আজহায় ‘বনলতা সেন’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হবে। খায়রুল বাশার, নাবিলা ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রূপন্তী আকিদ, শরিফ সিরাজ ও সুমাইয়া খুশি।
মাসুদ হাসান উজ্জ্বল মনে করেন, দুই বাংলার কবি হিসেবে জীবনানন্দ দাশ সমাদৃত। তার মতে, উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ, এডগার অ্যালান পো কিংবা টিএস এলিয়ট থেকে জীবনানন্দ দাশ কোনো অংশে কম নন। এতদিনে গোটা বিশ্বের তাকে জানা উচিত ছিল। পরিচালক বলেন, আমি এ জীবনে প্রথম এমন বিস্ময়কর এক কবিকে ‘বনলতা সেন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ট্রিবিউট করার সুযোগ পেয়েছি।