হোম > সাহিত্য সাময়িকী > বাংলার ইতিহাস

আওয়ামী লীগের ভোট জালিয়াতির ইতিহাস

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন ১৯৭৩

জিবলু রহমান

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে আনতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মাঠে নেমে পড়ে। সারা দেশে হামলা ও সহিংসতা চলতে থাকে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে বিনা ভোটেই বেশ কয়েকজনকে এমপি ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল আসার পর দেখা যায়, ব্যাপক ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ একচ্ছত্র বিজয় অর্জন করেছে। ফলে বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন হয়ে যায় এ দেশের ইতিহাসের অন্যতম কলুষিত নির্বাচন।

নির্বাচনের ঘোষণা

১৯৭২ সালে তৎকালীন গণপরিষদের নব্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রস্তাব উত্থাপিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচনি প্রস্তুতি ও প্রচারের হিড়িক পড়ে যায়। এই নির্বাচনি প্রস্তুতি ও প্রচার আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নারী ধর্ষণ প্রভৃতি প্রবণতার বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য প্রদানের সুযোগ করে দেয়। সে সময় মওলানা ভাসানীর মতো তেজোদৃপ্ত নেতাকে নির্বাচনি প্রস্তুতি ও প্রচার থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে সব রকমের চেষ্টা করা হয়, আর সেই প্রচেষ্টায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ দেয় ন্যাপ (মোজাফফর) ও সিপিবির (মণি সিং) মতো আওয়ামী বি-টিমগুলো। মওলানা ভাসানী দেশের সর্বত্র তাদের এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দাবানলের দাহ ছড়িয়ে দেন। সাপ্তাহিক হককথার ডিক্লারেশন বাতিল হওয়ার পর প্রকাশিত বুলেটিন ‘সত্যকথার’ ২৭ অক্টোবর, ১৯৭২ সংখ্যায় প্রদত্ত এক বাণীতে মওলানা ভাসানী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে হিন্দুস্তানসহ তামাম সাম্রাজ্যবাদী ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য ন্যাপ আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচনে ভারতবাদীদের রাজ খতম করার জন্য দুর্বার গণজাগরণ সৃষ্টি করুন। দেশের সর্বত্র আজ ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-বুদ্ধিজীবী-চাকুরে-ছোট ব্যবসায়ী সবাই ভারতের বিরুদ্ধে চরম ঘৃণা ও বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। সারা দেশেময় এই বিক্ষোভের আগুন যেকোনো মুহূর্তে জ্বলে উঠতে পারে। তাই আজ এই বিক্ষোভকে সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শত্রুর বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে হবে। এই পবিত্র উদ্দেশ্য সামনে রেখে দেশের প্রতিটি জায়গায়, প্রতিটি পাড়া, গ্রাম, থানা-শহর, প্রত্যেক কৃষক ও শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী ও চাকরিজীবীদের এলাকায় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও কৃষক সমিতির শাখা গঠন করুন। আগামী নির্বাচনে ভারতবাদীদের কবর রচনা করুন।’

১ জানুয়ারির ছাত্র হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশব্যাপী স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়াকে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত বলে অভিহিত করতে থাকে। ২০ জানুয়ারি নবগঠিত যুবলীগের সভায় ‘বিরোধীদের নির্মূল করা’র সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন সম্পর্কে লীগ নেতারা বলতে শুরু করেন, ‘এই নির্বাচন হবে মুজিববাদের ওপর ম্যানডেট।’

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ধার্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা বেঁধে দেয়। সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যে তিনটি ধারার জন্ম হয়। এই তিনটি ধারা ছিল—ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে সাতদলীয় ঐক্যজোট এবং ন্যাপ মোজাফফর-সিপিবির মণি সিংয়ের নেতৃত্বে দুই দলীয় ঐক্যজোট।

এর মধ্যে প্রথম দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য ৩০০ আসনে, দ্বিতীয় দল ১৭০ আসনে এবং তৃতীয় দল (২২৪+৪) ২২৮ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। তাছাড়া নবগঠিত জাসদ ২৩৭; বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ৮; বাংলা জাতীয় লীগ, কৃষক শ্রমিক সমাজবাদী দল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (লেনিনবাদী) ও স্বতন্ত্র ১২০ এবং বাংলা ছাত্র ইউনিয়ন প্রভৃতি সংগঠন কিছু কিছু আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। তখন আওয়ামী নেতৃবৃন্দ ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সব চুক্তিকে শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে নির্বাচনি প্রচার চালাতে থাকে।

