বেসরকারি কোম্পানিগুলোতে নারীদের চাকরির সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। সেলস, মার্কেটিং, অ্যাকাউন্টস, অডিট, এমআইএসসহ বিভিন্ন বিভাগে তারা কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সাফল্যও উল্লেখ করার মতো। তবে পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক নারীকে শুরুতেই একটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়—অভিজ্ঞতার অভাব।
বেশিরভাগ চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। ফলে সদ্য স্নাতক নারীদের অনেকেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আবেদন করার সুযোগ পান না। তবে প্রবল ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতা থাকলে অভিজ্ঞতা ছাড়াই কর্মজীবন শুরু করার একটি সুযোগ হতে পারে ব্র্যান্ড প্রমোটর পদ।
দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী বা বিপণনকারী কোম্পানি নিয়মিত ব্র্যান্ড প্রমোটর নিয়োগ করে। পণ্য বা ব্র্যান্ডের পরিচিতি ভোক্তার সামনে তুলে ধরা এবং তাদের পণ্য সম্পর্কে ধারণা দেওয়া মূলত ব্র্যান্ড প্রমোটরের কাজ।
কী কাজ করতে হয় ব্র্যান্ড প্রমোটরকে
ব্র্যান্ড প্রমোটরদের প্রধান কর্মক্ষেত্র সাধারণত সুপারশপ। একটি সুপারশপে অনেক সময় একটি কোম্পানির একজন ব্র্যান্ড প্রমোটর দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে কি না, পণ্যগুলো নির্ধারিত স্থানে সঠিকভাবে সাজানো হয়েছে কি না, পণ্যের ডিসপ্লে দৃষ্টিনন্দন কি না—এসব বিষয় তাদের দেখতে হয়। পণ্যের সাইনবোর্ড, গন্ডোলা বা ডিসপ্লে স্ট্যান্ড থাকলে সেগুলো ঠিকঠাক আছে কি না, তাও নজরে রাখতে হয়। কোনো পণ্যের মজুত কমে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্ডারের ব্যবস্থা করা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কোম্পানিকে জানানোও দায়িত্বের অংশ। এর পাশাপাশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে পণ্যের গুণাগুণ, ব্যবহার, মূল্য, ছাড় ও বিভিন্ন অফার সম্পর্কে জানাতে হয়। অর্থাৎ একজন ব্র্যান্ড প্রমোটরকে শুধু পণ্য সাজিয়ে রাখলেই হয় না; ক্রেতাকে পণ্যটি সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলার দক্ষতাও থাকতে হয়।
অভিজ্ঞতা না থাকলেও সুযোগ
ব্র্যান্ড প্রমোটর পদে চাকরির জন্য সাধারণত পূর্ব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। সদ্য স্নাতক বা চাকরির বাজারে নতুন নারীরাও এ পেশায় প্রবেশের সুযোগ পান। অনেক কোম্পানি নিয়োগের পর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষেত্রে পাঠায়। চটপটে, উদ্যমী, স্মার্ট এবং মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন—এমন প্রার্থীদের এ ধরনের কাজে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে স্নাতক ডিগ্রি থাকলে চাকরির সুযোগ তৈরিতে তা সহায়ক হতে পারে।
কর্মপরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা
ব্র্যান্ড প্রমোটরদের বড় একটি অংশ সুপারশপে কাজ করেন। বর্তমানে অনেক সুপারশপে কর্মপরিবেশ তুলনামূলকভাবে উন্নত। বিক্রির স্বার্থেই সুপারশপ কর্তৃপক্ষ ব্র্যান্ড প্রমোটরদের কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে থাকে। সাধারণত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। দেশি কোম্পানিগুলো অনেক ক্ষেত্রে প্রতিটি সুপারশপে একজন ব্র্যান্ড প্রমোটর নিয়োগ করে। আবার কিছু বিদেশি কোম্পানি পণ্যভেদে আলাদা ব্র্যান্ড প্রমোটর নিয়োগ দেয়। কোম্পানির নির্ধারিত পোশাক থাকলে সেটিও পরিধান করতে হয়। ব্র্যান্ড প্রমোটরকে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হয়। পণ্যের গুণাগুণ, দাম, ভোক্তা অফার, মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন তথ্য তার জানা থাকা জরুরি। কারণ ক্রেতার যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় তাকে। কোম্পানিগুলো সাধারণত বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ব্র্যান্ড প্রমোটর নিয়োগ করে। পাশাপাশি আগ্রহীরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির হেড অফিসে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েও সুযোগের সন্ধান করতে পারেন।
বেতন ও বাড়তি সুবিধা
কোম্পানি ও দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী ব্র্যান্ড প্রমোটরদের বেতন ভিন্ন হতে পারে। লেখকের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাসে প্রায় ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করার সুযোগ রয়েছে। এর বাইরে পণ্যভিত্তিক ইনসেনটিভ, টার্গেট ইনসেনটিভসহ বিভিন্ন সুবিধাও কিছু কোম্পানি দিয়ে থাকে। কাজের ভালো পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বছর শেষে পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধির সুযোগ থাকতে পারে। কোনো কোনো কোম্পানি মোবাইল সেট ও বিল, ব্যাগ, ক্যালকুলেটর, ছাতা, ডায়েরিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীও দিয়ে থাকে। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের পর ব্র্যান্ড প্রমোটর থেকে ব্র্যান্ড সুপারভাইজার পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগও রয়েছে।
ফুলটাইম কাজ, কোথাও পার্টটাইমের সুযোগ
ব্র্যান্ড প্রমোটরের চাকরি সাধারণত ফুলটাইম। তবে কোনো কোনো কোম্পানি বিশেষ মার্কেটিং কর্মসূচি পরিচালনা করলে সেখানে অতিরিক্ত বা পার্টটাইম কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।