হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ

আমার দেশ অনলাইন

বিশ্বে বর্তমানে তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রায় ২৬ কোটি তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। আরব বিশ্বে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণের বেশি। এমতাবস্থায় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘদিন কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা তরুণদের মধ্যে হতাশা, বিচ্ছিন্নতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। অথচ বর্তমান প্রজন্ম আগের চেয়ে বেশি শিক্ষিত, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে শুধু দক্ষ জনশক্তি তৈরি করলেই হবে না, তাদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের কারণে শ্রমবাজারেও বড় পরিবর্তন আসছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবে, বিশ্বে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের প্রভাবে পড়বে। তবে সব চাকরি বিলুপ্ত হবে না; বরং অনেক কাজের ধরন পরিবর্তিত হবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

আরব বিশ্বে এই চ্যালেঞ্জ আরও অনেক বড়। এ অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের বয়স ৩০ বছরের নিচে। অর্থাৎ, এখানে তরুণের সংখ্যা ৩০ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ১১ কোটি মানুষের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে, যাদের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হিসাবে কর্মক্ষম বয়সের তরুণ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু গত বছর এ অঞ্চলে তরুণদের বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। ২০১০ সালে আরব বসন্তের আগে এই অঞ্চলের শ্রমশক্তিতে থাকা প্রতি চারজন তরুণের মধ্যে প্রায় একজন বেকার ছিলেন। ১৫ বছর পরও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। এখনও প্রায় প্রতি চারজন তরুণের একজন বেকার। এক প্রজন্ম বদলে গেছে, কিন্তু আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সমস্যা—তরুণদের বেকারত্ব—এখনও রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই উন্নয়নের মূল ধারণা হওয়া উচিত মানুষ, পরিবেশ ও সমৃদ্ধির সমন্বয়। শুধু কার্বন কমানো বা পরিবেশবান্ধব প্রকল্প গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়। কোনো প্রকল্প পরিবেশের জন্য ভালো হলেও যদি স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি না করে, তাহলে তার টেকসই সাফল্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। একইভাবে, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেও কোনো শিল্প যদি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে, সেটিও পূর্ণাঙ্গ টেকসই উন্নয়ন নয়।

এ কারণে বড় বিনিয়োগ, অবকাঠামো প্রকল্প, শিল্পনীতি ও সবুজ অর্থনীতির উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারগুলোর তিনটি বিষয় বিবেচনা করা উচিত—এতে কতটা অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হবে, কত মানুষ এর মাধ্যমে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হতে পারবে এবং পরিবেশের সীমার মধ্যে থেকে সেই উন্নয়ন সম্ভব কি না।

তরুণদের কাছে টেকসই উন্নয়ন শুধু ২০৫০ সালের কোনো দূরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে না। তাদের জন্য এর বাস্তব অর্থ হতে হবে আজকের কর্মসংস্থান, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এবং আগামী দিনের নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

সূত্র: দ্য ন্যাশনাল নিউজ

মেডিকেল ছেড়ে প্রথম বিজেএসেই পঞ্চম শাওলিন

দেশীয় স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির নতুন অধ্যায়ের কারিগর শাহীনুর

কাজের মধ্যেই তৈরি হয় ক্যারিয়ার

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সাকিরুলের হুইলচেয়ার

ইউসিএলের ৫৫ অনলাইন কোর্সে বিনা মূল্যে শেখার সুযোগ

গাছের কান্না শুনে ছুটে চলেন রাতুল মুন্সি

অভিজ্ঞতা ছাড়াই নারীদের ব্র্যান্ড প্রমোটর হওয়ার সুযোগ

প্রথম বিজেএসেই সিভিল জজ

শিক্ষকতায় জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তির সমন্বয় জরুরি

চিকিৎসকদের বিসিএস প্রস্তুতির কৌশল