মওলানা ভাসানী যখন ঘোষণা করেন—তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, তখনই আওয়ামী লীগ ও তার বি-টিম একই নম্বরের ভারতে ছাপানো নোট দিয়ে জনগণ ও ন্যাপ নেতাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তাদের এই ধরনের হীন মনোভাবের বহিঃপ্রকাশে মওলানা ভাসানী তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। হাজার হাজার একই নম্বরের নোট তিনি সাংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপনের মাধ্যমে জনগণের গোচরে আনেন। সরকারকে তিনি এসব নোট বাতিলের আহ্বান জানান; কিন্তু সরকার তার কথায় সাড়া না দেওয়ায় ১৯৭৩ সালের প্রথম দিকে মওলানা ভাসানী জনগণের উদ্দেশে জাল নোটের ছবি-সংবলিত এক প্রচারপত্র প্রকাশ করেন।

২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মুজিববাদের ওপর রায় চাইবে।’ ২০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করে। তাতেও তারা মুজিববাদের পক্ষে রায় চায়। কিন্তু সে প্রশ্ন অমীমাংসিতই ছিল যে, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকেও সংবিধান প্রণয়ন করেও মুজিববাদ প্রতিষ্ঠায় বাধা কোথায় ছিল? ফলে এই মুজিববাদের স্লোগান কেবল স্লোগান হিসেবেই ব্যবহার করতে থাকে আওয়ামী লীগ।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন’ শীর্ষক একটি প্রচারপত্রের লাখ লাখ কপি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিয়েছিল। সেখানে পশ্চিমাদের বৈরী মনোভাবের সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছিল। সেই প্রচারপত্রের অনুকরণে মওলানা ভাসানীর ন্যাপ ‘সোনার বাংলা মহাশ্মশান কেন?’ শীর্ষক প্রচারপত্র প্রকাশের মাধ্যমে গদিনশিন আওয়ামী লীগ সরকারের কার্যের ধারা বিবরণীর বর্ণনা দিয়েছিল।

মনোনয়ন বাছাইয়ে জালিয়াতি

৫ ফেব্রুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র জমাদানের সর্বশেষ সময়। ওইদিন সদ্য স্বাধীন দেশের ইতিহাসে সংযোজিত হয় গণতন্ত্র ধ্বংসের একটি লেবেল। সন্ধ্যায় মনোনয়নপত্র বাছাই করার পর নির্বাচন কমিশন জানায়, পাঁচজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে বিবেচিত হবে। এই পাঁচজন প্রার্থী ছিলেন—শেখ মুজিবুর রহমান (দুটি আসনে), সোহরাব হোসেন, তোফায়েল আহমদ, মোতাহার উদ্দিন এবং কেএম ওবায়দুর রহমান।

পাঁচজন প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি; বরং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন দেখা গেল, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, মনোরঞ্জন ধর, জিল্লুর রহমান ও রফিক উদ্দিন ভূঞার বিরুদ্ধেও কোনো প্রার্থী নেই। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার প্রেক্ষাপটে সব রাজনৈতিক দলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ভাষা ব্যবহৃত হয়।

ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নির্বাচনি প্রচারে ব্যবহার অব্যাহত রাখলেও বিরোধী দলগুলোর, বিশেষ করে ভাসানী ন্যাপ ও জাসদের জনসভাগুলোয় প্রচুর লোকসমাগম হচ্ছিল, যা বাংলাদেশের নির্বাচনে জনপ্রিয়তার একটি মূল মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। শেখ মুজিব এবং তার মন্ত্রীরা ত্রাণকাজের জন্য ব্যবহার্য হেলিকপ্টার নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করলেও বিরোধী দলগুলো ক্রমেই জোর সমর্থন পেতে থাকে। ফলে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সমর্থকরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার সমর্থকদের প্রতি ততই অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে থাকে।

এদিকে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে কারো কারো এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়। বিরোধী দলগুলো এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালায় এবং ক্ষমতাসীন দলের এমন আচরণকে ফ্যাসিস্ট মনোভাবের পরিচায়ক বলে অভিযোগ উত্থাপিত করে।

