শহুরে জীবনে যান্ত্রিকতায় সবুজের সান্নিধ্য পাওয়া কঠিন। জীবনের নানারকম ব্যস্ততা আর অফিসের কাজের চাপে আমরা প্রায় ভুলেই যাই প্রকৃতির সান্নিধ্য কতটা জরুরি। তবে ছোট্ট বারান্দাটাই হতে পারে আপনার শখের বাগান। কিন্তু আগের কোনো অভিজ্ঞতা নেই, ভাবনার কিছু নেই; শুধু একটু ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্য থাকলেই চলবে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক একটি ভালো বাগান করতে গেলে কী কী বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। এ বিষয়ে লিখেছেন লাবণ্য
শুরুটা যেভাবে করবেন
জায়গা : প্রথমেই আপনার ব্যালকনির জায়গাটা ভালো করে দেখে নিন। কতটা জায়গা আছে, সূর্যের আলো কতটা পড়ে, বাতাস চলাচল কেমন—এ বিষয়গুলো জানা জরুরি। সাধারণত চার থেকে ছয় ঘণ্টা সূর্যের আলো পেলেই বেশিরভাগ গাছ ভালো থাকে।
যদি দিনের শুরুতে পূর্ব দিকের রোদ আপনার বারান্দায় পড়ে তাহলে নিশ্চিন্তভাবে ফুলগাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আর যদি পশ্চিমের রোদ ঢোকে সেক্ষেত্রেও ফুলগাছ লাগানো যাবে।
গাছের টব : বারান্দার বাগানে পাত্র বা গাছের টব ঠিকমতো নির্বাচন করা খুব জরুরি। কারণ গাছের প্রকৃতি অনুযায়ী আলাদা ধরনের টব প্রয়োজন হতে পারে। প্লাস্টিক, টেরাকোটা, সিমেন্ট বা হ্যাংগিং পট—যেকোনো কিছু ব্যবহার করতে পারেন। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, পাত্রের নিচে যেন পানি নিষ্কাশনের ছিদ্র থাকে।
মাটি ও সার : ভালো মানের মাটি আর জৈব সার ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে নার্সারি থেকে প্রস্তুত করা মাটিও কিনতে পারেন।
গাছ : এবার গাছ নির্বাচন বা পছন্দ করার পালা। বারান্দায় সাধারণত ছোট গাছ বা হার্বস লাগানো ভালো। যেমন টমেটো, মরিচ, ধনিয়া, পুদিনা, তুলসী, অ্যালোভেরা; আবার গাঁদা, গোলাপ, বাগানবিলাসের মতো ফুলের গাছও ভালো হয়। কেউ কেউ ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট, পথোস ও পাতাবাহার-জাতীয় গাছ বেশি পছন্দ করেন। এগুলো মাঝেমধ্যে আপনি ঘরের ভেতরেও রাখতে পারবেন। এছাড়া অর্কিড আপনার ঘরকে একটি প্রিমিয়াম লুক দিতে পারে।
পানি দেওয়া : গাছের প্রজাতি অনুযায়ী পানির পরিমাণ ঠিক করুন। বেশি পানি দিলে গাছের শেকড় পচে যেতে পারে, আবার কম দিলে শুকিয়ে যাবে। তাই নিয়মিত পানি দিন। তবে আপনার যদি যদি অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকে, সেক্ষেত্রে প্রতিদিন পানি না দিলেও চলে, এমন গাছ নির্বাচন করতে পারেন।
সঠিক পরিচর্যা : গাছের বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত যত্ন নিন। মাঝে মাঝে গাছের ডালপালা ছাঁটুন, পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। একটু করে মাটি নিড়িয়ে দিন। অনলাইনে বাগান করা কমিউনিটিতে যুক্ত হোন। এতে নতুন ধারণা পাবেন।
আলো, সার, পানি—সবকিছুই পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া সত্ত্বেও গাছ যদি না বাড়ে, তাহলে কোথাও সমস্যা হচ্ছে কি না দেখা জরুরি। অনেক সময় গাছে পোকা লাগলেও সহজে বাড়তে চায় না।
আপনার বারান্দায় রোদ ঢুকলে টগর, গোলাপ, অপরাজিতা, জুঁই, দোলনচাঁপা, অর্কিড, বেলি ও হাসনাহেনা ফুলের গাছ লাগাতে পারেন। আর যদি রোদ না ঢোকে তাহলে নানা ধরনের পাতাবাহার গাছ দিয়ে সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার ছোট্ট বারান্দা। এক্ষেত্রে এরিকা পাম ও মানিপ্লান্ট গাছ লাগাতে পারেন।
প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে ও বিকালে গাছে পানি দিতে হবে। তবে খুব কড়া রোদে পানি দেওয়া যাবে না। টবের মাটি ভিজে থাকলেও পানি দেবেন না। পানি দিতে দিতে টবের মাটি যদি শক্ত হয়ে আসে, তাহলে মাটিকে কুপিয়ে আলগা করে নিতে হবে।
বারান্দার আয়তন বুঝে টবের সংখ্যা নির্বাচন করুন। গাদাগাদি করে গাছ না রাখাই ভালো। শুকনো পাতা জমতে দেবেন না। গাছের গোড়ায় সেগুলো না রেখে ফেলে দিন। এতে গাছ ও বারান্দা দুটিই পরিষ্কার থাকবে। জায়গা কম থাকলে ঝুলন্ত টবও ব্যবহার করতে পারেন। ঝুলন্ত টবে কোন গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে উঠবে এবং দেখতে সুন্দর লাগবে, সেগুলো বেছে নিন।
তিন মাস অন্তর সার দেবেন গাছের গোড়ায়। পাতাজাতীয় গাছগুলোয় মাঝে মাঝে রোগজীবাণু আক্রমণ করে। ফলে পাতা কুঁকড়ে যায়। পাতা কেটে ফেললে সেক্ষেত্রে নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। এসব নিয়ম মানলেই সবুজে সজ্জিত থাকবে আপনার সাধের বারান্দার সাধের বাগানটি।