আবুল মনসুর আহমদ নানা কারণে বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক। সাহিত্য থেকে সাংবাদিকতা, রাজনীতি থেকে সমাজনীতি—প্রতিটি ক্ষেত্রে। তার বই ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ এবং ‘বাংলাদেশের কালচার’ বিশেষভাবে পঠিত। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বুঝতে হলে ‘বাংলাদেশের কালচার’ অবশ্যই পাঠ্য। এ বইয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতির শেকড় সন্ধান করার প্রয়াস লক্ষণীয়। বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বোঝার মাস্টারপিস ‘বাংলাদেশের কালচার’।
‘বাংলাদেশের কালচার’ বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। তখন এই বইয়ের নাম ছিল ‘পাক-বাংলার কালচার’। ‘পাক-বাংলা’ শব্দবন্ধ দ্বারা আবুল মনসুর আহমদ যে ভূখণ্ডকে চিহ্নিত করেছেন; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সেই অঞ্চল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ফলে পরবর্তীকালে তিনি গ্রন্থটির নাম করেন ‘বাংলাদেশের কালচার’। ১৩৮০ বঙ্গাব্দে বইটি ‘বাংলাদেশের কালচার’ নামে প্রকাশের সময় ‘লেখকের কৈফিয়ত’ সংযুক্ত করেন। কৈফিয়ত থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ: ‘‘নতুন নামের এই বইয়ে এ দুইটি নয়া প্রবন্ধ যোজনা করিয়াছি। দুইটিই স্বাধীনতার পরের লেখা। কাজেই তাতে বাংলাদেশ শব্দটা ব্যবহার করা হইয়াছে। পক্ষান্তরে আগের প্রবন্ধগুলিতে পাক-বাংলা শব্দটাই বজায় রাখা হইয়াছে। তাহাতে লেখাগুলির মর্মের দিক হইতে একসঙ্গে দুইটা উদ্দেশ্য সফল হইবে—এক. প্রবন্ধগুলির শেষে উল্লিখিত রচনার সময়-কালের সাথে বক্তব্যেও সংগতি থাকিবে। দুই. বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এর কালচারেল স্বকীয়তা ও স্বাধীনতার যে প্রাণ ও রূপ দৃশ্যমান, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অঙ্গরাজ্য হিসেবেও অবিকল তাই ছিল।’’
ওপরের মন্তব্য থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট—লেখক তার স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলার কালচার বিষয়ে যে ধারণা পোষণ করতে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও সেই তাত্ত্বিক জায়গা থেকে সরে আসেননি। আবুল মনসুর মনে করতেন—‘ধর্ম ও কৃষ্টির সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ ও নিবিড়।’ এই মতকে আধুনিক কালের সমাজবিজ্ঞানীরাও সমর্থন করেন। এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের (কাতার) সহকারী অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদের মন্তব্য স্মরণযোগ্য—‘‘ধর্মের সঙ্গে সংস্কৃতির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। সমাজবিজ্ঞান কিংবা নৃবিজ্ঞানের যেকোনো প্রারম্ভিক টেক্সট বইয়ে এই বিষয়টা পাওয়া যাবে। সমাজবিজ্ঞান বা নৃবিজ্ঞানের প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান হচ্ছে, ধর্মকে সংস্কৃতি থেকে আলাদা করা যায় না। তিনি বলেন, উদীচী আর ছায়ানটের অনুষ্ঠানে ধর্মের কোনো প্রতিফলন থাকে না—এই দাবি বাংলাদেশের সেক্যুলাররা করে থাকে। আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। এই সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠানে যেসব আচার আর রীতি দেখা যায়, সেগুলো অবশ্যই কোনো না কোনো ধর্ম থেকেই আসে এবং সেই ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে। পৃথিবীর বুকে এমন কোনো সংস্কৃতি নেই, যার মধ্যে ধর্ম নেই। মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো, প্রার্থনা সংগীত, হাতজোড় করে প্রণাম করা, কপালে লাল টিপ দেওয়া—এগুলো সবকিছুই কোনো না কোনো ধর্ম থেকেই এসেছে।’’ (আমার দেশ, ৭ এপ্রিল ২০২৫)
সংস্কৃতি বিষয়ে আবুল মনসুর আহমদ মনে করতেন, বাংলাদেশে দুটি সম্প্রদায় পাশাপাশি বসবাস করলেও আমাদের মধ্যে রয়েছে সংস্কৃতিগত পার্থক্য। সেই পার্থক্য মেনে নিয়ে পুরো ছয়শ বছরের শাসনব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে যে নিজস্ব রূপ দাঁড়িয়ে ছিল বাঙালি সমাজে, সেই বিশাল ঐতিহ্যময় সংস্কৃতির ধারক হলাম আমরা। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেছেন, ‘সে কালচার শুধু মুসলমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নাই। অমুসলমান বাঙ্গালীর মধ্যেও পরিব্যাপ্ত হইয়াছিল। ফলে তা পাইয়াছিল একটা জাতীয় সত্তা ও সর্বজনীন রূপ।’ এবং তিনি বিশ্বাস করতেন, এই সর্বজনীন রূপটিই হবে আমাদের সাহিত্যের বিষয়। আর তাই তিনি প্রচলিত সংস্কৃতির সেই রূপটিকে অস্বীকার না করে বরং আগ্রহভরে গ্রহণ করার পক্ষেই ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলছেন: ‘‘পাক-বাংলার (বাংলাদেশ) শিল্প-সাহিত্যে ও কৃষ্টি—সভ্যতার হাজার বছরের এই মুসলিম ছাপ সুস্পষ্ট দীপ্তমান।’’
