হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

মানসিক অসুস্থতা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

দ্য গার্ডিয়ান

গুরুতর মানসিক অসুস্থতা এবং সহিংসতার ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য খাতকে আরো খোলামেলা ও ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা করতে হবে বলে মত দিয়েছেন পরামর্শক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন এফ. মরগান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি বলেন, মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ সহিংস নন এবং তাদের কলঙ্কিত করা উচিত নয়। তবে কিছু গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে—এই বাস্তবতাও অস্বীকার করা ঠিক নয়।

মরগানের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে আলোচনা করতে অনিচ্ছুক ছিল। এর একটি কারণ ছিল—মানসিক রোগ ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে কথা বললে পুরো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ও কলঙ্ক আরও বাড়তে পারে। তবে ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়াও শেষ পর্যন্ত রোগী, তাদের পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বিশেষভাবে দুটি বিষয়কে একই সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। প্রথমত, মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত নন। তাই কোনো ব্যক্তির মানসিক রোগের পরিচয়কে তার সম্ভাব্য সহিংসতার সমার্থক হিসেবে দেখানো উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, কিছু গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাস্তবেই বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে মাদক বা নেশাজাতীয় পদার্থের অপব্যবহার, চিকিৎসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কিংবা অতীতে সহিংস আচরণের ইতিহাস যুক্ত থাকে।

মরগানের যুক্তি হলো, দ্বিতীয় সত্যটি স্বীকার করা প্রথম সত্যটির বিরোধী নয়। অর্থাৎ মানসিক রোগীদের বিরুদ্ধে সামাজিক কলঙ্কের বিরোধিতা করা এবং একই সঙ্গে নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা—দুটি কাজই একসঙ্গে করা সম্ভব। বরং একটি দায়িত্বশীল মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এই ভারসাম্য অপরিহার্য।

তিনি মনে করেন, ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা না করে শুধু কলঙ্কের আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিলে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে রোগীর খোঁজ নেওয়া এবং বিচক্ষণ ঝুঁকি মূল্যায়ন—এসব ব্যবস্থা রোগী নিজে, তার পরিবার এবং অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য দাতব্য সংস্থা মাইন্ডের প্রধান নির্বাহী সারাহ হিউজ সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত সংখ্যালঘু মানুষের সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য খাত যথেষ্ট খোলামেলা ছিল না। মরগানের মতে, এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে দীর্ঘদিনের একটি অস্বস্তিকর বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নটিংহাম হামলার তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের জুনে নটিংহামে বার্নাবি ওয়েবার, গ্রেস ও'ম্যালি-কুমার ও ইয়ান কোটস নিহত হন। হামলাকারী ভ্যালদো কালোকেনের আগে থেকেই প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ার রোগ নির্ণয় হয়েছিল। তদন্তে তার আগের সহিংস আচরণ, ওষুধ গ্রহণে বারবার অস্বীকৃতি এবং দুই বছরের মধ্যে চারবার মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আওতায় হাসপাতালে নেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে।

তবে মরগানের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু কোনোভাবেই মানসিক রোগীদের ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা নয়। তার মতে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় এমন একটি পরিণত অবস্থান প্রয়োজন, যেখানে একদিকে রোগীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও কলঙ্কের বিরোধিতা থাকবে, অন্যদিকে যেসব ক্ষেত্রে বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো নিয়েও চিকিৎসক, রোগী, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সৎ ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা করতে পারবে।

তার মতে, মানসিক অসুস্থতা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ককে মনোরোগ চিকিৎসার সমর্থক ও সমালোচকদের পারস্পরিক বিরোধে পরিণত করা উচিত নয়। বরং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রোগীর নিরাপত্তা, পরিবারের সুরক্ষা এবং বৃহত্তর জননিরাপত্তার জন্য আরও কার্যকর ও মানবিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

চীনের ইউরোলজি সম্মেলনে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের গবেষণা উপস্থাপন

ডিজিটাল হাজিরায় স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি মনিটরিং করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৩৩

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৩২

হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৮ জন

জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা

চা-কফিতে খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি কেন বাড়ে

ধূমপানে বাড়ে নারীর বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি, কমে পুরুষের শুক্রাণু

বুকজ্বালা কেন বাড়ে?

সাতটি রোবোটিক সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন করেছি