হোম > ফিচার > এক্কাদোক্কা

নীলু ও জাদুর সাইকেল

মো. রেজাউল করিম

নীলু দশ বছরের এক শান্ত ছেলে। তার জগৎটা ছিল ঘর, বাগান আর পুরোনো একটি লাল রঙের সাইকেল। এক বিকালে নীলু বাড়ির বাগানে যখন সাইকেল চালাচ্ছিল, তখন সে ঝোপের আড়ালে এক অদ্ভুত আলো দেখতে পেল। কৌতূহল সামলাতে না পেরে সে এগিয়ে গেল। সেখানে একটি ছোট্ট সোনালি কাঠবিড়ালি আটকা পড়ে আছে এক জালের ভেতর। নীলু দ্রুত জালটি খুলে তাকে মুক্ত করল। মুক্ত হয়েই কাঠবিড়ালিটি তার পেছনের দুপায়ে দাঁড়িয়ে সালাম দিল! সে পরিষ্কার গলায় বলল, ধন্যবাদ নীলু! আমি মেঘরাজ্যের রাজদূত—চুটকি। তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছ। চলো, তোমাকে আমাদের মেঘের রাজ্যে ঘুরিয়ে আনি।

নীলু বলল, তুমি কীভাবে আমাকে নিয়ে যাবে? তোমার কাছে তো বিমান নেই!

চুটকি হেসে তার রুপালি লেজ দিয়ে নীলুর সাইকেলের চাকা দুটোতে টোকা দিল। সঙ্গে সঙ্গে ঘটে গেল মিরাকল! সাইকেলের দুপাশ থেকে নীল রঙের দুটো ডানা বেরিয়ে এলো।

নীলু খুব আশ্চর্য হয়ে গেল। সে প্যাডেলে চাপ দিতেই সাইকেলটি মাটি ছেড়ে উপরে উঠতে লাগল। নিচে তার বাড়ি আর গাছপালা ছোট হতে হতে বিন্দুর মতো হয়ে গেল। একসময় দেখল সে সাদা মেঘের মধ্য দিয়ে ভেসে যাচ্ছে।

মেঘের দেশে পৌঁছে নীলু দেখল সেখানকার ঘরবাড়িগুলো তৈরি হয়েছে জমাট বাঁধা কুয়াশা আর আইসক্রিম দিয়ে। কোনো কোনো পাহাড় থেকে ঝরনা হয়ে নেমে আসছে নানা রঙের আইসক্রিম।

চুটকি বলল, নীলু, আমাদের রাজ্যের প্রধান জাদুকর ‘রঙের কারিগর’ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার জাদুর তুলি হারিয়ে গেছে, তাই এখন নতুন রঙ তৈরি হচ্ছে না। মেঘের রাজ্য ক্রমেই সাদা-কালো হয়ে যাচ্ছে।

নীলু আর চুটকি চলল ‘রহস্যগুহা’র দিকে। সেখানেই নাকি হারিয়েছে জাদুর তুলি। পথে তাদের দেখা হলো এক বড় নীল তিমির সঙ্গে, সে রহস্যগুহার পাহারাদার। তিমিটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, নীলু, জাদুর তুলিটি রাজা তার প্রাসাদে নিয়ে গেছেন। সেটি উদ্ধার করতে হলে তোমাকে দুটো পরীক্ষা দিতে হবে।

নীলুকে একটি বিশাল গোলকধাঁধা পার হতে হলো। পথে সে দেখল একটি ছোট পাখির ডানা ভেঙে পড়ে আছে। নীলু তার রুমাল দিয়ে অতি যত্নে পাখির ডানাটি বেঁধে দিল। এটা ছিল তার সহযোগিতার পরীক্ষা। নীলু এবারে সাহসের পরীক্ষায় এগিয়ে গেল। বরফের প্রাসাদের সামনে এক দানবীয় হাওয়া নীলুকে উড়িয়ে নিতে চাইল। নীলু তার সাইকেলের হ্যান্ডেল শক্ত করে ধরে এগিয়ে গেল।

বরফের প্রাসাদে পৌঁছে নীলু দেখল ঝড়ের রাজা মোটেও অসুস্থ নন, তিনি আসলে একাকিত্বে ভুগছেন। নীলু তার পকেট থেকে এক ব্যাগ মার্বেল আর নিজের আঁকা ছবি বের করে রাজাকে উপহার দিল। রাজা খুশি হয়ে বললেন, আমি একজন ভালো ছেলে দেখতে চেয়েছিলাম। তুমি সেই ভালো ছেলে। এই নাও জাদুর তুলি।

নীলু তুলিটি নিয়ে দ্রুত ফিরে এলো রঙের কারগিরের কাছে। জাদুর তুলি ছোঁয়াতেই রঙের কারিগর সুস্থ হয়ে উঠলেন। তিনি তুলিটি বাতাসে ঘোরাতেই আকাশ হলো টকটকে নীল, বন হলো সবুজ আর নীলুর সাইকেলটা হলো সোনালি।

পুরো মেঘের রাজ্যে উৎসব শুরু হলো। মেঘের শিশুরা নীলুকে একটি বড় বাটি ভর্তি ‘মেঘ-মিষ্টি’ উপহার দিল। রঙের কারিগর নীলুর কপালে হাত রেখে বললেন, মনে রেখো নীলু, যার মনে দয়া আর সাহস আছে, তার পৃথিবী সবসময় রঙিন থাকে।

ঠিক তখনই নীলুর সাহসের পাশাপাশি তার মা-বাবার কথা মনে পড়ল। সে তখন ঘরে ফেরার তাগিদ অনুভব করল।

নীলু তার সাইকেলে উঠে প্যাডেলে চাপ দিল। একসময় সে তার নিজের বাগানে এসে থামল। সাইকেলের ডানাগুলো আবার গায়েব হয়ে গেছে। নীলু পকেটে হাত দিয়ে দেখল, মেঘেদের দেওয়া জাদুর কাচের মার্বেলটি তখনো আছে, যা অন্ধকারেও তার ঘরকে আলোকিত করে রাখে।

নতুন দ্বীপ বানাচ্ছে সিঙ্গাপুর, ভবিষ্যৎ শিল্পায়নে শক্তিশালী পরিকল্পনা

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক, চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

মোংলায় মোতাওয়াল্লির বিরুদ্ধে মসজিদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

হাসিনাসহ পলাতক সবাইকে ফেরত চায় ঢাকা

রাজধানীর ৫৪ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু জামায়াতের

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান সিঙ্গাপুরের

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক, সিঙ্গাপুরের কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইরানের শীর্ষ পাঁচ কমান্ডারের অবস্থান জানালে এক কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মৃত্যু মামলায় আদালতে জমা ম্যারাডোনার বাবার মেডিকেল রিপোর্ট!

জাপানে জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে সমুদ্রসৈকত, কমছে পর্যটক