ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের এক মাসের মাথায় নতুন অভিভাবক পেল দেশের জনগণ। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন বিএনপির দীর্ঘ সময়ের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রবীণ ও অভিজ্ঞ এ রাজনীতিক গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুলের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের জনাকীর্ণ দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চে মাঝের চেয়ারে (রাষ্ট্রপতির নির্ধারিত) বসেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তার ডান পাশে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল এবং বাম পাশে বসেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। বিউগলে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির শপথের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর পরপরই রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম শপথনামায় স্বাক্ষর করেন। পরে বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় আসন পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতির নির্ধারিত চেয়ারে বসেন মির্জা ফখরুল। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল মঞ্চ ছেড়ে অতিথিদের আসনে গিয়ে বসেন।
রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হওয়া চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রীকে দুদফায় শপথ পড়ান।
রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিপরিষদের নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। শপথ অনুষ্ঠানে নতুন রাষ্ট্রপতির স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, বড় মেয়ে ড. মির্জা শামারুহ, ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ কয়েকশ বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক, সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ প্রত্যক্ষ করেন। অনুষ্ঠানে ১২ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরই মির্জা ফখরুল বিএনপির দলীয় পদ এবং মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি বিএনপির মহাসচিবের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে গতকাল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দলের চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মির্জা ফখরুল। জুমার নামাজ শেষে তিনি জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে যান। সেখানে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপি মহাসচিব হিসেবে তিনি এর আগে বহুবার দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
২৫৫ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত
এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম।
নির্বাচনে ৩৪৯টি ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ভোট গণনা শেষে নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া চুপ্পু গত ২৪ জুলাই গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার এ পদত্যাগে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রায় এক মাস রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন হাফিজ উদ্দিন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর পর গত বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে শেষ অফিস করে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন হাফিজ উদ্দিন বীরবিক্রম। শেষদিনের আনুষ্ঠানিকতার পর তিনি সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দলের দেওয়া গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হলেন ৭৮ বছর বয়সি মির্জা ফখরুল ইসলাম। ছাত্রজীবনে বামপন্থি রাজনীতিতে হাতেখড়ি, মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের ভূমিকা পালন, সরকারি চাকরি, শিক্ষকতা, স্থানীয় সরকার এবং জাতীয় রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন তিনি।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের কালীবাড়ী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। তার বাবা ছিলেন তৎকালীন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক সদস্য মির্জা রুহুল আমিন।
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বামপন্থি পূর্বপাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের জন্য মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সঙ্গে যুক্ত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বামপন্থি মুক্তিযোদ্ধাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন তিনি। পরে ভারতে আশ্রয় নেন।
শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। একই সময়ে সরকারি চাকরির অংশ হিসেবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৭২-১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি ইউনেসকো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন।
মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দিতে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন মির্জা ফখরুল। এর দুই বছর পর ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে এ পদটি মেয়র হিসেবে পরিচিত।
এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে স্বৈরাচারী শাসক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন মির্জা ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন।
বিএনপিতে উত্থান ও মহাসচিবের দায়িত্ব
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর দলের সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। প্রথমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। দীর্ঘদিন দলের অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
২০১১ সালে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। পরে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ তাকে মহাসচিবের স্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
মির্জা ফখরুলের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের সময়টিই ছিল বিএনপির ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনে ব্যাপক দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে পড়েন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও কারাবন্দি হতে হয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ছেলে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা ১/১১ সরকারের সময় নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতিতে লন্ডন থেকে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় দলের সামনের সারির প্রধান নেতা হিসেবে মির্জা ফখরুল দল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ সময় তাকে তিনবার কারাবরণও করতে হয়।
সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী
২০১৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বগুড়ার একটি আসন থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। দলের অন্য পাঁচ সংসদ সদস্যকে সংসদে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তারা ২০২২ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ওই বছর দলীয় নির্দেশে তারাও পদত্যাগ করেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। এরপর মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কারণে সংবিধান অনুযায়ী বিএনপির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এক আবেগঘন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। সে অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
পারিবারিক জীবন
মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে তিনি একটি বেসরকারি বীমা কোম্পানিতে কাজ করেন। এ দম্পতির দুই মেয়ে। তারা দুজনই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। তার বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। ছোট মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল মধ্যপন্থি ও বিনয়ী রাজনীতিক হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ব্যক্তিগতভাবে তার প্রশংসা করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিএনপি নেতাসহ বিভিন্ন দলের রাজনীতিকরা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বিএনপির কঠিন সময়ে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকা, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক মনোভাব ও উদার মানসিকতার কথাও স্মরণ করেছেন।