হোম > ফিচার > তথ্য-প্রযুক্তি

আইটি খাতের টাকা এখনো আ.লীগের পকেটে যাচ্ছে

গোলটেবিল আলোচনা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাজেট ভাবনা

ইসমাঈল হোসাইন সোহেল

আসন্ন জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ‘তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। সম্প্রতি আমার দেশ-এর সভাকক্ষে আয়োজিত এই আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বিজনেস অটোমেশন লিমিটেডের পরিচালক শোয়েব আহমেদ মাসুদ। অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন আমার দেশ-এর সিনিয়র সাব-এডিটর ইসমাঈল হোসাইন সোহেল

শীষ হায়দার, সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ

শীষ হায়দার বলেন, সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি জাতীয় কমিটি রয়েছে। দেশ-বিদেশে যারা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাদের নিয়ে কাজ চলছে। এখানে একাডেমিয়ার যে বিষয় রয়েছে, সেগুলোর বিকাশে কাজ করা হচ্ছে। আমরা প্রায় ৪০ লাখ ডলারের কাজ হাতে নিয়েছি। এনহেন্সিং গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি প্রকল্পের আওতায় এই কাজ চলছে। যেহেতু আমরা তৈরি পোশাক খাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সন্দিহান; কিন্তু আমরা বলতে পারি এটার (আরএমজি) পাশাপাশি যদি সেমিকন্ডাক্টর চলে, তাহলে এটিও রেমিট্যান্স আহরণের একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠবে।

সাইবার হামলা বন্ধে সরকার তৎপর উল্লেখ করে শীষ হায়দার বলেন, সাইবার স্পেস সবচেয়ে অনিরাপদ-এটা আমরা এখন খুব ভালোই বুঝতে পারছি। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে সরকার ও সরকার-সমর্থক লোকজন এর আগে কখনোই এভাবে সমস্যার মুখোমুখি হয়নি।

দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পলিসি নিয়ে কাজ চলছে জানিয়ে সচিব বলেন, এটা নিয়ে একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। আমরা তিনটি কাজ করে ফেলেছি। সিএসওর কাজ হয়ে গেছে, সাইবার সেফটি অর্ডিন্যান্স হয়েছে এবং গেজেট জারি হবে। এটি এখন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে আছে। এরপর রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যাবে। তিনি সই করলে এর গেজেট জারি করা হবে।

আওয়ামী লীগের ফেসবুক ওয়েবসাইট বন্ধ করা হচ্ছে জানিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব বলেন, একটি দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর তাদের ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার জন্য আমরা বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছি। বিটিআরসি মেটা ও অন্যান্য সামাজিক যে মাধ্যমগুলো আছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আরেকটি বিষয় আমরা করেছি, সেটা হলো পারসোনাল ডেটা প্রটেকশন অর্ডিন্যান্স (পিডিপিও)।

মাহমুদুর রহমান, সম্পাদক, আমার দেশ

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগ বোর্ডে থাকার সময় আমি বলতাম, আমার স্বপ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ এক সময় এক বিলিয়ন ডলারের আইটি পণ্য রপ্তানি করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আজ পর্যন্ত আমরা সেই লক্ষ্য ছুঁতে পারিনি। আসলেই আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। ‘এটি একটি সমন্বিত ব্যর্থতা’ উল্লেখ করে আইটি খাতের উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদ, পেশাজীবী তৈরি করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ফেব্রিকেশনও হবে বাংলাদেশে। কিন্তু ডিজাইনিং থেকে শুরু হয়েছে, এটা মন্দ নয়। এটাকে আরো কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সবাইকে একটু চিন্তা করা উচিত। এ জন্য সরকারকে সহায়তা দেওয়া এবং ব্যক্তি খাত থেকে স্পেসিফিক প্রস্তাব আসা উচিত। কারণ, এতে সরকারের পক্ষে কাজ করা সহজ হবে।’

দেশে যত্রতত্র হাইটেক পার্ক করে রাষ্ট্রের টাকা উচ্ছন্নে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, এই হাইটেক পার্ক ফেলে না রেখে এটির সঠিক ব্যবহার নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। এর মধ্যে অগ্রাধিকার ঠিক করে যেগুলোকে কাজে লাগানো যায়, সেগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, সিস্টেম ইনগ্রেইন ম্যাকানিজমের (পদ্ধতিগত জালিয়াতি) মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকার এ দেশের অর্থনীতির দুরবস্থা করে গেছে, সেটি খুঁজে বের করতে হবে। সেটি শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ করতে পারবে না। তবে সব মন্ত্রণালয়কে করতে হবে।

