তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন , তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংবিধানিক অবস্থান থেকে বিচ্যুতির কারণে ২০২৪ এর ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার যে চরম শিক্ষা হয়েছে তা এখন ইতিহাসের অংশ। সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা লাগাতার ভাবে চর্চা করবে বিএনপি সরকার। দল নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে অবাধ নির্বাচনের যাত্রা অব্যাহত রাখা হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের লেখা ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়েই একটি রাষ্ট্র সঠিকপথে এগিয়ে যেতে পারে। মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো অতীতে ফিরে দেখা। তবে সেই স্মৃতিকে শুধু আবেগে সীমাবদ্ধ না রেখে তা নথিবদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষার উপকরণ হিসেবে উপস্থাপন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
তিনি বলেন, ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইটিতে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশি-বিদেশি মহলে একতরফা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল এবং ১৫১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ উল্লেখ থাকলেও শেখ হাসিনা তা বিশ্বাস করত না। আওয়ামী সরকারের দেড় দশকের শাসন আমলে জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
জনগণের বড় একটি অংশ অংশগ্রহণ না করলে সেই নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হয়— সেই প্রশ্নও তোলেন তথ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের নির্বাচন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না এবং জনগণ শেষ পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটেও তিনি এ বাস্তবতার প্রতিফলন দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাসের এ ধরনের অধ্যায়ন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়ক হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত এর সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনাও চলমান রয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা এবং জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনায় একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, যা জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে।
বইয়ের লেখক ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ “ফিরে দেখা সেই সময়” প্রকাশনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, শেখ হাসিনা মনে করতো তার জীবদ্দশায় আর কেউ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন তিনিই থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এই ধরণের বয়ান সেই সময়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী—এমপিদের বলতে শোনা গেছে। কিন্তু জনগণই যে সকল ক্ষমতার উৎস তা প্রমাণিত হলো জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। ছাত্র—জনতার ব্যাপক আন্দোলনে দিশেহারা হয়ে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে গেল শেখ হাসিনা। রেখে গেলেন তার শাসন আমলের ক্ষত চিহ্ন।
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ উল্লেখ থাকলেও শেখ হাসিনা তা বিশ্বাস করতো না মন্তব্য করে কিরণ বলেন, দেশটাকে তিনি তার বাপের তালুক মনে করতো। নিজেকে ভাবতো আমিই রাষ্ট্র।
আওয়ামী সরকারের দেড় দশকের শাসন আমলে জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ছিলো না মানুষের কোন সামাজিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। গুম—খুন, হত্যা, মামলা—হামলার মাধ্যমে দেশে একটা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে দেশটাকে কারাগারে পরিণত করেছিল। বিরোধী মতের বহু নেতা—কর্মীর ঠিকানাই ছিলো আদালতের বারান্দায়।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ ও আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, পিআইবির সাবেক মহাপরিচালক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চিফ মডারেটর অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, শেরে—বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র পরিচালক ড. এস এম মোর্শেদ।