মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের পাঠাগার মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন। প্রায় ১৩ শতক পুরোনো এই পাঠাগারে রয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি দুর্লভ বই ও পাণ্ডুলিপি।
গ্র্যান্ড মসজিদ পাঠাগারের পরিচালক ড. আবদুর রহমান বিন সাদ আল-শেহরি জানান, আব্বাসীয় খলিফা আল-মাহদির শাসনামলে ১৬০ হিজরি মোতাবেক ৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞানচর্চা সমৃদ্ধ করা, গবেষণার উপকরণ সরবরাহ করা এবং দুই পবিত্র মসজিদের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
১৩ তলা ভবনজুড়ে পাঠাগারটির আয়তন দুই হাজার বর্গমিটারের বেশি। এখানে পুরুষদের জন্য পাঁচটি ও মহিলাদের জন্য একটি পড়ার ঘর, সভা ও প্রশিক্ষণ ঘর, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও মুসলিম ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার কেন্দ্র এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রযোজনা বিভাগ রয়েছে।
গ্রন্থাগারে ৬ হাজার ৮৪২টি মূল পাণ্ডুলিপি, আরবি ও বিদেশি ভাষায় পাণ্ডুলিপির ২ হাজার ৬৩৪টি অনুলিপি, প্রায় ২ লাখ বই এবং আট হাজার দুর্লভ বই রয়েছে। পাশাপাশি ৪০টি ব্যক্তিগত ওয়াক্ফ গ্রন্থাগার ও পুরোনো সংবাদপত্রের ৪ হাজার ৪৪৩ খণ্ড রক্ষিত আছে। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও ক্ষয়প্রাপ্ত বই সংস্কারের জন্য রয়েছে বিশেষ বিভাগ।
দুর্লভ বই ও পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণে গ্রন্থাগারটি ডিজিটাল প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে। গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি ও বইয়ের ডিজিটাল কপি তৈরি করে অনলাইনে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে সেগুলো ক্ষতি বা হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায় এবং গবেষকদের কাছে সহজে পৌঁছানো যায়।
গ্রন্থাগারের সংগ্রহে ১২৩৯ হিজরিতে কনস্টান্টিনোপলের আল-তিবাআ আল-আমিরা ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত ‘আল-মুস্তাতাব’, ১২৫৮ হিজরিতে আল-খলিফা আল-আলিয়া ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত ‘মাজমাউল আনহুর ফি শারহি মুলতাকাল আবহার’ এবং ১২৬০ হিজরিতে প্রকাশিত ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়ির’-এর দুর্লভ সংস্করণও রয়েছে।
সূত্র : আরব নিউজ
গ্রন্থনা : সিয়াম আন নুফাইস