ডেঙ্গুর পরিচিত লক্ষণ হলো তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং দুর্বলতা। তবে চলতি মৌসুমে পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর তুলনামূলক কম থাকছে বা উপসর্গ খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে না। কেউ কেউ শারীরিক দুর্বলতা, হালকা ব্যথা অনুভব করেন। ফলে অনেকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন। বিপদের দিক হলো, জ্বর কমে যাওয়ার পরও কোনো কোনো রোগীর দ্রুত অবনতি হচ্ছে। এ সময় প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া, রক্তপাত, পেটের তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং কিডনি বা লিভারের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তাই শুধু জ্বরের মাত্রা বা প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বিচার করা উচিত নয়। জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শে যথাসময়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করুন এবং পর্যাপ্ত তরল পান করুন। জ্বর কমে গেলেও পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘণ্টা বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট বা প্রস্রাব কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে যান। ডেঙ্গুতে নিজের মতো করে ব্যথার ওষুধ, বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রফেন, না খাওয়াই নিরাপদ।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) কনসালট্যান্ট, ইবনে সিনা, উত্তরা