হোম > সাহিত্য সাময়িকী > মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস

কৃষিকাজ ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন

খেলাফতে রাশেদা ও বনু উমাইয়ার শাসনকাল

জাহিদ হাসান

মানবসভ্যতায় খাবার উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনা চিরকালই রাষ্ট্রশক্তির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। যে সভ্যতা ভূমি ও জলসম্পদকে যতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারে, ততটাই সমৃদ্ধি ও স্থায়িত্ব অর্জন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়। মুসলিম সভ্যতা যখন আরব উপদ্বীপের সীমানা পেরিয়ে দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকে, তখন নবগঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থার সামনে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় বিজিত অঞ্চলগুলোর কৃষি ও পানিসম্পদ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা। কারণ এসব অঞ্চলের অধিকাংশই ছিল শুষ্ক বা অর্ধশুষ্ক; ফলে পানির সংকট ছিল সেখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। এই সংকট মোকাবিলার জন্য তারা লভ্য পানিসম্পদকে কার্যকরভাবে আহরণ ও ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও উন্নত পদ্ধতি এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিলেন। মরুময় আরব থেকে উঠে আসা মুসলিম জাতি যখন মিসরের নীল নদ, ইরাকের দজলা-ফোরাত, সিরিয়ার উর্বর উপত্যকা এবং পরবর্তী সময়ে আন্দালুসিয়ায় পা রাখে, তখন প্রতিটি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ও কৃষি-ঐতিহ্যকে আত্মস্থ করে তার ওপর নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রলেপ চড়িয়েছে।

মুসলিম সভ্যতার কৃষি উন্নয়নকে কেবল নতুন ফসলের প্রচলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল পরিকল্পিত খাল খনন, বাঁধ নির্মাণ, কূপ ও জলাধার স্থাপন, ভূগর্ভস্থ পানি আহরণের উন্নত কৌশল, নদী নিয়ন্ত্রণ, পানি বণ্টনের ন্যায্য ব্যবস্থা এবং কৃষকদের জন্য রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা। এসব উদ্যোগ মুসলিম সমাজকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলে এবং বিস্তৃত সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে সুসংহত করে।

নবীজি (সা.)-এর জীবনকালেই পানি ও কৃষির প্রতি ইসলামের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি পানিকে মানবজাতির সাধারণ অধিকার বলে ঘোষণা করেছিলেন এবং কূপ খনন, বৃক্ষরোপণ ও জমি আবাদকে সদকায়ে জারিয়া বা ধারাবাহিক সওয়াবের কাজ হিসেবে উৎসাহিত করেছিলেন। মদিনার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর। নবীজির প্রতিষ্ঠিত মৌলিক নীতির ভিত্তিতেই খুলাফায়ে রাশেদার যুগে পরিকল্পিত কৃষি ও সেচব্যবস্থার বিকাশ ঘটে।

খুলাফায়ে রাশেদার যুগ

খেলাফতে রাশেদার শাসনকালে মুসলিম রাষ্ট্র দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকে। আরব উপদ্বীপের বাইরে পারস্য, ইরাক, শাম ও মিসরের উর্বর কৃষিজমি খেলাফত রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। এসব অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখা ছিল রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিভিন্ন দেশ জয়ের পর খলিফারা এই সেক্টরে নানা ধরনের পরিবর্তন ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল কূপ, নদী বা কৃত্রিম নালা, সেচ খাল খনন, কৃষিজমির সংস্কার এবং পান ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য পানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।

খলিফা আবু বকর (রাদি.) সেনাপতিদের নির্দেশ দিতেন, যুদ্ধকালে কৃষকদের ক্ষেত-খামার নষ্ট করবে না। কৃষিজমি সংরক্ষণকে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে এই ধারার সবচেয়ে সুস্পষ্ট বিকাশ ঘটে। মিসর বিজয়ের পর তিনি সেখানকার শহরগুলোয় পানি সরবরাহের জন্য বিশেষ বাঁধ নির্মাণ করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, মিসরে পানি বাঁধ ও খাল নির্মাণের কাজে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন। শহরগুলোয় নিয়মিত পানি সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে সারা বছর এই কাজ চলত। কর্মচারীদের সব খরচ ও বেতন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রদান করা হতো।