জাসদ মনোনয়নপত্র পেশ করার জন্য নতুন তারিখ স্থির করার দাবি জানায়। অন্য দলগুলোর পক্ষ থেকেও একই দাবি উত্থাপন করা হয়। নির্বাচনের দিন কী ঘটতে পারে, এ নিয়ে তারা আগাম আশঙ্কা প্রকাশ করতে থাকেন। বায়তুল মোকাররম চত্বরে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় জাসদের আ স ম আব্দুর রব ঘোষণা করেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূলে নয়, কারণ সরকার ভীতি প্রদর্শনের পন্থা বেছে নিয়েছেন।’

মওলানা ভাসানী নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে নওগাঁয় কৃষক সম্মেলনের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি ‘সরকারের ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ হন’ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, ‘সরকার সীমা ছাড়ানো দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে শ্রমিক হত্যা, গ্রাম ধ্বংস, বিরোধী সভায় গুলি, গণগ্রেপ্তার—সবই হচ্ছে সরকার ও রক্ষীবাহিনীর হাতে। বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে দেওয়া হচ্ছে না—ভয় দেখিয়ে, আটকিয়ে বা গুমের হুমকি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত; শুধু সরকারপক্ষের কথাই প্রচারিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের সব সম্পদ নির্বাচনি প্রচারে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ অবস্থা চললে দেশে গণতন্ত্র শেষ হয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে। তাই দেশকে রক্ষা করতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নামতে হবে।’

নির্বাচন সম্পর্কে ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘মস্কোপন্থি’ সাপ্তাহিক ‘সপ্তাহ’-র ২৩ ফেব্রুয়ারি সংখ্যার পর্যালোচনা রিপোর্টে বলা হয়, ‘শেখ মুজিব বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ‘ভাবী বঙ্গবন্ধু’ হওয়ার হাস্যকর প্রত্যাশা অনেক প্রার্থীর কাছেই একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজেই সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে কিছু কিছু প্রার্থী জোর-জবরদস্তি ও বলপ্রয়োগ করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পার হয়ে গেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ছাড়া যে দশজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের অনেকের নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু কিছু বিরোধী দল যে আপত্তি তুলেছে, তার কোনো কোনো অভিযোগ যে একেবারে ভিত্তিহীন নয়, এ কথা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

ন্যাপ (মোজাফফর) নেত্রী মতিয়া চৌধুরী ৩ মার্চ ঢাকার এক জনসভায় বলেন, ‘গত এক বছরে অবাধ লুটতরাজ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর রিলিফ চুরির বিশ্বরেকর্ড ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগ এবার বঙ্গবন্ধুকে একমাত্র পুঁজি করে জনতার কাছে ভোট চাইতে এসেছে। একদিকে মুখে গণতন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে আজও ‘সামনে আছে জোর লড়াই বঙ্গবন্ধু অস্ত্র চাই’ বলে আওয়ামী লীগ কর্মীরা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলেছে। এর নাম কি গণতন্ত্র?’ ৪ মার্চ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অভিযোগ করে, ‘ক্ষমতাসীন দল ত্রাস সৃষ্টি করে নিয়ন্ত্রিত দল ও একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে।’

৫ মার্চ দৈনিক সংবাদ-এ প্রকাশিত এক খবর থেকে জানা যায়, ৪ মার্চ সন্ধ্যায় তারাবো বাজারে ন্যাপের নির্বাচনি প্রচার মিছিলের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও গুলি চালায়। তারা স্থানীয় ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়ন অফিসের মূল্যবান কাগজপত্র, পোস্টার, আসবাবপত্র লুটপাট ও তছনছ করে এবং ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়ন অফিস অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত করে।

প্রথম জাতীয় নির্বাচন ফলাফল ও সহিংসতা

৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর ফলে এবং ১১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার ফলে ২৮৮ আসনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৫টা থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ফলাফল ঢাকার কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমে আসতে থাকে। সেখানে কর্মরত ছিলেন শত শত সাংবাদিক ও নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা। রাতে টেলিভিশনে নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত ফলাফলে জানা গেল, ন্যাপ-ভাসানীর ড. আলীম আল রাজী, আব্দুর রহমান, মশিয়ুর রহমান যাদু মিয়া (জেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন), রাশেদ খান মেনন ও সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, জাসদের শাহজাহান সিরাজ, মো. আব্দুল জলিল ও আব্দুস সাত্তার, ন্যাপ (মোজাফফর) অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ও মোশতাক আহমেদ চৌধুরী এবং জাতীয় লীগের আতাউর রহমান খান বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। টেলিভিশনে ফলাফল প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাত ১০টা নাগাদ সরকারের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে টেলিফোনের পর টেলিফোনে নির্দেশ আসতে থাকে তাদের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখার জন্য।

