কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (কুকসু) গঠনের প্রক্রিয়া এখন আটকে আছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) টেবিলে। সিন্ডিকেটে পাস হয়ে গঠনতন্ত্রটি প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ইউজিসিতে পৌঁছালেও অনুমোদনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ইউজিসির এমন কালক্ষেপণে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিন্ডিকেটে অনুমোদনের পর গত ১৭ নভেম্বর ডাকযোগে গঠনতন্ত্রটি ইউজিসিতে পাঠানো হয়। ইউজিসি কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করে ২০ নভেম্বর। এরপর এটি ইউজিসির লিগ্যাল টিমের কাছে পাঠানো হয়। ইউজিসি জানায়, এ ধরনের গঠনতন্ত্র নিষ্পত্তি ও অনুমোদন পেতে সাধারণত ২১ দিন সময় লাগতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি গত ২৪ নভেম্বর গঠনতন্ত্রটি তাদের লিগ্যাল টিমে পাঠিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।
লিগ্যাল টিমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই সপ্তাহ পেরোলেও লিগ্যাল টিমের কমিটি এখন পর্যন্ত গঠন করা হয়নি।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন বলেন, গঠনতন্ত্র ইউজিসির অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এখনো অনুমোদনের কোনো খোঁজখবর নেই। আর কয়েকদিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন বন্ধ ঘোষণা করা হবে। এখনো যদি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়া যায় তাহলে প্রশাসন কবে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবে?
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন জানান, কুকসুর গঠনতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অনুমোদন পাওয়ার পর ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ইউজিসির কাছ থেকে কোনো চিঠি পাঠানো হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা জানান, তারা ইতোমধ্যে গঠনতন্ত্রটি লিগ্যাল টিমের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তবে ইউজিসির লিগ্যাল টিমের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লিগ্যাল টিম এখনো কমিটিই গঠন করেনি। ইউজিসির প্রশাসন বিভাগের সহকারী সচিব মোহাম্মদ শোয়াইব (লিগ্যাল) বলেন, লিগ্যাল টিমের কমিটি এখনো গঠন পর্যায়ে আছে। ড্রাফট চেক করে গেজেট জারি করার জন্য কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
কতদিন সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কিছু রেস্ট্রিকশন (সীমাবদ্ধতা) রয়েছে। আপনারা পাবলিক রিলেশনস ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ইউজিসি জানিয়েছে তাদের তিন সপ্তাহের মতো সময় লাগবে।
যদি এ সময়ের মধ্যে গঠনতন্ত্র অনুমোদন পায় তাহলে আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে না হলেও দ্বিতীয় সপ্তাহে কুকসু নির্বাচন দেওয়া সম্ভব।