প্রাণিসম্পদ খাতের প্রয়োজনীয় টিকার সম্পূর্ণ চাহিদা দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করতে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, উৎপাদন শতভাগে উন্নীত করা সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের আমদানিনির্ভরতা পুরোপুরি দূর হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় এ খাতের অগ্রগতিতে যেসব যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও তা গুরুত্ব পায়। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা এবং পুষ্টিচাহিদা পূরণে এ খাতের বিকল্প নেই। তাই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণালব্ধ ফলাফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করতে হবে।
বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমেই এ খাতকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এ জন্য সবাইকে শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে উদ্ভাবনের বাস্তব সুফল খামারিদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আইন ও বিধিমালার আওতায় পরিচালিত হতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনাকে ধারণ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর প্রাণিসম্পদজাত পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ইতোমধ্যে নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানির মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা এবং প্রাণী ও মানবস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, পুষ্টিচাহিদা পূরণ ও উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ জরুরি। তিনি কৃষিজমির ক্ষতি না করে বিকল্প ভূমি ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।