এ সম্পর্কে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সাড়াজাগানো ‘শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নির্বাচন জিততে ভয় দেখানো, ষড়যন্ত্র ও ব্যাপক কারচুপির পথ বেছে নেয়। প্রশাসন, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুরোপুরি দলীয় প্রচারে ব্যবহার করা হয়। অনেক জায়গায় বিরোধী প্রার্থীরা নিশ্চিতভাবে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের জিততে দেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও ভোট গণনার পর বিরোধীদের বিজয় ঘোষণাও করা হয়েছিল, কিন্তু পরে ফল বদলে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করে রক্ষীবাহিনী ও প্রশাসনের সহায়তায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে ফল পাল্টানো হয়। বিশেষ করে প্রভাবশালী বিরোধী নেতারা যেন সংসদে যেতে না পারেন, সেজন্য সব ধরনের অসৎ পন্থা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে নির্বাচন জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

নির্বাচন সম্পর্কে দৈনিক সংবাদ, দৈনিক গণকণ্ঠের প্রতিবেদন সন্ত্রাস, গুন্ডামি, নির্যাতন, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, পোলিং এজেন্ট প্রহৃত, অপহৃত, খুন প্রভৃতি খবর দেয়। ৮ মার্চের দৈনিক সংবাদ-এর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত কয়েকটি খবরের শিরোনাম ছিল— সিলেট-১ কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই; পটুয়াখালীতে ব্যালট পেপার ছিনতাই; ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম : ৩১ খানা ব্যালট পেপারসহ ২ ব্যক্তি গ্রেপ্তার; ধামরাইতে রক্ষীবাহিনী সন্ত্রাস চালিয়েছে : আমেনা; ঢাকা শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রসহ দেশের নানা স্থানে বিচিত্র ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া অন্যান্য শিরোনামে বলা হয়—নির্বাচন দারুণ অবাধ হয়েছে, একজনে একাধিক ভোট অবাধে দিতে পেরেছে; জাসদের দুজন হাইজ্যাক; ঢাকায় একটি কেন্দ্রে সংঘর্ষ, একটি কেন্দ্রে গুলি; পটিয়ার ভোট সশস্ত্র লোকেরাই দিয়েছে; কুমিল্লা শহরে ব্যাপক সন্ত্রাস : নির্বাচন প্রহসনে পরিণত; কালীগঞ্জেও সন্ত্রাস চলছে; রাজশাহীর ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাস, ভোটনাট্যের দুটি দৃশ্য; প্রভৃতি।

চূড়ান্ত নির্বাচনি ফলাফলে দেখা গেল, ক্ষমতাসীন দল ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ অর্থাৎ ২৯৩ আসন, অন্য সাতটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয় লীগের প্রধান ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক চিফ মিনিস্টার আতাউর রহমান খান, রাজশাহী-২ থেকে জাসদের প্রার্থী ময়েন উদ্দিন আহমেদ মানিক, জাসদের আব্দুস সাত্তার, চাঁদপুর থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ সরকার (পরবর্তী সময়ে তিনি জাসদে যোগ দেন), ব্যারিস্টার মো. সালাহ উদ্দিন (পরে তিনি ভাসানী ন্যাপে যোগ দেন), চাউ খোয়াই রোয়াজা এবং মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা বিজয়ী হন। এই নির্বাচনে মোট ১,৮৪,৬৫,০০০টি ভোট পড়ে। ৫৫ শতাংশ ভোটের মধ্যে ভাসানী ন্যাপের প্রার্থী ১০,০২,৭৭৭টি ভোট পান। জাসদ ও মোজাফফর ন্যাপও ভালো ভোট পায়। মোজাফফর ন্যাপের কয়েকজন যোগ্য প্রার্থী অনেক ভোট পেলেও সুপরিকল্পিতভাবে তাদের পরাজয়বরণ করানো হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাদে অন্যত্র যারা নির্বাচিত হন, তাদের প্রতি সরকারি দল বিশেষ মনোযোগ না দেওয়ায় তারা ভাগ্যচক্রে উত্তীর্ণ হন, কারচুপির বন্যায় ভেসে যাননি।

