হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে ঝুঁকি বেশি

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। ডেঙ্গুর প্রথম সংক্রমণের চেয়ে দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হওয়া অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই সময়ে ডেঙ্গুর চার প্রকার ধরন (সেরোটাইপ) এবং দ্বিতীয়বার সংক্রমণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সেরোটাইপ কী এবং ঝুঁকি কোথায়

ডেঙ্গু ভাইরাসের মূলত চারটি ভিন্ন ধরন বা সেরোটাইপ রয়েছে—ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ এবং ডেন-৪। কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুর একটি নির্দিষ্ট ধরনে আক্রান্ত হলে তার শরীরে কেবল সেই ধরনের বিরুদ্ধেই আজীবন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। অর্থাৎ, ওই একই ধরন দিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হবেন না। তবে বাকি তিনটি ধরনের যেকোনো একটি দিয়ে তিনি আবারও ডেঙ্গুতে সংক্রমিত হতে পারেন। চার বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর প্রধান সেরোটাইপ ছিল ডেন-২, তবে চলতি বছর ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় ডেন-৩ সেরোটাইপের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

দ্বিতীয়বার সংক্রমণ কেন মারাত্মক

প্রথমবার ডেঙ্গু হলে সাধারণত লক্ষণ মৃদু থাকে এবং সঠিক বিশ্রামে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে ভিন্ন সেরোটাইপ দিয়ে যখন কেউ দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হন, তখন শরীরে অ্যান্টিবডি-ডিপেনডেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট প্রক্রিয়ার কারণে ভাইরাসটি আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর ফলে রক্তক্ষরণজনিত ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়। রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা দ্রুত কমে যায় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। এতে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি প্রথমবারের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়।

দ্বিতীয়বার আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে তীব্র জ্বরের পাশাপাশি তীব্র শরীরব্যথা, তীব্র পেটব্যথা, অনবরত বমি হওয়া, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট এবং চরম ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

প্রতিরোধে কী করণীয়

জ্বর আসার প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শে এনএস১ ও রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জ্বর ও শরীরব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ, যেমন অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাক সেবন করা যাবে না। এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ও পুষ্টিকর তরল পান করতে হবে।

বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টব, টায়ার বা ডাবের খোসায় যেন পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গুর দ্বিতীয় সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই একমাত্র উপায়।

লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

এসএমসি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, দারুস সালাম, মিরপুর

ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

এএমআই স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদ বিতরণ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইবিতে মোবারক র‍্যালি

৬ মাসের সব ঘটনার অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে

ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, বিপদে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা

চট্টগ্রামে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে দেশের বৃহত্তম জশনে জুলুস

‘এই বোলিং দল যেকোনো কন্ডিশনেই পারফর্ম করবে’

৩০ বছরেও হয়নি সেতু, জীর্ণ বাঁশের সাঁকোই ৫ গ্রামের ভরসা

উচ্ছেদের আশঙ্কায় ইছামতি পাড়ের মানুষ

কোমর থেকে পায়ের ব্যথা