হোম > ফিচার > আমার জীবন

উৎসব দিনের সাজ

তাহমিনা তাসির

ঘরোয়া আয়োজন হোক বা উৎসব-পার্বণ—নিজেকে পরিপাটি করে সাজিয়ে তুলতে বেশ পছন্দ আরিয়ার। আর হবেই বা না কেন, সাজসজ্জায় বেশ পটু এই কিশোরী একেবারে গুছিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করতে ভালোবাসে। নিজেই নিজেকে সাজিয়ে তোলে নানা প্রসাধনীতে। কোনো কিছুর কমতি থাকে না তার সেই সাজসজ্জায়। মেকআপ থেকে শুরু করে চুল আর পোশাক—সব মিলিয়েই তৈরি হয় সে। তবে অন্য অনুষ্ঠানের চেয়ে ঈদের দিনে নিজেকে একটু ভিন্নভাবেই সাজিয়ে তুলতে পছন্দ তার। আর তাই ঈদের দিনের সময়টাকে তিন বেলায় ভাগ করে সে অনুযায়ী সাজগোজের তালিকাও করে ফেলেছে আরিয়া। তার মতো কিশোরী ছাড়াও ২০ বছরের তরুণী বা ৪০-ঊর্ধ্ব কিংবা আরেকটু বেশি বয়সিরাও বিশেষ এই দিনটিতে নিজেকে সাজাতে বেশ পছন্দ করেন। ভিন্ন বয়সি মেয়ে বা নারীদের ভিন্ন বেলার সাজগোজ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে থাকছে সাজ-কথন। আর এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিউটি এক্সপার্ট কানিজ আলমাস

কানিজ আলমাসের মতে, এখনকার সময়ের টিনএজাররা বা তরুণীরা মেকআপের ব্যাপারে অনেক বেশি গোছানো। তারা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জেনে-বুঝে তারপর সাজগোজ করে। তবে ঈদুল আজহা যেহেতু গ্রীষ্মকালে, তাই সাজসজ্জার ক্ষেত্রে অনেকটাই নমনীয় হতে হবে। কারণ এবারের আবহাওয়াটাই একটু বৈরী। জ্যৈষ্ঠ মাসে গরমের তীব্রতা যেমন থাকে, তেমনি কখনো কখনো বৃষ্টির দেখাও মেলে। তবে বৃষ্টি হলেও গরমের রেশ ঠিকই বহাল থাকে। তাই সাজগোজে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে নিজের আরাম আর স্বস্তিকে। এ সময় ভারী মেকআপ একেবারেই এড়িয়ে চলা ভালো। এতে নিজেকে যেমন সুন্দর দেখায়, তেমনি অন্যের চোখেও স্বস্তিদায়কভাবে উপস্থাপন করা যায়।

রূপচর্চার ক্ষেত্রে সবার আগে মনে রাখতে হবে, নিজেকে কীভাবে সতেজ দেখাবে সেই বিষয়টি। এক্ষেত্রে ত্বকের যত্নে হালকা পাউডার ব্যবহার করতে হবে। যাদের মুখে দাগছোপ আছে, তা ঢাকতে হালকা কনসিলার ব্যবহার করে তারপর পাউডার লাগাতে হবে। ওয়াটারপ্রুফ আইলাইনার আর হালকা কালারের ম্যাট লিপস্টিক সাজে পূর্ণতা আনবে। অনেক বেশি গ্লসি বা শাইনিভাবে সাজগোজ করা একেবারেই উচিত হবে না। আর ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে অবশ্যই তা পাউডার-বেইস্‌ড হতে হবে। ক্রিম-বেইস্‌ড ফাউন্ডেশন একেবারেই এড়িয়ে চলতে হবে।

টিনএজারদের সাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কথা হলো, তাদের সাজসজ্জা এমন হবে যাতে তাদের কৈশোরের সৌন্দর্য হারিয়ে না যায়। ভারী মেকআপ অনেক সময় তাদের চেহারায় বয়স্ক ভাব এনে দিতে পারে। তাই সাজার আগে এই বিষয়টি মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে তরুণী বা ৪০-ঊর্ধ্ব নারীদের ক্ষেত্রে মানানসই সাজসজ্জা অনেক বেশি জরুরি। নিজেকে সুন্দর ও স্বস্তিদায়কভাবে সাজাতে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

