হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

ডিম্বাশয় ক্যানসারের লক্ষণ ও ঝুঁকি

ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ

নারীর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন অঙ্গগুলোর একটি ডিম্বাশয়। জরায়ুর দুপাশে থাকা এই অঙ্গ দুটি ডিম্বাণু তৈরি ও সংরক্ষণের পাশাপাশি নারীদেহের গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই ডিম্বাশয়ের কোষ যখন স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে এবং ক্যানসারে রূপ নেয়, তখন তাকে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার বলা হয়।

নারীদের ক্যানসারের মধ্যে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটির লক্ষণ অনেক সময় খুবই সাধারণ মনে হয়। পেট ফাঁপা, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, তলপেটে অস্বস্তি কিংবা অল্প খাবারে পেট ভরে যাওয়ার মতো সমস্যাকে অনেকেই স্বাভাবিক বা সাময়িক পেটের সমস্যা মনে করেন। ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে। সেপ্টেম্বর মাসে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীদের সম্ভাব্য লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সচেতনতার উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়; বরং শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করা।

কেন হয়

ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, বংশগত কিছু পরিবর্তন এবং কয়েকটি শারীরিক অবস্থার সঙ্গে এ রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর নারীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। তবে কম বয়সেও ডিম্বাশয়ের কিছু ধরনের ক্যানসার দেখা দিতে পারে। মা, বোন বা মেয়ের মতো নিকট আত্মীয়ের ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। পরিবারের একাধিক সদস্যের স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলেও চিকিৎসককে তা জানানো উচিত। বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২ নামের কিছু জিনের বংশগত পরিবর্তন এবং লিঞ্চ সিনড্রোমের মতো কিছু বংশগত অবস্থার সঙ্গে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। এন্ডোমেট্রিওসিস রোগের সঙ্গে ডিম্বাশয়ের কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। শরীরের অতিরিক্ত ওজন কিছু ধরনের ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে কোনো ঝুঁকির কারণ থাকলেই ক্যানসার হবে, এমন নয়। আবার কোনো পরিচিত ঝুঁকি না থাকলেও এ রোগ হতে পারে।

যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না

ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং সাধারণ পেটের অসুখের সঙ্গে মিল থাকে। তাই নিচের পরিবর্তনগুলো দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হলে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন—

* পেট বারবার ফাঁপা বা ফুলে থাকা

* তলপেট বা শ্রোণিতে ব্যথা কিংবা চাপ

* অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি

* ক্ষুধার পরিবর্তন

* বারবার বদহজম

* কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন

* ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ

* পেটের আকার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া

* অকারণে দুর্বলতা বা ক্লান্তি

* ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন

* মাসিকের স্বাভাবিক ধারায় পরিবর্তন

* অস্বাভাবিক যোনিপথে রক্তপাত

* ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর রক্তপাত

এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে—এমন নয়। অন্যান্য অনেক রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে নতুন কোনো উপসর্গ বারবার হলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রকারভেদ

ডিম্বাশয়ের বিভিন্ন ধরনের কোষ থেকে ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে। প্রধানত তিনটি শ্রেণি উল্লেখযোগ্য।

* ডিম্বাশয়ের বাইরের আবরণী কোষ থেকে এ ধরনের ক্যানসার হয় এবং এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

* ডিম্বাণু তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত কোষ থেকে এ ধরনের ক্যানসার সৃষ্টি হয়। এটি তুলনামূলক বিরল হলেও অল্পবয়সি নারীদের মধ্যেও দেখা দিতে পারে।

* ডিম্বাশয়ের ভেতরের সহায়ক ও হরমোন উৎপাদনকারী টিস্যু থেকে এ ধরনের ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে। ক্যানসারের প্রকৃত ধরন নির্ধারণের জন্য টিস্যু পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসার পদ্ধতিও ভিন্ন হতে পারে।

কী কী জটিলতা হতে পারে

সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার আশপাশের টিস্যু এবং পেটের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অগ্রসর অবস্থায় পেটে তরল জমে পেট ফুলে যেতে পারে। ক্ষুধা কমে যাওয়া, অল্প খাবারে পেট ভরে যাওয়া, দুর্বলতা ও ওজন কমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্যানসার আশপাশের অঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে অন্ত্র ও মূত্রনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। রোগ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা আরো জটিল হয়ে ওঠে।

রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি

ডিম্বাশয়ের ক্যানসার শনাক্ত করার জন্য একটি মাত্র পরীক্ষা যথেষ্ট নয়। রোগীর বয়স, লক্ষণ, পারিবারিক ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

শ্রোণি পরীক্ষা : জরায়ু, ডিম্বাশয় ও আশপাশের অঙ্গের অস্বাভাবিকতা মূল্যায়ন করা হয়।

আলট্রাসনোগ্রাম : শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে ডিম্বাশয়ের আকার, গঠন, সিস্ট বা অস্বাভাবিক অংশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

সিএ-১২৫ রক্ত পরীক্ষা : কিছু ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে এই উপাদানের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে অন্য কিছু রোগেও এটি বাড়তে পারে। তাই শুধু এই পরীক্ষার ফল দিয়ে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না।

চিত্র পরীক্ষা : প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটারনির্ভর চিত্র পরীক্ষা বা চৌম্বকীয় অনুরণন পদ্ধতির সাহায্যে রোগের অবস্থান ও বিস্তার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।

টিস্যু পরীক্ষা : প্রয়োজন অনুযায়ী টিস্যু সংগ্রহ করে অণুবীক্ষণযন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করা হয়। ক্যানসারের প্রকৃতি নিশ্চিত করতে এ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা

চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন, বিস্তার, রোগীর বয়স এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর। অস্ত্রোপচার, ক্যানসারবিরোধী ওষুধ, লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে।

কোন রোগীর জন্য কোন চিকিৎসা প্রয়োজন, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল ও রোগের পর্যায় বিবেচনা করে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ নির্ধারণ করেন। তাই ক্যানসারের সন্দেহ হলে চিকিৎসা বিলম্ব না করে উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি

ডেঙ্গু আক্রান্তদের করণীয়

গরম চা-কফি খেলে কী হয়

পুদিনা কীভাবে হজমে সহায়তা করে?

ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১৮৭২ আক্রান্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫

হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু

বিএমইউতে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, প্রস্তুত আরো চারজন

ডেঙ্গুর ভুল ব্যবস্থাপনা রুখতে ১৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ

কিডনি প্রতিস্থাপন সহজলভ্য করতে পেয়ার্ড ডোনার ট্রান্সপ্ল্যান্ট চালুর ওপর গুরুত্ব

সত্যি কি শিয়ালের মাংস, তক্ষক, জোঁকের তেল রোগ সারায়

ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