মাহমুদ হোসেন, কমিশনার (স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা), বিটিআরসি তিনি বলেন, স্মার্টফোনের মিনিমাম যে কনফিগারেশন, সেটার দামও ৮ হাজার টাকা। কিন্তু ৮ হাজার টাকার ফোন কেউ কিনতে চায় না। সবাই ১২-১৩ হাজার টাকার নিচে ফোন কিনতে চায় না। কিন্তু এই ৮ হাজার টাকার ফোনটিও বছরখানেক আগে চার হাজার টাকায় ছিল। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং যখন ফোন ম্যানুফ্যাকচারিং শুরু হয়, তারপর থেকে ২-৩ দফায় তাদের ওপর ট্যাক্সেশন বেড়েছে, যা ছিল আগের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। এ জন্য ট্যাক্স কমিয়ে মোবাইল ফোনের দামকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে তিনি এনবিআরের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, চোরাই ফোনের কারণে সরকার বছরে দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। এটি বন্ধ করা গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে স্মার্টফোনের পেনিটেশন ৮০ শতাংশে উন্নীত করার যে টার্গেট, সেই টার্গেট পূরণ করা যাবে।

হোসেন আহমদ, সদস্য (শুল্কনীতি ও আইসিটি), এনবিআর তিনি বলেন, ‘আগে অংশীজন হিসেবে আমরা যাদের সঙ্গে কাজ করতাম, তারা ট্রু রিপ্রেজেন্টেটিভ কি না, সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এখানে এসে আমার চোখ খুলে গেছে। সমস্যাটা আসলে কতটুকু, সেটা আগে যেমন জানতে পারিনি, তেমনি আমাদের সিদ্ধান্তগুলোতেও ছিল টপডাউন অ্যাপ্রোচ, বটম এপ্রোচ ছিল না। আমাদের সমস্যা কিন্তু পলিসিতে নয়, বেশিরভাগই গভর্ন্যান্সে। এটাকে ঠিক করতে হলে আমাদের স্পেশালাইজেশন দরকার, ডেটাবেজ ডিসিশন দরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আমরা ডেটা অ্যানা‌লি‌টিক নামে একটি সেকশন খু‌লে‌ছি।

তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় হ‌লো আমরা সময় অপচয় ক‌রে ফে‌লে‌ছি। প্রত্যেক কাস্টমস প‌য়ে‌ন্টে আমরা প্রায় সবগু‌লোতেই এক্সা‌মি‌নেশন ক‌রি। কিন্তু তেমন কো‌নো ফল আসে না। ত‌বে এখন ডেটা যেটা ক্রিয়েট হ‌চ্ছে, সেটা নি‌য়ে রিস্ক ম্যা‌নেজ‌মে‌ন্টে চ‌লে যা‌চ্ছি। এ ছাড়া অথরাইজড ইকোনমিক অপা‌রেটরদের মধ্যে যারা বিশ্বস্ত আমদানিকারক, আমরা সরাস‌রি তা‌দের ডিক্লা‌রেশ‌নের ওপ‌রে ক্লিয়া‌রেন্স দি‌য়ে দি‌চ্ছি। আমরা কাজটা শুরু ক‌রে‌ছি। ত‌বে চ্যা‌লেঞ্জ আছে অনেক। আমা‌দের একটু সময় দি‌তে হ‌বে।

রাফেল কবির, সাবেক সভাপতি, বেসিস

আইসিটি খাতের সমস্যা এখ‌নো র‌য়ে গে‌ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ম‌ধ্যে একটা সমস্যা হ‌লো গত সরকা‌রের যে সেটআপ করা আছে, সে বিষ‌য়ে এখ‌নো কিছুই করা হয়‌নি। এ কার‌ণে গত ৯ মা‌সে যে কটি টেন্ডার হ‌য়ে‌ছে, তার ৬০ শতাংশই এমন কোম্পা‌নিতে গে‌ছেÑ যা সালমান এফ রহমান, তার বন্ধুবান্ধব ও তার সং‌শ্লিষ্ট।