বসরা শহরের গোড়াপত্তনের পর সেখানকার অধিবাসীরা খলিফা ওমরের কাছে পানির সংকটের অভিযোগ করেন। এই সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। তিনি বসরার গভর্নর আবু মুসা আশআরিকে নির্দেশ দেন, ‘দজলা নদী থেকে বসরা পর্যন্ত একটি খাল খনন করো।’ তার নির্দেশে আবু মুসা আশআরি ‘আবলা’ নামে একটি খাল খনন করেন।

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উমর (রা.) ভূমি জরিপ, খেরাজ ব্যবস্থার সংস্কার এবং অনাবাদি জমি পুনরুদ্ধারের মতো নানা পদক্ষেপ নেন। তার অন্যতম নীতি ছিল, যে ব্যক্তি কোনো পতিত জমি আবাদযোগ্য করে তুলবে, তাকে ওই জমির মালিকানা প্রদান করা হবে। এর ফলে বহু অনাবাদি জমি পুনরায় কৃষির আওতায় আসে।

এছাড়া কৃষি খাতে বাইতুল মালের অর্থ ব্যয়, দুর্ভিক্ষের জন্য শস্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা এবং ইরাক ও মিসরের মতো উদ্বৃত্ত অঞ্চল থেকে ঘাটতি অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও গড়ে ওঠে। একই সময়ে পানি বণ্টনে ন্যায়বিচার ও শূরাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতিও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করে।

খলিফা উসমান (রাদি.) পূর্ববর্তী কৃষিনীতি বহাল রাখেন। তার সময়ে নতুন নতুন অঞ্চলে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারিত হয় এবং কৃষিজমির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

খলিফা আলী (রাদি.) বিশেষভাবে কূপ খনন, খেজুর গাছ রোপণ এবং পানি ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, তিনি নিজ হাতে বহু কূপ খনন করেন এবং জনকল্যাণে তা ওয়াক্ফ করে দেন। এটি মুসলিম সমাজে জনকল্যাণমূলক পানি ব্যবস্থাপনার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উমাইয়া খেলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ)

উমাইয়া খেলাফতকাল, বিশেষভাবে মুআবিয়া (রাদি.)-এর শাসনামলকে (৪১–৬০ হিজরি / ৬৬১–৬৮০ খ্রি.) মুসলিম সভ্যতায় কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। খলিফা উমর ও উসমানের শাসনামলে দীর্ঘ ২০ বছর তিনি সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে খেলাফত লাভের পর তিনি সুসংগঠিত ও কেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন। খোলাফায়ে রাশেদার যুগে যে নীতিগত ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, খলিফা মুআবিয়ার শাসনামলে তা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের একটি স্থায়ী ও সুসংগঠিত অংশে পরিণত হয়। শাসনব্যবস্থা সংহত করার পর তিনি রাষ্ট্রীয় বায়তুল মাল থেকে বৃহৎ পরিমাণ অর্থ কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ করেন। রাজধানী দামেস্কে স্থানান্তরিত হওয়ার পর কৃষিজমির পরিমাণ বৃদ্ধি ও হেজাজ অঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিরিয়া, হেজাজ ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক পরিসরে বাঁধ, খাল ও জলাধার নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

বড় সেচ অবকাঠামো ও বাঁধ নির্মাণ

হেজাজ অঞ্চলে কৃষিকাজের জন্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সবসময় বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে হেজাজের কৃষি মূলত ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। অন্যদিকে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলও কৃষিকাজে বিঘ্ন ঘটাত। এসব সমস্যা মোকাবিলায় মুআবিয়া (রা.) হেজাজে একাধিক বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে একটি হলো মদিনার প্রায় ২০০ মাইল দক্ষিণে তায়েফের কাছে অবস্থিত। আরেকটি বাঁধ নির্মিত হয় মদিনার ছয় থেকে ১০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে ওয়াদিয়ে খানাক এলাকায়। এ ছাড়া মদিনার উত্তর-পূর্বে আগ্নেয়গিরির শিলাচ্ছন্ন অঞ্চলের একটি শুষ্ক উপত্যকায় তৃতীয় একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল।

