প্রত্যেকেই তার ঘরটি সুন্দর ও ঝকঝকে রাখতে চান। এজন্য অবশ্যই ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঘরের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ঝকঝকে সাদা টাইলস ঘরটি করে তোলে আরো বেশি উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয়।
টাইলস ও ব্যবহার : বর্তমানে ভবনের অন্দরে-বাইরে থিমভিত্তিক নকশার প্রচলন চলছে। তাই হরেক রকম টাইলসও পাওয়া যাচ্ছে। তবে মার্বেল, কংক্রিট, পোরসেলিন ও সিরামিক টাইলসের ব্যবহার চোখে পড়ছে বেশি। কোনো টাইলস মেঝের তাপ ও চাপ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। আবার কিছু টাইলস দেখতে সুন্দর হলেও ভঙ্গুর প্রকৃতির। কিছু টাইলস আর্দ্রতা সয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তপোক্ত হয়, কিছু আবার আর্দ্রতা পেলে ক্ষয় হতে শুরু করে। তাই মেঝে বা দেয়াল যেখানেই টাইলস ব্যবহার করা হোক, সুবিধা-অসুবিধা আর পরিষ্কার করার উপায় জেনেই দীর্ঘস্থায়ী টাইলস লাগানো উচিত।
যা দিয়ে পরিষ্কার করবেন : টাইলসের কঠিন ও জেদি দাগ দূর করতে সাদা ভিনেগার, বেকিং সোডা কিংবা বিশেষ বাণিজ্যিক টাইলস ক্লিনার ব্যবহার করা যায়। নিয়মিত টাইলস পরিষ্কার করার জন্য প্রয়োজন মাইক্রোফাইবার কাপড়, সাধারণ ডিটারজেন্ট বা সোপ, হালকা গরম পানি, নরম ঝাড়ু বা ব্রাশ। টাইলস সহজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়েছে নানারকম নিয়ম। টাইলস ঝকঝকে পরিষ্কার রাখার কিছু টিপস ও পরামর্শ দেওয়া হলো।
সিরামিক : বাজারে বিভিন্ন আকারের চকচকে রঙবেরঙের সিরামিক টাইলস পাওয়া যায়। আজকাল আনগ্লেজড সিরামিক পাওয়া যায়। এই টাইলসগুলোর চাপ সহ্য করার ক্ষমতা কম, তাই পরিষ্কার করার সময় শক্ত ব্রাশ ব্যবহার না করাই ভালো। ডিশ সোপ বা সাদা ভিনেগার আর হালকা গরম পানি ব্যবহার করে সহজেই এ টাইলসের দাগ পরিষ্কার করা যায়; এতে টাইলসের চকচকে ভাবটাও অটুট থাকে। আর স্পঞ্জের কাপড় ব্যবহার করে টাইলস পরিষ্কার করলে অবশ্যই বারবার ময়লা পানি পরিবর্তন করতে হবে। সেইসঙ্গে পরিষ্কার করে পানি শুকিয়ে যাওয়ার আগে শুকনা সুতি কাপড় দিয়ে মেঝে মুছে ফেলতে হবে। তাহলে টাইলসে পানির ছোপ ছোপ দাগ লেগে থাকবে না।
পোরসেলিন : কম ভঙ্গুর ও সহজে দাগ পড়ে না বলে মেঝের টাইলস হিসেবে পোরসেলিন বেশ জনপ্রিয়। এতে নানা রকমের নকশা কপি করা যায়। মার্বেল বা কাঠের টেক্সচার—সবই হুবহু কপি করা যায়। পোরসেলিনের টাইলসও তরল সাবান অথবা ভিনেগারের সঙ্গে কুসুম গরম পানি মিশিয়ে পরিষ্কার করা যায়। তবে রান্নাঘর বা বাথরুমের টাইলসের হলদে ভাব কাটানোর জন্য সপ্তাহে একবার অ্যাসিডিক বা ব্লিচ ক্লিনার সল্যুশন ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি স্প্রে বোতলের সাহায্যে নোংরা জায়গায় ক্লিনার সল্যুশন স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। তারপর হাতে গ্লাভস পরে বাথরুমের ব্রাশ দিয়ে হালকা করে ঘষে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। সরাসরি ক্লিনার সল্যুশন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই টাইলসে অল্প করে ফেলে পরীক্ষা করে নেবেন, টাইলসের রঙ পরিবর্তিত হয়ে যায় কি না। অ্যাসিডিক ক্লিনার ব্যবহারে অনেক সময় টাইলস ক্ষয় হয়ে যায় বা বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে। তাই এ ধরনের ক্লিনার ব্যবহার করার আগে এর পিএইচ লেভেল দেখে কেনা উচিত।