এই টাকা কীভা‌বে এখ‌নো আওয়ামী লোকদের প‌কে‌টে যা‌চ্ছে, তার উদাহরণ দি‌য়ে রা‌ফেল ক‌বির ব‌লেন, একটা বিজ্ঞ‌প্তি ইস্যু ক‌রে বাংলা‌দে‌শের সব সরকা‌রি প্রতিষ্ঠান‌কে নি‌র্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার ব্যবহার কর‌তে বাধ্য করা হচ্ছে। এখন এই ডেটা সেন্টার ব্যবহার কর‌তে গেলে আলাদা প্রতিষ্ঠানের নামে আলাদা লাইসেন্স কিন‌তে হ‌বে ৫০ কো‌টি টাকায়। ওটার কাস্টমাইজেশ‌নের পয়সা দিতে হবে। এভা‌বে ১০০টি সরকা‌রি প্রতিষ্ঠান যদি এভা‌বে ডেটা ব্যবহার কর‌তে যায়, তাহ‌লে বছরে তাদের ৫০ হাজার কো‌টি টাকা দিতে হবে। এর ক‌মিশনটা কোথায় যাচ্ছে-জে‌লে ব‌সে পলক পা‌চ্ছেন, ভার‌তে ব‌সে হা‌সিনা পা‌চ্ছেন। এরপর প্রতি বছর এএম‌সি সাইন কর‌বেন। সেটা কম হ‌লেও ২০ শতাংশ। সে হি‌সে‌বে এএম‌সি দি‌তে হ‌চ্ছে ১০০০ কো‌টি টাকা। এখন চিন্তা করুন, আপ‌নি হা‌সিনা‌কে হয়‌তো স‌রি‌য়ে‌ছেন, কিন্তু এই যে চু‌রিগু‌লো এখ‌নো র‌য়ে গে‌ছেÑ সেটা বন্ধ করা যায়‌নি।

রাফেল কবির বলেন, পদ্ধ‌তিগতভাবে আইসিপিতে যে প্রতিবন্ধকতাগু‌লো তৈ‌রি করা হ‌য়ে‌ছে, এখা‌নে যে ভাইরাসগু‌লো ঢোকা‌নো হয়েছে-সেগু‌লো দূর কর‌তে হ‌লে আইসিটি রি‌লে‌টেড প্রফেশনাল লাগ‌বে।

অধ্যাপক মোস্তফা আকবর, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, বুয়েট

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা আকবর বলেন, আইসিটি খা‌তে আমরা খুব একটা খারাপ অবস্থায় র‌য়ে‌ছি। এ খাতে বাংলা‌দে‌শ ভা‌লো অবস্থানে থাকতে হ‌লে আমা‌দের ভা‌লো ও বড় কোম্পা‌নি দরকার। সে স‌ঙ্গে দরকার ম্যানপাওয়ার, ট্যা‌লে‌ন্টেড ম্যানপাওয়ার প্রয়োজন। ত‌বে আমা‌দের সা‌র্টিফায়েড ইঞ্জি‌নিয়ার সেভা‌বে নেই। আমা‌দের সে সু‌যোগটা ক‌রে দি‌তে হ‌বে।

আইটি খা‌তে বা‌য়িং হাউসের ম‌তো কো‌নো কন‌সেপ্ট গ‌ড়ে ওঠেনি জানিয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, আমা‌দের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম করা দরকার, যে প্ল্যাটফর্ম কোম্পানিগু‌লো‌কে মূল্যায়ন কর‌বে। আবার বাইরের চাহিদা, সেগু‌লো বি‌শ্লেষণ ক‌রে কোম্পা‌নি কিংবা কোনো ইন‌ডি‌ভিজুয়াল‌কে সুপা‌রিশ কর‌বে। এ ধর‌নের প্রতিষ্ঠান দরকার। এ জন্য এ খা‌তে অল্প কিছু হ‌লেও বা‌জেট বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এম রেজাউল হাসান, সিইও, রীভ সিস্টেমস

তিনি বলেন, আমা‌দের সরকা‌রের এক‌টি ডেটা সেন্টার আছে। এখা‌নে শুধু সরকা‌রি তথ্যউপাত্ত রাখ‌তে পা‌রে। কিন্তু আমরা য‌দি এটা‌কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ল্যাব কর‌তে পা‌রি এবং ন্যূনতম খর‌চে স্থানীয় যে সফটওয়্যার ডে‌ভেলপ‌মেন্ট কোম্পা‌নি আছে, তা‌দের য‌দি কাজ করার সু‌যোগ দিই, তাহ‌লে আমা‌দের প্রচুর পণ্য ডে‌ভেলপ‌মে‌ন্টে আস‌বে।