এসব বাঁধ নির্মাণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল উপত্যকাগুলোয় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল বা বন্যা প্রতিরোধ করা; তবে এগুলো কৃষি ও পশুপালনের জন্য পানি সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। এই বাঁধগুলোর আশপাশে মূলত খেজুরের চাষ হতো, সেইসঙ্গে গম ও অন্যান্য ফলসও ভালো হতো।

ইরাক ও সিরিয়ার খাল পুনঃখনন

উমাইয়া খেলাফতকালে দজলা ও ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে পরিত্যক্ত পুরোনো সেচ খালগুলো সংস্কার করা হয় এবং নতুন সংযোগ খাল খনন করা হয়। এতে দামেস্ক ও তার চারপাশের ভূমি একটি সুজলা-সুফলা উদ্যানে রূপান্তরিত হয়।

কৃত্রিম পানি উত্তোলন ও ভূমি সংস্কার

খলিফা মুয়াবিয়া (রাদি.)-এর আমলে কেবল প্রাকৃতিক প্রবাহের ওপর নির্ভর না করে পানি উঁচু ভূমিতে তোলার জন্য পার্সিয়ান হুইলের ব্যবহার শুরু হয়। এ ছাড়া মুআবিয়া (রা.)-এর ব্যক্তিগত জমির ব্যবস্থাপক ইবনে মিনা আস-সুনহ এলাকায় তার জমিতে পানি সরবরাহের জন্য একটি জলপ্রণালি নির্মাণ করেন। এ দৃষ্টান্তে তার ব্যক্তিগত পর্যায়েও ভূমি উন্নয়ন ও সেচব্যবস্থায় আগ্রহের প্রতিফলন ঘটে।

মৃত ভূমির পুনরুজ্জীবন ও ভূমি সংস্কার

মুআবিয়া (রা.)-এর শাসনামলের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর একটি ছিল পতিত জমি পুনরুজ্জীবিত করে বাগান ও কৃষিজমিতে রূপান্তর করা। তিনি নিজেও এ কাজে উদ্যোগী হন এবং পতিত ভূমি আবাদে উৎসাহ দেন। ইসলামি ফিকহের প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী, যে ব্যক্তি পতিত ভূমি আবাদ করবে, সে তার মালিকানা লাভ করবে—এই নীতির প্রয়োগ ভূমি সম্প্রসারণে সাধারণ কৃষক ও অভিজাত উভয়কেই উৎসাহিত করে।

উমাইয়া প্রশাসনে কৃষিজমি জরিপ, খাল সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি পতিত জমি আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করা হতো। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে গম, তুলা, আখসহ নানা ফসলের চাষ এবং আঙুর, জলপাই ও খেজুরের বাগান সম্প্রসারিত হয়েছিল।

ইরাক প্রদেশে জিয়াদ ইবনে আবিহির প্রশাসন

মুআবিয়ার শাসনামলে ইরাকের প্রশাসনিক ও কৃষি-অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন গভর্নর জিয়াদ ইবনে আবিহি। হিজরি ৪৫ সালে (৬৬৫ খ্রি.) সমগ্র ইরাক ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ তার শাসনকালে একক প্রশাসনের অধীনে আসে। জিয়াদ খেরাজ তথা কৃষি রাজস্ব ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সংগঠিত করেন, পতিত জমি জরিপ ও আবাদযোগ্য করে কৃষকদের হাতে ন্যস্ত করেন এবং বসরা ও আহওয়াজ অঞ্চলে সেচখাল রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্প্রসারণের কাজ তদারক করেন।

ঐতিহাসিক বালাজুরি ‘ফুতুহুল বুলদান’-এ উল্লেখ করেছেন, মুআবিয়ার শাসনামলে ইরাকের গভর্নরদের ওপর কৃষিজমি সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল। জিয়াদ ইবনে আবিহির কঠোর শাসনে বসরা ও কুফায় নিরাপত্তা ফিরলে ক্ষতিগ্রস্ত সেচব্যবস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়।

