হোম > ফিচার

যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ দিনের কারাবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীর স্মৃতিকথা

‘দাঁড়ানোর কোনো দেশ নেই’

মুহাম্মদ আল বাহলুল

মাহমুদ খলিল

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোর সশস্ত্র অভিযানকে অজুহাত করে শতাব্দীর নিকৃষ্টতম গণহত্যায় মেতে ওঠে তেল আবিব। নারী, শিশু, বৃদ্ধ—কাউকেই ছাড় দেয়নি আগ্রাসী বাহিনী। পুরো গাজাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় ইসরাইলি সেনারা।

ধ্বংসাত্মক এ গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইসরাইলকে মদত দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রেও আছড়ে পড়ে বিক্ষোভের ঢেউ। বিশেষ করে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নামেন।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে পরিচিত এক মুখ হয়ে উঠেছিলেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মাহমুদ খলিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের এই শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিক্ষোভে ভূমিকা রাখায় মাহমুদ খলিলকে ইসরাইলপন্থি রক্ষণশীল গোষ্ঠী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

সিরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নুর আবদুল্লাহকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন মাহমুদ। ইসরাইলপন্থি গোষ্ঠী তার অনুমতি বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের জন্য প্রচারণা শুরু করে।

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীদের দমনে পদক্ষেপ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে নেতৃস্থানীয়দের গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারে তৎপর হয় মার্কিন প্রশাসন।

নিউ ইয়র্কের ফ্ল্যাট থেকে গত বছরের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমসের বিষয়ে তদারককারী নিরাপত্তা বাহিনী আইসের সদস্যরা মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে। আইসের অধীন ১০৪ দিন বন্দি ছিলেন তিনি। ওই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাকে বহিষ্কারের চেষ্টা চালানো হয়। পরে ১১ জুন মার্কিন ফেডারেল জজ আদালত মাহমুদের আটককে অবৈধ বলে রায় দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০ জুন মুক্তি পান তিনি।

কারাগারে আটক থাকার স্মৃতি নিয়ে ‘নো ল্যান্ড টু স্ট্যান্ড অন’ (দাঁড়ানোর কোনো দেশ নেই) নামে বই লিখেছেন মাহমুদ খলিল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বইটি প্রকাশিত হয়। বইটিতে এই অধিকারকর্মী নিজের আটক থাকার স্মৃতির সঙ্গে সঙ্গে জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার আলোচনা করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে খান আলশিহ শরণার্থী শিবিরে ১৯৯৫ সালে জন্ম নেন মাহমুদ। স্বৈরশাসক আসাদ পরিবার শাসিত সিরিয়া ও কথিত ‘মুক্ত বিশ্বে’ বসবাসের অভিজ্ঞতার তুলনা উঠে এসেছে তার বইয়ে।

মাহমুদ লিখেছেন, ‘আসাদের সিরিয়ায় আইনি অধিকার বলে কিছুর অস্তিত্ব ছিল না। কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না, আইনজীবী ছিল না, ফোন দেওয়ার সুযোগ ছিল না। হঠাৎই আপনি উধাও হয়ে যাবেন। যদি সৌভাগ্যবান হন, কেউ হয়তো সন্ধান পাবেন আপনাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে।’

আরব বসন্তের জেরে ২০১১ সালে সিরিয়ায় বিক্ষোভ শুরু হলে লেবাননে আশ্রয় নেয় মাহমুদের পরিবার। সেখান থেকে ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।

মুক্ত বিশ্বে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জোরে ফিলিস্তিনিদের স্বাধিকারের পক্ষে আন্দোলনে নেমেছিলেন মাহমুদ। তিনি চিন্তা করেছিলেন, বৈধ বাসিন্দা হিসেবে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বিভাগ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের ম্যানহ্যাটানের ফ্ল্যাট থেকে তাকে আটক করে আইস সদস্যরা। কোনো ধরনের ওয়ারেন্ট ছাড়াই গর্ভবতী স্ত্রীর সামনে থেকে হাতকড়া পরিয়ে তাকে নম্বরবিহীন এক গাড়িতে তোলা হয়। কাউকে কোনো তথ্য জানানো ছাড়াই লুইজিয়ানার আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয় তাকে। দুদিন পর্যন্ত তাকে কোনো ফোন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতি আসাদ শাসিত সিরিয়ার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে তাকে।