আরেকটি কথা, বর্তমানে চলছে ‘ন্যুড মেকআপ’-এর ট্রেন্ড। এ ধরনের মেকআপে সব ধরনের বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করা হলেও দেখলে মনে হবে কিছুই করা হয়নি। তাই আগের দিনের সেই জমকালো চোখ সাজানো বা গাঢ় লিপস্টিক অনেকেই এড়িয়ে চলেন।

তবে যা-ই করুন না কেন, যেকোনো ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকের যত্ন সবার আগে। এক্ষেত্রে ত্বকের ধরন বুঝে অবশ্যই বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্কিন ক্লিন করার পর টোনার এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পর কনসিলার এবং ফাউন্ডেশন দিয়ে তারপর পাউডার বা ফেস পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।

এত গেল সাজসজ্জা। এবার আসি পোশাকে। যেহেতু গরম, তাই সবার আগে সুতি বা আরামদায়ক ফেব্রিকের পোশাক বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। দিনের বেলায় যেহেতু বাসায় থাকা হবে, তাই সুতি কাপড়ের পোশাকই আরামদায়ক হবে। পোশাক স্বস্তিদায়ক হলে তা সাজগোজের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে; কারণ ভারী পোশাকে সাজসজ্জা নষ্ট হয়। তবে রাতের বেলা একটু ভারী পোশাক পরাই যায়। আর ঈদে একটু ভারী সাজ বা পোশাক উৎসবের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ঈদের রাতে চোখ সাজাতে সুন্দর করে আইশ্যাডো, আইলাইনার এবং মাসকারা বা আইল্যাশও ব্যবহার করা যেতে পারে। সেইসঙ্গে ব্লাশন ও হাইলাইটারের ছোঁয়া সাজে পরিপূর্ণতা আনবে। তবে এই বয়সিদের সাজের ক্ষেত্রেও এখন চলছে ন্যুড সাজের ধরন। কারণ সবাই নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন।

ঈদের দিনে বা রাতে তরুণী বা একটু বয়স্কদের অনেকেই শাড়ি পরেন, তাই চুলের ক্ষেত্রে খোঁপা করলে বা হেয়ার কাট অনুযায়ী স্টাইল হলে পরিপাটি সাজের পাশাপাশি রুচিশীলতারও প্রকাশ ঘটবে। টিনএজারদের চুলের সাজ প্রসঙ্গে কানিজ আলমাস বলেন, এখনকার কিশোরী বা তরুণীরা আগের দিনের মতো লম্বা চুলের ফ্যান নয়। তারা চায় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হেয়ার স্টাইল করতে। আর চুলের আকার যা-ই হোক না কেন, গরমের কথা বিবেচনা করে বেঁধে রাখাই ভালো হবে। যাদের ছোট চুল তারা ঝুঁটি করে বা ববি ক্লিপ ব্যবহার করতে পারেন—দেখতেও সুন্দর লাগবে আর আরামদায়কও হবে।

বিউটি এক্সপার্ট কানিজ বলেন, সাজসজ্জার ক্ষেত্রে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, তা হলো—ত্বকের ধরন বুঝে দু-একটি বিউটি প্রোডাক্ট বা মেকআপ সামগ্রী হলেই চলে। একই জিনিসের অনেকগুলো শেড বা রঙ কেনার কোনোই প্রয়োজনীয়তা নেই। অনেকে না বুঝে বিভিন্ন ধরনের ফাউন্ডেশন বা লিপস্টিক বা ফেস পাউডার কেনেন। এসবের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে বিউটি প্রোডাক্ট সবসময় ভালো মানের কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এর সঙ্গে ত্বকের সুস্থতা জড়িত। আর সুস্থ ত্বক হচ্ছে মনের প্রশান্তি।

মাংসের মজাদার চার পদ

চাঁদ ও মোটরসাইকেল

ঈদের প্রস্তুতি ও কেনাকাটা

কোরবানি ঈদে মাংসের ভূরিভোজ

পরিমিত মাংস খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

ঈদের সকালে মিষ্টি খাবার

কোরবানির আগে ফ্রিজ প্রস্তুত তো...

ঝরনার নাম তোজেংমা

কাঁঠালে রসনা তৃপ্তি

প্রতিদিনই হোক মা দিবস