দামেস্ক অঞ্চলে খাল খনন ও নাহরে ইয়াজিদ

উমাইয়া খেলাফতের রাজধানী দামেস্কের পার্শ্ববর্তী গাওতা উপত্যকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক ইবনে আসাকির (মৃত্যু ৫৭১ হি.) ‘তারিখে দিমাশক’-এ দামেস্ক অঞ্চলের প্রারম্ভিক মুসলিম শাসনকালে পানি বণ্টন ব্যবস্থার যে বিবরণ দিয়েছেন, তাতে বারাদা নদীর পানি বণ্টনের একটি সুসংগঠিত পদ্ধতি উমাইয়া যুগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা যায়।

এই ধারাবাহিকতার একটি সুনির্দিষ্ট নিদর্শন হলো, মুআবিয়ার শাসনামলের শেষদিকে তার পুত্র ও উত্তরাধিকারী ইয়াজিদ বারাদা নদী থেকে একটি নতুন খাল খনন করেন। এটি ‘নাহরে ইয়াজিদ’ নামে আজও দামেস্কে এই নামেই প্রবাহিত হচ্ছে। এই খালের মাধ্যমে গাওতার বিস্তীর্ণ পতিত জমি আবাদযোগ্য হয়ে ওঠে এবং অঞ্চলটির সুবিখ্যাত বাগ-বাগিচা আরো সমৃদ্ধ হয়।

কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন

উমাইয়া যুগ ছিল কৃষি ও সেচব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের সময়। সে সময় তায়েফ অঞ্চলেই সেচ ও চাষাবাদের জন্য প্রায় ৭০টি ছোট-বড় বাঁধ ছিল। এছাড়া নদী ও উপত্যকায় বাঁধ, খাল এবং পানি উত্তোলনের বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

খলিফা হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের আমলে মসুলে পানি সংকট দেখা দিলে একটি বৃহৎ খাল খনন করা হয়। এটি নির্মাণে ১৩ বছর সময় লাগে এবং ব্যয় হয় প্রায় ৩০ লাখ দিরহাম। দজলা নদীতেও কয়েকটি বাঁধ ও খাল নির্মিত হয়। হিশামের ভাই মাসলামা ইবনে আবদুল মালিক ফুরাত নদীর বেলিখ দ্বীপ অঞ্চলে একটি বড় বাঁধ নির্মাণ করেন। উমাইয়া আমলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর মধ্যে দামেস্ক-পালমিরা পথের ‘খারবাকা বাঁধ’ও উল্লেখযোগ্য ছিল।

মুআবিয়া (রা.)-এর আমলে কৃষি ও সেচ উন্নয়নের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী উমাইয়া খলিফারা তা আরো বিস্তৃত করেন। পূর্বে সিন্ধু উপত্যকা থেকে পশ্চিমে আটলান্টিক উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অঞ্চলভেদে দজলা-ফুরাত, নীলনদ, বারাদা ও আসি নদী এবং ভূগর্ভস্থ পানির উৎসকে কাজে লাগিয়ে পৃথক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। মুসলিম প্রকৌশলীরা প্রাচীন পারস্য, রোমান ও বাইজেন্টাইনদের অভিজ্ঞতাকে গ্রহণ করে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী তা আরো উন্নত করেন।

ফলে মুআবিয়া (রা.)-এর আমল থেকে শুরু হওয়া কৃষি ও সেচে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ক্রমে বৃহত্তর প্রশাসনিক নীতির অংশ হয়ে ওঠে। ভূমি উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা ও রাজস্ব সংগঠন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় এবং এর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী শতাব্দীগুলোয় মুসলিম সভ্যতার কৃষি-অগ্রগতি আরো বিস্তৃত হয়।

সেপ্টেম্বর-রবিউস সানি-আশ্বিন: মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস ক্যালেন্ডার

খলিফা ওমর (রা.)-এর অর্থব্যবস্থা ও সংস্কার

সুলতান আবদুল হামিদের স্বপ্ন ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য

খলিফা ওমর (রা.)-এর অর্থব্যবস্থা ও সংস্কার

মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস ক্যালেন্ডার: সেপ্টেম্বর-রবিউল আওয়াল-ভাদ্র

মক্কা-মদিনায় বাংলার সুলতানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস ক্যালেন্ডার

নবীজীবনচর্চায় নতুন আলো

খলিফা ওমর (রা.)-এর অর্থব্যবস্থা ও সংস্কার

খলিফা ওমর (রা.)-এর বাজার ব্যবস্থাপনা