শিক্ষা মানে শুধু বইপুস্তকের জ্ঞান নয়; শিক্ষা মানুষকে দক্ষ করে, সচেতন করে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলে। আর সেই শিক্ষাকে আরো বিস্তৃত ও কার্যকর করতে প্রয়োজন নানা ধরনের সহায়ক উদ্যোগ। জ্ঞানচর্চা, দক্ষতা উন্নয়ন, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শিক্ষাঙ্গনে মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার মতো বহুমুখী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সেই কাজটিই করে যাচ্ছে হাসানাহ ফাউন্ডেশন।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় দুই দিনব্যাপী ‘Principles of Islamic Finance : From Riba to Halal Alternatives’ শীর্ষক ওয়ার্কশপ। অভিজ্ঞ স্কলার, গবেষক ও প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ইসলামি অর্থব্যবস্থার মৌলিক নীতিমালা, রিবা ও এর শরিয়াহসম্মত বিকল্প, সমকালীন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ইসলামি ফাইন্যান্সের প্রয়োগ এবং আর্থিক লেনদেনে শরিয়াহর বিধিবিধান সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
একইভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে দক্ষ শিক্ষক তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে হাসানাহ। এর অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় পাঁচ দিনব্যাপী ‘আরবি ভাষা শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম’। এতে আধুনিক ও ফলপ্রসূ শিক্ষাদান পদ্ধতি, পাঠ পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বিকাশ এবং একজন যোগ্য আরবি ভাষা শিক্ষক হয়ে ওঠার বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা ভবিষ্যতে আরবি ভাষা শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শুধু প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক কার্যক্রম নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ। পাহাড়ি জনপদের শিক্ষাযাত্রায় সহায়তার লক্ষ্যে রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারে ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০০ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় শিক্ষাসহায়ক উপকরণ। স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ উদ্যোগ প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘শিক্ষাঙ্গনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে হাসানাহ ফাউন্ডেশন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সবুজায়নে এই কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে তাদের কর্মকাণ্ডে। ‘শিক্ষাঙ্গনে সুপেয় পানি প্রকল্প’-এর আওতায় রংপুরের আরো দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি একটি টিউবওয়েল ও একটি সাবমার্সিবল স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ সরাসরি তাদের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত। মাঠপর্যায়ে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই করে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়।
হাসানাহ ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মো. মনিরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, শিক্ষার আলোকবর্তিকা হয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে হাসানাহ ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারির দূরদর্শী নেতৃত্ব ও প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় হাসানাহ ফাউন্ডেশনের এই কল্যাণমুখী প্রয়াস আজ শহর থেকে গ্রাম—সব বয়সের ও শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।