হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

বজ্রপাতে করণীয়

ডা. মো. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ

ছবি: সংগৃহীত

আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা, বিদ্যুতের ঝলকানি আর মেঘের গম্ভীর গর্জন—বর্ষার এই চেনা ছবি বাঙালির কাছে যতটা রোম্যান্টিক, ততটাই ভয়াল হতে পারে, যদি আমরা সচেতন না থাকি। বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক ঘটনাটি একদিকে যেমন আমাদের প্রকৃতির এক ভয়ংকর রূপ দেখায়, তেমনি অন্যদিকে কেড়ে নিতে পারে অমূল্য জীবন। তাই এই বজ্রপাতের মৌসুমে আমাদের প্রয়োজন আরো বেশি সতর্কতা।

বজ্রপাত কী এবং কেন হয়?

বজ্রপাত হলো মেঘে মেঘে ঘর্ষণ, অথবা মেঘের সঙ্গে ভূপৃষ্ঠের ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন এক বিশাল বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ। এটি সেকেন্ডের ভগ্নাংশে ঘটে গেলেও এর শক্তি এতটাই বেশি যে তা মুহূর্তে সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে। সাধারণত গ্রীষ্মের শেষে ও বর্ষার শুরুতে বজ্রপাত বেশি হয়, কারণ এ সময়ে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে এবং মেঘ দ্রুত ঘনীভূত হয়।

বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায়

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে কিছু সহজ এবং কার্যকর উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন—

খোলা জায়গা এড়িয়ে চলুন

বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু জায়গা, বা গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিদ্যুৎ-সুপরিবাহী হওয়ায় গাছ বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে।

পাকা বাড়িতে আশ্রয় নিন

বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত কোনো পাকা দালানের ভেতরে আশ্রয় নিন। গাড়ির ভেতরেও আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। কারণ ধাতব কাঠামো বিদ্যুৎকে চারপাশে ছড়িয়ে দেয় এবং ভেতরের মানুষকে রক্ষা করে।

বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র থেকে দূরে থাকুন

বজ্রপাতের সময় টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন চার্জার ইত্যাদি বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে এগুলোর প্লাগ খুলে রাখুন।

জলাশয় থেকে দূরে থাকুন

নদী, পুকুর বা অন্য কোনো জলাশয়ের কাছাকাছি থাকবেন না। জল বিদ্যুতের ভালো পরিবাহী।

ধাতব বস্তু স্পর্শ করবেন না

লোহার রড, বিদ্যুতের খুঁটি বা যেকোনো ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন।

বজ্রনিরোধক ব্যবহার করুন

বড় বড় দালান ও উঁচু কাঠামোর জন্য বজ্রনিরোধক স্থাপন করা আবশ্যক। এটি বজ্রপাতের বিদ্যুৎকে নিরাপদে মাটিতে পৌঁছে দেয়।

দলবদ্ধভাবে থাকলে ছড়িয়ে পড়ুন

যদি খোলা জায়গায় থাকেন এবং আশেপাশে কোনো আশ্রয় না থাকে, তবে দলবদ্ধভাবে না থেকে একে অপরের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বসুন।

আকাশে মেঘ দেখলেই সতর্ক হন

আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখলে বা বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা গেলেই দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যান।

বজ্রপাত পরবর্তী করণীয়

যদি আপনার আশেপাশে কেউ বজ্রপাতে আহত হন, তবে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিন। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না, তাই নির্ভয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে যান। প্রয়োজনে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করুন। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের হাতে নেই। কিন্তু সচেতনতা এবং কিছু সাবধানতা অবলম্বন করে আমরা এর ভয়াবহতা থেকে নিজেদের ও প্রিয়জনদের রক্ষা করতে পারি। মনে রাখবেন, জীবন অমূল্য এবং প্রতিটি জীবনই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন)

বারডেম জেনারেল হাসপাতাল

ashrafbirdem2022@gmail.com

১১ দলীয় জোটের লংমার্চ সফল করতে সীতাকুণ্ডে জামায়াতের স্বাগত মিছিল

চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের উড়ন্ত সূচনা

রামগঞ্জে মসজিদ ছুঁয়ে মাদক ছাড়ার অঙ্গীকার

মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের আইনের ফাঁকে আটকে রাখা যায় না

দৈনিক সুনামগঞ্জের সময়ের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ঘাসের সংকটে দুধ উৎপাদন অর্ধেক, বিপাকে খামারিরা

চট্টগ্রামে এবার কার দিকে সন্ত্রাসী রায়হানের বন্দুক

জ্বালানি সংকট মেটাতে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার

কালিহাতীতে ঠেলাগাড়ি উল্টে চালক নিহত

‘মেহফিল-এ-মুহাম্মাদ’ সিরাতমেলা