পিত্তথলির অপারেশন বর্তমানে স্বস্তিদায়ক বলা যায়। আগে যেটি ওপেন সার্জারির মাধ্যমে অনেক বড় করে কেটে করা হতো, সেটি এখন ল্যাপারোস্কোপিক পিত্তথলি সার্জারিতে ছোট করে কেটে অপারেশন করা যায়। এ বিষয়ে আজ আমরা হ্যালো ডাক্তার বিভাগে কথা বলব ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মতিয়ার রহমানের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এন আই মানিক
প্রশ্ন : আপনার টেবিলে লেখা আছে—‘৫০০ টাকা ভিজিট। কষ্ট হলে না দিলেও চলবে।’ এ ক্ষেত্রে কি আপনাকে রোগীরা ভিজিট দেয়?
উত্তর : আমার আব্বা যখন জীবিত ছিলেন তখন বলেছিলেন, ‘বাবা, তুমি যে এটা লিখেছ, তোমাকে কি কোনো রোগী টাকা দেয়?’ আমি তখন বাবাকে বলেছি, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষেরা খুবই ভালো, তারা সবাই আমাকে ভিজিট দিয়ে যায়। দু-একজন এমনও বলে, ‘না, ৫০০ টাকা নয়, আপনাকে আমি আরো বেশি দেব।’
প্রশ্ন : আপনি কোন ধরনের অপারেশন সবচেয়ে বেশি করেন?
উত্তর : ইংল্যান্ড থেকে এফআরসিএস ডিগ্রি করে ১৯৮৬ সালে আমি ঢাকায় আসি। এসে জয়েন করি ঢাকা ন্যাশনাল হসপিটালে। ওখানে আমি জেনারেল সার্জারি—মানে হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট সার্জন হিসেবে কাজ করি। তখন সব ধরনের অপারেশন করতাম। ১৯৯৪ সালে প্রথম ল্যাপারোস্কোপিক পিত্তথলি অপারেশন শুরু করি। যখন ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশন শুরু হলো, তখন আমরা দু-তিনজন মিলেই প্রথমে শুরু করি। পিত্তথলির পাথর অপসারণের জন্য বর্তমানে আমি সবচেয়ে বেশি করি এই ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশন। এই সমস্যায় ভুক্তভোগী রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। সারা দেশ থেকে রোগীরা আসে অপারেশন করাতে।
প্রশ্ন : পিত্তথলি অপারেশনের জন্য ল্যাপারোস্কোপিক ও ওপেন সার্জারির মধ্যে কোনটি বেশি নিরাপদ এবং কেন?
উত্তর : অবশ্যই ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি। আগে তো আমরা সব ওপেন করতাম—পেট কেটে হাত ঢোকাতে হতো, বড় করে কাটতে হতো। এখন আমরা ছোট্ট করে কেটে ওই একই পিত্তপাথরের অপারেশন করি। পিত্তপাথরের অপারেশন হচ্ছে পিত্তথলিটাকে কেটে বের করে নিয়ে আসতে হয়। তাতে কাটা হয় খুব ছোট, চারটি ছিদ্র করতে হয়। একটা ছিদ্র দিয়েও করা যায়, চারটি ছিদ্রেই ভালো। তাতে রোগীদের অনেক সুবিধা। রোগীরা যেদিন আসে, পরের দিন বাসায় চলে যায়। বাসায় গিয়ে কাজকর্ম করতে পারে। ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির সুবিধা হচ্ছে—মানুষের কষ্ট কম হয় এবং মানুষ খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে পারে।
প্রশ্ন : পিত্তথলি অপারেশনের পর কি ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে? সেগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
উত্তর : জটিলতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে পিত্তনালি বা বাইল ডাক্ট (Bile duct) কেটে যেতে পারে—পার্শিয়ালি বা পুরোটাই। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ওখানে যে ক্ষুদ্রান্ত্র থাকে, পাকস্থলী থাকে, সেখানেও ইনজুরি হতে পারে বা ব্লিডিং হতে পারে। ব্লিডিং হতে পারে যেকোনো রক্তের শিরা কেটে গিয়ে। এগুলোই বেশি কমপ্লিকেশন হয়।
প্রশ্ন : অপারেশনের পর খাবার-দাবার এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফেরার ক্ষেত্রে কী কী সতর্কতা মেনে চলা উচিত?
উত্তর : বিশেষ করে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির পরের দিনই আমি রোগীকে কাজে ফেরার কথা বলি। স্বাভাবিক সবকিছু খেতেও বলি। আর তখন রোগীরা হেঁটে-হেঁটেই বাড়ি চলে যায়। তাই অপারেশনের এক দিন পর থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে সমস্যা হয় না।
প্রশ্ন : পিত্তথলির অপারেশন করতে টাকা কেমন খরচ হয়?
উত্তর : একজন চিকিৎসক কত টাকা নেবেন, এটা তো সরকারিভাবে নির্ধারণ করা নেই। তিনি ইচ্ছা করলে বেশিও নিতে পারেন, আবার কমও নিতে পারেন। আমরা অপারেশন চার্জও খুব কম নিই। আমাদের কাছে যারা অতটা সচ্ছল নন, তেমন রোগীরাও আসেন; আবার সচ্ছল রোগীরাও আসেন। সেজন্য আমাদের হসপিটালে তো জেনারেল বেড আছে, ছোট কেবিন আছে, বড় কেবিন আছে। তাই খরচটা আমরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছি। যারা জেনারেল বেড নেয়, ওয়ার্ড নেয়, তাদের একটু কষ্ট হয় খরচ চালাতে। আমরা তাদের খরচ অনেক কম করেছি। ওষুধপত্রসহ সব মিলিয়ে খরচ হয় ৩৯ হাজার টাকার মতো । যারা কেবিন নেন, তাদের খরচ একটু বেশি পড়ে; ৪০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। যারা ভিআইপি কেবিন নেন, তাদের কাছ থেকে আমরা চার্জ নিই ৮০ হাজার টাকা।
এসআর