হোম > ফিচার > আমার জীবন

শিশুদের জন্য রমজান যেমন

আনিকা রহমান

প্রতিটি মুসলমানের জন্য পবিত্র রমজান মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রমজান মাসে বাড়ির প্রতিটি সদস্য রোজার জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। শিশুরাও এর ব্যতিক্রম নয়। বড়দের প্রস্তুতি দেখে তারাও মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়। শিশুরাও বড়দের দেখে রমজানের রোজা রাখতে উৎসাহিত হয়। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত শেখানো বাবা-মায়ের দায়িত্ব। পবিত্র রমজান মাসটি শিশুদের কেমন কাটবে এবং তাদের সঙ্গে কীভাবে উদ্‌যাপন করবেন, তা জেনে নিন—

* রমজান মাসের ফজিলত জানতে তাদের পড়ার টেবিলে ধর্মীয় বই রাখুন। ধর্মীয় বই পড়ায় তাদের মনোযোগ বাড়াতে সহযোগিতা করুন। আপনি নিজে কোরআন পড়ুন। শিশুদের সুরা বা দোয়াগুলো শেখানোর চেষ্টা করুন।

* পবিত্র কোরআন শরিফে নাজিল হওয়া বিভিন্ন দোয়া ও ঘটনার বাংলা অর্থ শিশুদের পড়ে শোনান। নবী-রাসুলের জীবনী নিয়ে খুব সুন্দর বই পাওয়া যায়, সেগুলো তাদের সঙ্গে নিয়ে পড়তে পারেন।

* শিশুদের নিয়ে খাবার টেবিলে একসঙ্গে ইফতার করুন। সবার সঙ্গে বসে খাওয়ার সহবত শেখান।

* আপনি আপনার জীবনের যে প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ, তা নোটপ্যাডে লিখে রাখুন। সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানান। মনে রাখবেন, আপনার শিশু আপনাকেই অনুকরণ বা অনুসরণ করবে। এসব কাজ শিশুদের প্রভাবিত করবে। সেও এভাবে ভাবার চেষ্টা করবে। নিজে বিনয়ী হোন এবং শিশুকেও বিনয়ী হতে শিক্ষা দিন।

* ইসলামে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে যেসব কথা বলা আছে, তা গল্পচ্ছলে শিশুদের বলুন। সম্ভব হলে ও সামর্থ্য থাকলে প্রতিবেশীদের ইফতার দিন। শিশুদেরই দায়িত্ব দিন ইফতার পৌঁছে দেওয়ার, দেখবেন তারা আনন্দের সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করেছে। এতে তাদের মধ্যে মানবিকতাবোধ ও আন্তরিকতা জন্ম নেবে। মাঝে মাঝে পাড়ার ছোট ছোট শিশুকে ইফতারিতে দাওয়াত দিন।

* শিশুরা রোজা রাখলে তাদের ছোট ছোট উপহার দিয়ে আরো উৎসাহিত করতে পারেন। নামাজ ও কোরআন পাঠে, সুরা মুখস্থ করার প্রতিযোগিতা করতে এবং তাদের পুরস্কৃত করতে পারেন।

* বাড়ির সাজসজ্জায় রোজার আবহ আনুন। রমজানে কিছু আইটেম আপনার প্রিয় শোকেস কর্নারে রাখুন। যেমন কোরআন, জায়নামাজ, তসবি, হিজাব, খেজুরের বাক্স, হাদিস-গ্রন্থ, ইসলামিক থিমযুক্ত বিভিন্ন শোপিস রাখতে পারেন। রমজানের আনন্দ চারদিকে ছড়িয়ে দিন। আর তাতে রমজানে ইসলামিক থিমযুক্ত ক্যানভাস বাড়ির দেয়ালে লাগান। আর এ পুরো কাজটায় শিশুদের সাহায্য নিন।

* রমজানে কিছু ভালো কাজ করায় শিশুদের উৎসাহিত করুন। সবার সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়ার শিক্ষা দিন। অসহায় ও এতিম শিশুদের মাঝে সামর্থ্য অনুযায়ী দান করুন। শিশুদের সদকা দেওয়ার একটি অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন প্রথম রোজা থেকে শুরু করে ৩০ রোজা পর্যন্ত সদকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের টাকা জমানোর জন্য একটি ব্যাংক কিনে দিন।

* ইফতার তৈরির কাজে শিশুদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করুন। টেবিল সাজাতে শিশুদের কাজে লাগান। শরবত বানানো, টেবিলে প্লেট-বাসন দেওয়া এবং ইফতার সাজানোর মতো কাজগুলো করতে দিন।

প্রতিদিন ইফতারে মুখরোচক খাবার নয়, স্বাস্থ্যকর খাবার কী করা যায়, সেজন্য শিশুদের কাছে পরামর্শ চান। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্বজ্ঞান বাড়বে। তারা দায়িত্বশীল হয়ে গড়ে উঠবে এবং বড় হয়ে যেকোনো কাজে সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

আসলে রমজান মাস পরিবারের সবার মধ্যে বন্ধন মজবুত করে। রমজান গুরুত্বপূর্ণ সময়। চেষ্টা করুন, শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষা ও সময় দিতে, প্রতিটি বিষয়ে আগ্রহ বাড়াতে এবং জীবনে চলার জন্য ধর্মীয় আলোকে সুন্দর মূল্যবোধ তৈরি করে দিতে।

সাহরির তিন পদ

ঈদের কেনাকাটা

শুরু হোক রোজার প্রস্তুতি

শহীদ ভাইদের স্মরণে

বসন্ত এসে গেছে

নীল দিগন্তে নোনা পানি আর প্রবালের মিতালি

ঘুণপোকা থেকে কাঠের আসবাব রক্ষায় করণীয়

কর্মক্ষেত্রে একঘেয়েমি দূর করতে...

ভিন্ন স্বাদের খাবার

কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রয়োজন মানসিক শক্তি