আবার ফ্রিল্যান্সার‌দের কথা যদি চিন্তা ক‌রি, তাহ‌লে বল‌তে হয়-তা‌দের জন্য যে প্রশিক্ষণের কথা বলা হচ্ছে, এটির স‌ঙ্গে স‌রকার নী‌তিনির্ধারণী কিছু বিষয় যুক্ত কর‌তে পা‌রে কি না, সে‌টি ভে‌বে দেখা উচিত। এতে দু‌টি লাভ হ‌বে। এর একটি হ‌লো সরকা‌রের টাকাটা যথাযথ কা‌জে ব্যয় হ‌চ্ছে, তার নিশ্চয়তা। আর দ্বিতীয় লাভটি হ‌বে ফ্রিল্যান্সার‌দের স‌ঙ্গে আন্তর্জা‌তিক কিছু স্বীকৃ‌তি থাক‌লে তার শ্রমটা বি‌ক্রি করা সহজ হ‌বে।

আমিনুল হাকিম, সাবেক সভাপতি, আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ

তিনি বলেন, আইসিটি খা‌তে অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) একেবারেই রূপকথার ম‌তো। ব্যান্ডউইথে প্রফিট বি‌ফোর ট্যাক্স ৩৬ দশ‌মিক ৩৬ শতাংশ; কিন্তু আমার কস্ট লে‌ভেল কী হ‌বে, আপ‌স্ট্রিমে প‌ণ্যের দাম কমল কি না, ট্যাক্স কমল কি না-সেগুলো দেখা হয়নি। কো‌নো জায়গায় হাত না দি‌য়েই বি‌টিআর‌সি ঘোষণা দি‌য়ে দিল ১০০০ টাকার প্যা‌কেজ হ‌বে ৯০০, আর ৮০০ টাকার প্যা‌কেজ হ‌বে ৭০০ টাকা। কিন্তু আমরা আদৌ সেটা করে টিকে থাকতে পারব কি না, আমা‌দের কী চাওয়া আছে, পাওয়া আছে- তার কো‌নোটাই দেখা হয়নি।

অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স কো‌নোভা‌বেই ১ থে‌কে ২ শতাং‌শের ওপ‌রে হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে আমিনুল হাকিম ব‌লেন, এটা‌তো কমন সেন্স যে, ইন্টার‌নেট খা‌তে এত ট্যাক্স দি‌য়ে আস‌লেই ব্যবসা কর‌া যাবে না।

রেজওয়ানুল হক, সহসভাপতি, মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন

তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলা‌দে‌শের ক্ষে‌ত্রে আমা‌দের ইকো‌সি‌স্টেম, ই-গভর্ন্যা‌ন্সের ম‌তো অনেকগু‌লো উপাদান র‌য়ে‌ছে। ত‌বে সেগু‌লো ব্যবহা‌রের জন্য একটাই মাধ্যম-স্মার্ট‌ফোন। এটির সম্প্রসার‌ণের স‌ঙ্গে দে‌শের উন্নয়নও ওত‌প্রোতভা‌বে জ‌ড়িত। কিন্তু দুঃখের বিষয় হ‌চ্ছে, গত ৫ বছর ধ‌রে আমা‌দের স্মার্ট‌ফো‌নের বাজারের প্রবৃ‌দ্ধি বাড়‌ছে না। এর প্রথম কারণ হ‌চ্ছে বা‌জেট।

রেজওয়ানুল হক বলেন, বাংলা‌দে‌শে এখন যে ৭৫ লাখ স্মার্টফো‌নের দরকার হয়, তার ৯৯ শতাংশই দে‌শে ম্যানুফ্যাকচার হ‌চ্ছে। শুধু ম্যানুফ্যাকচা‌রিং নয়, বরং অ্যা‌সে‌ম্বি‌লিং হ‌চ্ছে, ব্যাটা‌রি-চার্জারও হ‌চ্ছে। কিন্তু বাংলা‌দে‌শের এই কারখানাগু‌লো‌কে নি‌য়ে কো‌নো প‌রিকল্পনা নেই, নী‌তিগত প‌রিবর্ত‌নও নেই।