নির্বাচনি সন্ত্রাস ও কারচুপি সম্পর্কে আবু জাফর মোস্তফা সাদেক লিখেছেন—“... ৭ মার্চ সাধারণ নির্বাচনে ‘ঢাকার একটি কেন্দ্রে সংঘর্ষ, জাসদের দুজন হাইজ্যাক, ধামরাইতে রক্ষীবাহিনী সন্ত্রাস চালিয়েছে, কালীগঞ্জেও সন্ত্রাস চলছে, সিলেট-১ কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, পটুয়াখালীতে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কুমিল্লা শহরে ব্যাপক সন্ত্রাস, নির্বাচন প্রহসনে পরিণত, রাজশাহী ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাস’ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে মুজিব সরকার ক্ষমতাসীন হয়। ভোটের পর অনেকটা প্রকাশ্যেই শুরু হয় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী/জয় বাংলা বাহিনী/লাল বাহিনী/আওয়ামী যুবলীগসহ বিভিন্ন বেসামরিক ও আধা সামরিক, যথা: রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের বিরোধীদলীয় কর্মী গুম, ব্যাংক ডাকাতি, লুট, খুন, নারী হাইজ্যাক ও ধর্ষণের এক বিভীষিকাময় রাজত্ব।” (বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলন, পৃষ্ঠা : ৭৫)

৮ মার্চ নির্বাচনে কারচুপি ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সমস্ত দেশে প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। নির্বাচনের দিন প্রদত্ত ‘বাংলাদেশে কোনো বিরোধী দল নেই’ প্রধানমন্ত্রীর এই উক্তির প্রতিবাদে সকল রাজনৈতিক দল ক্ষোভে ফেটে পড়ে। মওলানা ভাসানী তখন পিজিতে চিকিৎসাধীন। তার অনুপস্থিতিতে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. রাজী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই উক্তির মাধ্যমেই সহজে অনুমান করা সম্ভব, নির্বাচনে কীভাবে ভয়ভীতি, সন্ত্রাস ও কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন প্রার্থীদের বিজয়ী করা হয়েছে। ...লালবাগ-রমনা আসনে প্রতি মিনিটে তিনটি করে ভোট পড়েছে, এটা কী করে সম্ভব? ...দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে প্রতি ১৮ সেকেন্ডে একটি করে ভোট দিয়ে সরকারি দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এ কি সম্ভব? একটি ভোট দিতে কত সময় লাগে?’

নির্বাচনে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝে জাসদ দুটি সিটে জয়লাভ করে এবং একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জাসদে যোগদান করায় জাসদের সংসদে সদস্যসংখ্যা দাঁড়ায় ৩। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাসদের বাঘা বাঘা নেতার বিজয়কে ছিনতাই করে। জাসদের সভাপতি মেজর জলিল, ইঞ্জিনিয়ার রসিদ, জাসদের সহসভাপতি ডা. আজহার উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এহসান আলী খানসহ অসংখ্য জাসদ নেতার বিজয়কে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

৯ মার্চ জাসদের এক সংবাদ সম্মেলনে মেজর জলিল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্বাচনের সময় প্রচলিত কোনো ন্যায়নীতির তোয়াক্কা না রেখে সমস্ত গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন, এতে তাকে আমি জাতির পিতা বলতে ঘৃণাবোধ করি।’ মেজর জলিল আওয়ামী লীগ সরকারকে সাম্রাজ্যবাদ ও নয়া উপনিবেশবাদের তাঁবেদার বলে অভিহিত করে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি বিজয়কে হিটলার, মুসোলিনি ও চিয়াং কাইশেকের বিজয়ের সঙ্গে তুলনা করেন।

১০ মার্চ সকালে কোটালীপাড়ার টুকুরিয়া গ্রামে চালানো হয়েছিল এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ পাঁচজনকে খুন এবং বেশ ক’জনকে গুম করে ফেলা হয়। ১১ মার্চ যুবলীগের নূরে আলম সিদ্দিকী এক সমাবেশে বলেন, ‘৭ মার্চের নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, তারা রাজাকার-আলবদর। স্বাধীনতার শত্রু এসব বিদেশি চরকে মুজিববাদের নিড়ানি দিয়ে উৎখাত করা হবে।’ তার এই উক্তির বিরুদ্ধে তখন সরকার থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে অভিনন্দন জানানো হয়।