‘‘সে কৃষ্টি-সাহিত্যের ইমারত গড়িয়া উঠিবে আধুনিক মাল-মসলাতেই। তার বুনিয়াদ হইবে পাক-বাংলার (বাংলাদেশ) মাটিতে। রূপ-রস—গন্ধে হইবে তা অপূর্ব। সে কৃষ্টি-সাহিত্য রূপে হইবে বাংগালী, রসে হইবে তা মুসলিম, আর গন্ধে হইবে তা বিশ্বজনীন।’’
তিনি বলছেন, ‘‘যে-কোন দেশের কালচার, তা যতই সুন্দর হউক না কেন, অন্য যে-কোন দেশে চালান যাইবে না। স্থানীয় রসের অভাবে তা মারা যাইবে। কারণ আগেই বলিয়াছি কালচারটা মনের বস্তু, মস্তিষ্কের বস্তু নয়।’’
আরেকটু এগিয়ে কালচার বিষয়ে তিনি বলছেন, ‘‘কৃষ্টি সামাজিক ব্যক্তিত্ব। সামাজিকতা পল্লী-জীবনের বৈশিষ্ট্য। এই দিক হইতে কালচারের ধারক ও বাহক পল্লীগ্রাম।’ তবে শহরকে তিনি অস্বীকার করেননি। তিনি মনে করেন, শহর হলো কালচারের স্রষ্টা। তবে সেই সৃষ্টি বিক্ষিত ও বিচ্ছুরিত হয় পল্লী-জীবনে। ‘শহরে করে যা সৃষ্টি, পল্লী করে তা ধারণ ও পালন।’’
এই বক্তব্যগুলোর মধ্য দিয়ে আবুল মনসুর আহমদের সাংস্কৃতিক দর্শনের কয়েকটি মৌলিক দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, সংস্কৃতি কোনো আমদানি করা বিষয় নয়; সংস্কৃতির জন্ম মাটি, মানুষ, ইতিহাস ও সমাজের অভ্যন্তর থেকে। দ্বিতীয়ত, সংস্কৃতি কেবল শিল্প-সাহিত্য, গান-বাজনা বা পোশাক-পরিচ্ছদের নাম নয়; মানুষের সামগ্রিক জীবনাচারই সংস্কৃতির প্রধান আধার। তৃতীয়ত, কোনো ভূখণ্ডের সংস্কৃতিকে তার দীর্ঘ ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করে বোঝা যায় না। এবং চতুর্থত, ধর্মকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সংস্কৃতির একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দাঁড় করানো সম্ভব নয়।
আবুল মনসুর আহমদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান সম্ভবত এখানেই যে, তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে কোনো একটি সংকীর্ণ পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ করতে চাননি। তিনি একদিকে যেমন বাংলার মুসলিম ঐতিহ্যকে অস্বীকার করেননি, অন্যদিকে তেমনি বাঙালি সমাজে তার বিস্তৃত প্রভাবকেও স্বীকার করেছেন। তার কাছে ‘বাঙালি’ এবং ‘মুসলিম’ পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী পরিচয় নয়; বরং বাংলাদেশের বাস্তব সামাজিক ইতিহাসে এ দুয়ের দীর্ঘ সহাবস্থানেই একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক রূপ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই তার ভাষায়—‘রূপে হইবে বাঙ্গালী, রসে হইবে তা মুসলিম, আর গন্ধে হইবে তা বিশ্বজনীন।’
এই জায়গাটিই বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিয়ে চলমান বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশকে বুঝতে গিয়ে একদল যখন সংস্কৃতির মুসলিম উত্তরাধিকারকে আড়াল করতে চায়, অন্যদিকে আরেকদল যখন বাঙালি ঐতিহ্যের বহুমাত্রিকতাকে অস্বীকার করতে চায়—আবুল মনসুর আহমদের দর্শন তখন উভয় সংকীর্ণতার বাইরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। তিনি সংস্কৃতিকে কোনো রাজনৈতিক স্লোগানের বিষয় করেননি; বরং ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা সামাজিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেছেন।
জুলাই ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। জুলাই বিপ্লবকে শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখলে এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের একটি বড় অংশ অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এটি একই সঙ্গে ছিল রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে একটি বড় ধরনের অভ্যুত্থান। দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক বয়ানের বাইরে গিয়ে মানুষ নিজের ইতিহাস, মর্যাদা, বিশ্বাস এবং নিজের জাতীয় সত্তাকে নতুনভাবে প্রকাশ করেছে। এই অর্থে জুলাই বিপ্লবকে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব হিসেবেও পাঠ করা যায়।