স্ত্রী নুরের সঙ্গে পরে যখন ফোনালাপের সুযোগ পান, মাহমুদ জানতে পারেন তাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বইটির বড় অংশজুড়ে মাহমুদের মুক্তি ও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাখতে আইনজীবীদের চেষ্টার কথা উঠে এসেছে। নিজের প্রথম সন্তানের জন্মমুহূর্তে উপস্থিত থাকার জন্য আবেদন করেছিলেন মাহমুদ। কিন্তু সে সুযোগ তাকে দেওয়া হয়নি। ফলে স্ত্রী নুর একাকীই তাদের সন্তানের জন্ম দেন।

কারাগারে চেচনিয়ার এক বন্দির সঙ্গে পরিচিত হন মাহমুদ। তিনিও সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি। বন্দিত্বের কারণে ৯ মাসেও সন্তানকে কোলে নেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। তবে ছেলে দিন খলিলকে সঙ্গে নিয়ে আসা নুরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগে নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবেন মাহমুদ। লুইজিয়ানার আটক কেন্দ্রে পরিবারের সঙ্গে এক ঘণ্টা সাক্ষাতের সুযোগ পান তিনি।

বইয়ে সিরিয়ায় স্কুলে পড়ার সময় ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার পক্ষে এক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন মাহমুদ। ২০১১ সালের মে মাসে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইসরাইলের দখল করা গোলান মালভূমির সীমান্তে গিয়েছিলেন তিনি। ইসরাইলি বাহিনী বিশাল এলাকাজুড়ে মাইন পুঁতে রেখেছিল। সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন মাহমুদ। বাম পায়ে এখনো ওই মাইনের শার্পনেল বহন করছেন তিনি। চিকিৎসকরা তা অপসারণ করতে পারেননি। শরীরে ওই শার্পনেল নিয়েই দেশ-বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন মাহমুদ।

১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার সময় আরো অনেকের মতোই নিজের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন মাহমুদের দাদা। ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের উত্তরাঞ্চলীয় তাবারিয়ার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ফিরবেন—এ ভাবনা থেকেই নিজের বাড়ির কাছে এক পাহাড়ের গুহায় সব সম্পদ লুকিয়ে রাখেন তিনি। কিন্তু আর কখনোই বাড়ি ফিরতে পারেননি মাহমুদের দাদা।

একই ভাবে আরব বসন্তের জেরে অস্থিতিশীলতায় ২০১৫ সালে সিরিয়া ছাড়ে মাহমুদের পরিবার। সে সময় মাহমুদের বাবা শরণার্থী শিবিরে তাদের বাড়ির বাগানে মূল্যবান সম্পদ মাটিচাপা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদেরও আর সিরিয়ায় ফেরা হয়নি।

মাহমুদ বলেন, ‘আজ ১১ বছর পর নিউ ইয়র্কে সীমান্তের অপর পাড়ে বহিষ্কৃত হওয়ার মুখোমুখি হয়েছিলাম আমি। কোনো অপরাধের জন্য নয়; বরং আমার বক্তব্য ও পরিচয়ের কারণেই একটি সরকার তার সব শক্তি দিয়ে আমাকে বহিষ্কারের চেষ্টা করেছে।’

নিজের সঙ্গে দাদা ও বাবার পরিস্থিতিকে অভিন্ন হিসেবে উল্লেখ করেন মাহমুদ। আদালতের রায়ে গত বছরের জুনে মুক্তি পান তিনি। কিন্তু এক বছর পরও ট্রাম্প প্রশাসন তাকে বহিষ্কারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

শহীদ আনাস স্মরণে পাঠকমেলার পাঠচক্র

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পাঠকমেলার মতবিনিময় সভা

আড্ডা থেকে সামনে চলার ভাবনা

চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২৫০, আক্রান্ত ৮২ হাজার ৭৬১

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ১১১৪, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১২৪২

নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ওপেনএআইয়ের ৩ গবেষক বরখাস্ত

ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৭৮

জীবনের লক্ষ্য ও বাস্তবতা নিয়ে তরুণীদের ভাবনা

অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইডেনকন্যাদের অংশগ্রহণ

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি: সচেতনতায় দূর হবে উদ্বেগ