বাংলা‌দেশ স্মার্টফো‌নের পরবর্তী হাব হ‌তে পা‌রে উল্লেখ ক‌রে তিনি ব‌লেন, দে‌শের ১৭টি মোবাইল ফোন কারখানা রয়েছে। এর মানে কিন্তু ১৭‌টি গ্লোবাল ব্র্যান্ড এখানে ম্যানুফ্যাকচা‌রিং কর‌ছে। ত‌বে এই কারখানাগু‌লোর সক্ষমতা বছ‌রে ৩ কো‌টি মোবাইল ফোন উৎপাদন করার ম‌তো। কিন্তু আমরা উৎপাদন কর‌ছি মাত্র ৭৫ লাখ। তাই এই কারখানা‌গু‌লো‌কে য‌দি আমরা কা‌জে লা‌গি‌য়ে একটি হাব কর‌তে পা‌রি, পৃ‌থিবীর ১১৭ কো‌টি স্মার্ট‌ফো‌নের য‌দি ১০ শতাংশ বাজারও আমরা দখল কর‌তে পা‌রি, তাহ‌লে বাংলা‌দে‌শের বাজার আরো তিনগুণ বাড়‌বে। কিন্তু এই ফোনগু‌লো যে রপ্তা‌নি করব, তারও কো‌নো নীতিমালা আমা‌দের কা‌ছে নেই।

লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার, মহাসচিব, এমটব তিনি বলেন, বা‌জে‌টের বিষয়ে এনবিআরের কা‌ছে আমরা গত ১০ বছর ধ‌রে যেসব কথা ব‌লে এসেছি, তারা কো‌নো‌দিনই আমা‌দের কথা শো‌নে‌নি। গত ১০ থে‌কে ১২ বছ‌রে প্রত্যেক ক্ষে‌ত্রে ট্যা‌ক্সের প‌রিমাণ বে‌ড়ে‌ছে। আমাদের কর‌পো‌রেট ট্যাক্স, মি‌নিমাম ট্যাক্স, সাবস্ক্রাইবার ট্যাক্স, সা‌প্লি‌মেন্টা‌রি ডিউটি, ভ্যাটসহ প্রত্যেকটি ক্ষে‌ত্রেই কর বে‌ড়ে‌ছে। মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, আমা‌দের‌ ৫৪ শতাংশ ট্যাক্স দি‌তে হয়। অর্থাৎ, আপ‌নি য‌দি ১০০ টাকা রিজার্জ ক‌রেন, তাহ‌লে ৫৪ টাকার কো‌নো সেবাই পা‌বেন না। এই ৫৪ টাকা সরকা‌রের কা‌ছে, বি‌টিআর‌সির কা‌ছে, এস‌ডি, সি‌ডি, ভ্যাট, রে‌ভি‌নিউ শেয়া‌রিং, স্পেকট্রা‌মের প্রাইস-এসব খা‌তে চ‌লে যায়। অর্ধেকেরও কম টাকা থে‌কে যায় ডেটা বা ভ‌য়েসের জন্য।

তি‌নি ব‌লেন, টে‌লিক‌মিউনি‌কেশন খাত থে‌কে আমা‌দের যে প্রবৃ‌দ্ধি, সেটি আমা‌দের জি‌ডি‌পি প্রবৃ‌দ্ধির দ্বিগুণ হওয়ার কথা। জি‌ডি‌পির প্রবৃ‌দ্ধি য‌দি আমরা কম‌-বে‌শি ৭ শতাংশ ধ‌রি, তাহ‌লে আমা‌দের টে‌লিক‌মিউনিকেশন খা‌তের প্রবৃ‌দ্ধি অন্তত ১৫ শতাংশ হওয়া উচিত। ত‌বে এর জন্য নী‌তিগত সহায়তা দেওয়া ও ট্যা‌ক্সের বোঝা কমা‌তে হ‌বে। একইস‌ঙ্গে সিম ট্যাক্স তু‌লে দেওয়ার প্রস‌ঙ্গে যু‌ক্তি তু‌লে ধ‌রে সেটি বাদ দেওয়ার দা‌বি জানান এমটব মহাসচিব।

ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, সিইও, ড্যাফোডিল গ্রুপ বাংলা‌দেশ সরকা‌রের বা‌জে‌টে অগ্রা‌ধিকার ঠিক করার বিষ‌য়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমা‌দের সেই প্রথাগত বা‌জেট র‌য়েই‌ গে‌ছে। দে‌শের ছে‌লেমে‌য়েরা অত্যন্ত মেধাবী। এখা‌নে বিশাল জনবল আছে। এদের আমরা প্রাধান্য না দি‌য়ে চিরায়তভা‌বে যেখা‌নে ছিলাম সেখা‌নেই থাকব, না কি নলেজ ইকোনমি, আইটি বা ডি‌জিটাল ইকোনমি-এসব জায়গায় আমা‌দের বা‌জেট বাড়া‌তে হ‌বে।

ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, আমরা যে ডি‌জিটাল ইকোন‌মির কথা ব‌লি, সে‌টি‌কে কেন্দ্র ক‌রে মানবসম্পদ‌কে স‌ঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়‌নের মাধ্য‌মে বৈ‌দে‌শিক মুদ্রা আ‌য়ের এক‌টি সু‌যোগ আছে। আইটি খাত নি‌য়ে আশাবাদ ব্যক্ত ক‌রে ড. নুরুজ্জামান ব‌লেন, আমা‌দের নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈ‌রি ক‌রে ই-কমার্সের ম‌তো সারা বি‌শ্বে নি‌জে‌দের পণ্য ছ‌ড়ি‌য়ে দেওয়া সম্ভব। সে‌টি বি‌বেচনায় নি‌য়ে বা‌জেট বরাদ্দ দেওয়া উচিত।

তানভির ইব্রাহিম, সভাপতি, বাক্য তিনি বলেন, আমরা যে খাত‌টি‌কে প্রতি‌নি‌ধিত্ব কর‌ছি, সেটা একটি সেবা খাত। এ খাত‌টির সম্প্রসার‌ণের সম্ভাবনা যেমন দেশে আছে, তেম‌নি আন্তর্জা‌তিক বাজা‌রেও এর সম্ভাবনা র‌য়ে‌ছে। এ সময় আইটি সা‌র্ভি‌সের ম‌ধ্যে ফাইন্যা‌ন্সিয়াল অ্যাকাউন্টিংয়ে আউট‌সো‌র্সিংকে যুক্ত করার দা‌বি জানান তিনি।

তানভির ইব্রাহিম বলেন, আমরা কন্টাক্ট সেন্টারের প্রসার চাই ঠিক, কিন্তু এটা‌কে আট‌কে রে‌খে‌ছি। ঘ‌রের ম‌ধ্যে ব‌ন্দি ক‌রে রে‌খে‌ছি। এটা‌কে ঘরব‌ন্দি বলার কারণ হলো, বি‌টিআর‌সির লাইসেন্স গাইডেন্সে বলা আছে-এটা ‘সার্ভার বেইজড’ ও ‘অন প্রিমাইজড’ হ‌তে হ‌বে। কো‌নো ক্লাউড বেজড সল্যুশন তারা গ্রহণ করে না। য‌দিও ক্লাউড নি‌য়ে আজ বিশ্ব এক হ‌য়ে গে‌ছে।

তানভির ইব্রাহিম আরো বলেন, আমরা য‌দি সার্ভার বেজড সল্যুশ‌নে আট‌কে থা‌কি, তাহ‌লে আমা‌দের উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ পড়ে। আমাকে মূলধনী ব্যয় বাড়া‌তে হ‌চ্ছে; মূলধন নি‌য়ে চিন্তা কর‌তে হ‌চ্ছে। এ সময় ওয়ার্ক ফ্রম হোম‌কে বৈধতা দেওয়ার প‌ক্ষেও তি‌নি মত তু‌লে ধ‌রেন।

ডায়াবেটিসের প্রাথমিক ঝুঁকি শনাক্ত করবে হুয়াওয়ে ওয়াচ

হোয়াটস অ্যাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা পাঠানো যাবে

ক্যানসারের ঝুঁকি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের হেডফোনে

রিলস-টিকটক সংস্কৃতির প্রভাব

ভ্রমণের সঙ্গী পকেট ওয়াইফাই

প্রযুক্তিতে নতুন সরকারের কাছে তরুণদের প্রত্যাশা

ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট : আপনার ছায়াও ইন্টারনেটে

চাঁদ কীভাবে ছোট হয়ে যাচ্ছে

এআই সতর্কবার্তা, বিশ্বে ৪০ শতাংশ চাকরি ঝুঁকিতে

অ্যামাজন এআই প্রশিক্ষণে কনটেন্ট মার্কেটপ্লেস চালু করবে