নির্বাচনে ব্যাপকভাবে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ শুধু রাজনৈতিক শক্তিই বৃদ্ধি করেনি, নব্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশের সরকার পরিচালনায়ও লাভ করে একচ্ছত্র অধিকার। দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আচরণেও এ ধরনের মানসিকতার স্পষ্ট ছাপ পরিলক্ষিত হতে থাকে। নির্বাচনে যা হয়েছে, সেজন্য দুঃখ প্রকাশ না করে পক্ষান্তরে তারা চলতে থাকেন উল্টো পথে। নির্বাচনের পর মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ দেশের শিল্পাঞ্চলগুলো থেকে অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও কর্মীদের বহিষ্কারের অভিযান চালায়। তাদের যুক্তি ছিল, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়লাভ করেছে এবং সরকার শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ অবস্থায় দেশের অন্য কোনো ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের প্রয়োজন নেই।’

৫ এপ্রিল শ্রমিক লীগ টঙ্গী শিল্প এলাকায় বামপন্থি দলের শ্রমিক সংগঠন বাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের ওপর প্রথমবারের মতো সরাসরি আক্রমণ চালায়। এতে কয়েকজন শ্রমিক নিহত হন ও অসংখ্য শ্রমিককে নির্দয়ভাবে প্রহার করা হয়। এরই মধ্যে শ্রমিক ফেডারেশনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে শেখ মুজিব তাদের প্রতি সুবিচারের নিশ্চয়তা দেন। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। পক্ষান্তরে, শ্রমিক লীগের এক বৈঠকে ‘পথভ্রষ্ট’ শ্রমিকনেতাদের খতম করে দেশের সমস্ত শিল্প এলাকা থেকে তাদের বহিষ্কার করার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়। এর আগেই শ্রমিক লীগের নেতা আব্দুল মান্নান ‘লাল বাহিনী’ গঠন করেছিলেন। শ্রমিকশ্রেণির শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজগঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারকে সাহায্য করাই ছিল এই বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্য। শিল্প এলাকা থেকে ‘খারাপ লোকদের’ বহিষ্কার এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে ‘দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা’দের অপসারণ ছিল এর প্রধান কাজ। অবশ্য প্রায়ই তারা ক্ষমতার পরিধি বিস্তৃত করে শিল্প খাত অতিক্রম করে শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের ব্যক্তিজীবনেও হস্তক্ষেপ করতে থাকে। ক্ষমতাসীন দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এদের শক্তি ক্রমেই বাড়তে থাকে। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প খাতগুলোর জন্য যে, শৃঙ্খলা ছিল অতি প্রয়োজনীয়, ক্রমেই সেই শৃঙ্খলার ভিত ধসে যেতে থাকে। দেশের বহুস্থানে নিরীহ শ্রমিকরা এদের হাতে নির্যাতিত হতে থাকে। নিজেদের কর্তৃত্ব প্রকাশের জন্য বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তারা শ্রমিকদের স্থানীয়-অস্থানীয় এই দুই শিবিরের মধ্যে বিভক্ত করে ফেলে। শ্রমিকদের মধ্যে আঞ্চলিকতাবাদের বিষবাষ্প সঞ্চারিত হয়। এর আগেই প্রথমে টঙ্গী ও পরে কালুরঘাট এবং সর্বশেষ চট্টগ্রামের বাড়বকুণ্ডে অবস্থিত আরআর পাট ও বজ্রকলে কয়েকজন শ্রমিককে হত্যা করা হয়। তাদের বেশিরভাগই চট্টগ্রামের বাইরের জেলাগুলো থেকে বছরের পর বছর ধরে কাজ করেছিলেন। এভাবে বাহিনী সদস্যদের মাধ্যমে দাঙ্গা বেধে উঠতে থাকে এবং বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব শ্রমিক লীগ বা এর পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্তদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

প্রাচীন বাংলার সমুদ্রবন্দর

একজন ছয়ফুর রহমানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নওয়াব সলিমুল্লাহ

‘আপনার মুরিদ সলিমুল্লাহ’

বঙ্গভঙ্গ এবং নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্ব