হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

হামের ইনফেকশনে নিউমোনিয়া হতে পারে

এন আই মানিক

বর্ষাকালে ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়তে দেখা যায়। এছাড়া বায়ুদূষণ, দীর্ঘদিনের কাশি ইত্যাদি বিষয়ে আজ আমরা হ্যালো ডাক্তার বিভাগে কথা বলব বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এন আই মানিক

প্রশ্ন : হামে আক্রান্ত শিশুমৃত্যুর ঘটনায় নিউমোনিয়াকে একটি বড় জটিলতা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ার সম্পর্ক কী এবং এটি কেন এতটা প্রাণঘাতী হয়?

উত্তর : হাম হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত শিশুদের হয়ে থাকে। অতীতে দেখা গেছে, ৯ মাস থেকে ৫ বা ৬ বছর বয়সিদের মধ্যে বেশি হয়। হাম হলে শরীরে জ্বর হয়, সর্দি হবে এবং চোখ লাল হয়ে যায়। তিন থেকে চার দিন পরে শরীরে একধরনের র‍্যাশ হয়, যেটিকে ফুসকুড়ি বলা হয়। এর সঙ্গে নিউমোনিয়ার সম্পর্ক হলো দ্বিতীয় ধাপে। যাদের হাম হয়, তাদের সেকেন্ডারি ইনফেকশনের মাধ্যমে নিউমোনিয়া হতে পারে। এছাড়া ভাইরাসজনিত রোগে এক ধরনের ফুসফুসের প্রদাহ হয়, যেটিকে আমরা এআরডিএস (ARDS) লাইক সিন্ড্রোম বলি। যখন এআরডিএস লাইক সিন্ড্রোম হয় অথবা নিউমোনিয়া খুব বেশি হয়ে যায়, তখন বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হয়। বাচ্চার অক্সিজেন স্যাচুরেশন বা অক্সিজেন নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়, তখন বাচ্চা আস্তে আস্তে খারাপ হয়ে যায়।

প্রশ্ন : বায়ুদূষণ ফুসফুসের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে? এ থেকে বাঁচার উপায় কী?

উত্তর : বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন : কাশি হবে, শ্বাসকষ্ট হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদের জন্য সিওপিডি (COPD) অথবা এমফাইসিমা হতে পারে। এর কারণে বয়স্কজনিত দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি হয়; শ্বাসকষ্ট হলে রোগী হাঁটতে হাঁপিয়ে যান। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। এজন্য আমাদের উচিত বায়ুদূষণ রোধ করা। যেসব কারণে বায়ুদূষণ হয়, সেগুলো থেকে আমাদের সবাইকে বিরত এবং সচেতন থাকতে হবে।

প্রশ্ন : দীর্ঘদিনের কাশি হলে কোন লক্ষণগুলো গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

উত্তর : প্রথমত, তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে রোগীর যক্ষ্মা হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিনের কাশি হলে তার ব্রংকাইটিস, কাশিজনিত বা শ্বাসকষ্টের রোগীরও বিভিন্ন ধরনের সময় কাশি হয়। আমরা যেটিকে বলি ‘কাফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা’, যদি এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে সেটি হাঁপানি রোগী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

প্রশ্ন : বর্ষাকালে ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শ্বাসকষ্টজনিত রোগ কেন বেড়ে যায়?

উত্তর : ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ারও পরিবর্তন এবং বায়ুদূষণও হয়। বিশেষ করে, শীতকালে যখন বৃষ্টি না হয়, তখন ধুলাবালি বেশি থাকে। সেখানে পরাগরেণু থাকে এবং সেটিও শ্বাসকষ্টের একটা অন্যতম কারণ। এ ছাড়া বর্ষাকালে বৃষ্টি, ঠান্ডা বাতাস ও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। এসব রোগে আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন : এ সময়টায় কোন ধরনের রোগী বেশি পাচ্ছেন?

উত্তর : বর্তমানে আমরা সবচেয়ে বেশি পাচ্ছি ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী, যাদের মধ্যে সর্দি-কাশির উপসর্গও রয়েছে। এ ছাড়া যাদের অ্যাজমা ও সিওপিডি রয়েছে, বর্ষাকালে বৃষ্টি এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং রোগের উপসর্গ তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি বর্তমানে নিউমোনিয়ার রোগীও বাড়ছে। সাধারণ জ্বরের সঙ্গে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও এখন তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

হাড় ক্ষয় রোধে কী করবেন, কী করবেন না

স্বাস্থ্য খাতে কারো গাফিলতি সহ্য করা হবে না: মন্ত্রী

'আমি স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী, হাসপাতালের প্রতিমন্ত্রী নই'

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

দেশে মৃত্যুর প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ, নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়নের তাগিদ

তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮

শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সম্ভাবনাময় ১০ ক্ষেত্র

ধূমপান না করেও ফুসফুসে ক্যানসার, ঝুঁকিতে যারা