জুলাইয়ের দেয়াললিখন, গ্রাফিতি, স্লোগান, কবিতা, গান, শহীদের স্মরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষা—সবকিছুতেই একটি নতুন সাংস্কৃতিক আত্মপ্রকাশ লক্ষ করা গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই আত্মপ্রকাশ কোনো একক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশে তৈরি হয়নি। তা এসেছে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জীবনবোধ থেকে। শহর তার ভাষা ও শিল্পের নতুন রূপ তৈরি করেছে, আর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সর্বত্র। আবুল মনসুর আহমদের ভাষায় বলা যায়—শহর সৃষ্টি করেছে, আর সমাজের বৃহত্তর পরিসর তাকে ধারণ করেছে।
এখানে তার ‘স্থানীয় রস’-এর কথাটিও বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কোনো জাতির ওপর বাইরে থেকে একটি সাংস্কৃতিক কাঠামো চাপিয়ে দিলে তা হয়তো কিছুদিন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে টিকে থাকতে পারে; কিন্তু মানুষের অন্তর্জীবনে তার স্থায়ী প্রভাব তৈরি হয় না। জুলাইয়ের সাংস্কৃতিক প্রকাশের শক্তি ছিল এই স্থানীয় রসের মধ্যে। মানুষের মুখের ভাষা, ধর্মীয় অনুভূতি, ঐতিহাসিক স্মৃতি, জাতীয় আকাঙ্ক্ষা, ক্ষোভ, বেদনা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মিলেমিশে সেখানে একটি নতুন সাংস্কৃতিক ভাষা তৈরি করেছে।
ফলে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে সংস্কৃতির প্রশ্নটি হলো—বাংলাদেশের সংস্কৃতির ভিত্তি কী? এই দেশের মানুষের ইতিহাস, ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, আবহাওয়া, গেরাম-নগর মিলিয়ে যে সাংস্কৃতিক কাঠামো তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্র ও সমাজ কি তাকে যথাযথভাবে ধারণ করছে?
আবুল মনসুর আহমদের দর্শন এখানে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিতে পারে। তার মতে, সংস্কৃতি মস্তিষ্কের বিষয় নয়, মনের বিষয়। অর্থাৎ সংস্কৃতি কেবল তাত্ত্বিকভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া যায় না। মানুষের জীবন থেকে যে সংস্কৃতি স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়, সেটিই দীর্ঘস্থায়ী হয়। রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও বুদ্ধিজীবীরা সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারেন; কিন্তু তারা মানুষের ওপর সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে পারেন না। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাই প্রয়োজন বিদ্যমান সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে নতুনভাবে পাঠ করা।
বাংলাদেশের কালচারের ভবিষ্যৎ দিক
আবুল মনসুর আহমদের ‘বাংলাদেশের কালচার’ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার গাইডলাইন। তিনি দেখিয়েছেন, জাতির সংস্কৃতিকে বুঝতে হলে তার ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়; মানুষের জীবনযাপনকে বুঝতে হয়; ধর্মীয় ও সামাজিক উত্তরাধিকার স্বীকার করতে হয় এবং সর্বোপরি তার মাটির সঙ্গে সম্পর্ককে উপলব্ধি করতে হয়।
আজকের বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে তার দর্শনকে নতুন করে পড়ার প্রয়োজন আরো বেশি। কারণ স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, সেখানে কখনো ধর্মকে সংস্কৃতির বাইরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, কখনো আবার বাঙালি ঐতিহ্যের বৃহত্তর পরিসরকে সংকুচিত করার প্রবণতা দেখা গেছে। অথচ বাংলাদেশের বাস্তবতা এই দুই সরলীকরণের কোনোটিই গ্রহণ করে না।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি একই সঙ্গে ঐতিহাসিক এবং সমকালীন; স্থানীয় এবং বিশ্বজনীন; গ্রামীণ ও নগর; বাঙালি এবং মুসলিম ঐতিহ্যের বহমান সমন্বয়। একটিকে রেখে অন্যটিকে বাদ দিলে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক চিত্র পাওয়া যায় না।
আর এই সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকেই আবুল মনসুর আহমদ তার স্বতন্ত্র ভাষায় ধরতে চেয়েছেন। তার ‘রূপ-রস-গন্ধ’ সূত্র বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যতেরও একটি সম্ভাব্য সূত্র। রূপে স্থানীয়, রসে ঐতিহাসিক এবং গন্ধে বিশ্বজনীন একটি সংস্কৃতি, যা নিজের পরিচয় নিয়ে সংকোচ বোধ করবে না, আবার বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নও হবে না।
জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের সামনে রয়েছে তাই সাংস্কৃতিক পুনর্নির্মাণের প্রশ্নও। নতুন বাংলাদেশ যদি সত্যিই তার আত্মপরিচয়কে নতুনভাবে নির্মাণ করতে চায়, তবে নিজের মাটি ও মানুষের কাছে ফিরে যেতে হবে। ইতিহাসকে নতুন করে পড়তে হবে।