টেরাকোটা টাইলস : ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা টাইলস পরিষ্কার করার আগে প্রথমেই ভ্যাকুয়াম করা বা শুকনা কাপড় দিয়ে ধুলা মুছে নেওয়া উচিত। শক্ত ময়লার জন্য প্রয়োজনে ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। হালকা গরম পানি আর ডিশ ওয়াশার দিয়ে মুছে নিলেই এসব টাইলসের ময়লা ভাব কেটে যায়। অতিরিক্ত ময়লার জন্য অক্সালিক অ্যাসিড আর পানির মিশ্রণ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। হালকা গরম পানি আর ডিশ ওয়াশার দিয়ে মুছে নিলেই ময়লা ভাব কেটে যায়।
কুয়েরি টাইলস : অনেকটা টেরাকোটা ধরনের টাইলস, তাই পিএইচ নিরপেক্ষতা বুঝে তেমন ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেলাই ভালো। এই টাইলসে অ্যাসিডিক ক্লিনার ব্যবহারে টাইলস ক্ষয়ে যেতে পারে।
জেল্লিজ টাইলস : এটি মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষত মরক্কোর তৈরি একধরনের পোড়ামাটি টাইলস। মেটে মেটে রঙের জ্যামিতিক নকশায় সাজানো এই টাইলসে ‘হাতে তৈরি’ ভাব থাকায় মিনিমালিস্ট ভক্তদের খুব পছন্দ। এই টাইলস বারান্দায় বা রান্নাঘরের দেয়ালে ব্যবহার করলে দু-চার দিন পরপর শুকনা কাপড় দিয়ে ধুলা পরিষ্কার করে নিতে হবে। অম্লধর্মী ক্লিনারের সাহায্যে এই টাইলস পরিষ্কার না করা ভালো।
স্লেট টাইলস : সাদা-কালো রঙের বাড়ির জন্য স্লেট টাইলস। তামাটে কয়লা বা রুপালি রঙের মিশ্রণে এই টাইলসগুলা হয়ে থাকে। সাধারণত বাসার বাইরের রান্নাঘর, বারান্দা ও কটেজে ব্যবহারের উপযোগী। এমন টাইলস দু-এক দিন পরপর ভ্যাকুয়াম করে বা শুকনা কাপড়ে মুছে রাখলে দেখতে সুন্দর লাগবে।
মার্বেল : মার্বেলের টাইলস সহজেই ঘর আলোকিত করে তোলে। গ্রানাইটের চেয়ে কম সহনীয় ও ভঙ্গুর হওয়ায় অন্দরে বেশি ব্যবহার করা হয়। মার্বেলের টাইলস যত্ন নিয়ে ব্যবহার করলে অনেক বছর পর্যন্ত নতুনত্বের ভাব রয়ে যায়। তবে অম্লধর্মী ক্লিনার মার্বেলে ব্যবহার করা যাবে না। মার্বেলের টাইলসে দাগ পড়লে এক চামচ বেকিং সোডা আর পানি মিশিয়ে পেস্ট করে দাগ বা ময়লা জায়গায় লাগাতে হবে। এরপর প্লাস্টিকের র্যাপিং দিয়ে মুড়িয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। শেষে সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিলে দাগও পরিষ্কার হবে, সেইসঙ্গে মার্বেলের ঝকঝকে ভাব ফিরে আসবে।
টাইলস যে ধরনেরই হোক না কেন, সাধারণ কিছু জিনিস মনে রাখা জরুরি।
অনেক সময় দাগ বা ময়লা দুই কাটিং টাইলসের মাঝে বেশি লেগে থাকে। অনেকে এসবের জন্য স্টিমিং ক্লিনিংয়ের পরামর্শ দিলেও এটি টাইলসের জন্য ক্ষতিকর। তাই এতে বেকিং সোডা আর পানির পেস্ট তৈরি করে কয়েক ঘণ্টা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে রাখাই ভালো। অথবা রাতভর এভাবে রেখে সকালে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায় সিলিকন বেজ সিলিং করিয়ে নিলে। এতে ময়লা, আর্দ্রতা বা পানি—কোনোটাই টাইলসের ক্ষয় করতে পারে না।