হোম > জাতীয়

একটি দল সাহস হারিয়ে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ: জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টার

একটি দল সাহস হারিয়ে এবং জনগণের সমর্থন পাবেন না বুঝতে পেরে হামলা ও ষড়যন্ত্রমূলক আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামের সহকারী সাধারণ সম্পাদক এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

বুধবার দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। আগামীকালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আর কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরেরও বেশি সময় স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করেছে। চব্বিশের আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন। সব জায়গায় ভোটদানের সুন্দর পরিবেশ আমরা আশা করি।

তিনি বলেন, এ সময় উদ্বেগজনক কিছু ঘটনা ঘটছে। আমাদের প্রার্থী, নেতা, এজেন্ট এবং কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, অফিসগুলোতে হামলা করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটের এই পরিবেশকে নষ্ট করতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে এবং জনগণ যাতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারে, সে জন্য একদল সন্ত্রাসী চেষ্টা করছে।

আমাদের জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচন করছেন। এ আসনে গত রাতে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমাদের অফিসে হামলা হয়েছে। এ আসনে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটছে। আমরা বিকাশ নম্বর ও আইডি কার্ড চাচ্ছি—এমন তথ্য দিয়ে সেখানে একটি লিফলেট ছড়ানো হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। আমাদের আমীর ও জামায়াতসহ নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একদল লোক এসব অসৎ চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করছে।

গতকাল মঙ্গলবার পাবনা সদরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে মাইকিং করা হয়েছে। কিছু লোকের নাম উল্লেখ করে তাদের ধরিয়ে দিতে বলা হয়েছে, যারা মূলত জামায়াতের এজেন্ট হবেন এবং নির্বাচনী কর্মী। পরবর্তীতে যখন আমরা পুলিশ এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করি, তখন তারা বলেন—আমরা কিছুই জানি না, আপনাদের জানানো হবে। রাতেও কিছুই জানাননি। স্থানীয় সংগঠন সেখানে ব্রিফিং করেছে। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ করে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার একটি ঘৃণ্য প্রয়াস চালানো হচ্ছে।

বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ আসনের প্রার্থীর ওপর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। দুজনকে মারাত্মকভাবে আঘাত ও জখম করা হয়েছে। রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং থানায় মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার আগের দিন রাজনগরে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, এই ধরনের হামলা বারবার ঘটছে। একটি দলের পক্ষ থেকে এসব আক্রমণাত্মক হামলা করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে তারা সাহস হারিয়েছে। জনগণের সমর্থন তারা পাবেন না। এজন্য এ ধরনের আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

তিনি বলেন, বরগুনায় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এজেন্ট ও নির্বাচনী কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি ক্রিমিনাল অপরাধ। ভোটের সময় তিনি এটি বলতে পারেন না। সেখানে রিটার্নিং কর্মকর্তা আছেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছেন। আমাদের জানা মতে তারা এখনও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। মনে হচ্ছে প্রশাসনের একটি অংশ যেকোনো কারণে একটি দলের দিকে হেলে পড়েছে। একটি দলকে অন্যায়ভাবে ও অন্যায্যভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই—অতীতে সাড়ে ১৫ বছর যারা এগুলো করেছেন তারা অন্যায় করেছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। গত সাড়ে ১৫-১৬ বছর যারা নির্বাচনে জড়িত ছিলেন, তাদেরকে জনগণ লাল কার্ড দেখিয়েছে। এই নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা আছেন, তাদের আমরা অনুরোধ করব—জনরোষে আপনাদের সরে যেতে হতে পারে। কোনো অবস্থাতেই আপনারা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে যাবেন না। সঠিক ও যথার্থ দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো অবস্থায় যদি একপেশে ভূমিকা পালন করেন, তাহলে জনগণ আপনাদের ছেড়ে দেবে না।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াতের দায়িত্বশীল আটক হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি ঢাকা থেকে আজ গিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে নিয়ে একটি সাজানো নাটক করেছে। তিনি (দায়িত্বশীল) তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন, “আমার ব্যবসার জন্য আমি যাতায়াত করি। ব্যাংক বন্ধ, আমাকে কিছু লেনদেন করতে হবে।” এজন্য তার সঙ্গে কিছু নগদ টাকা ছিল।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের সাপেক্ষে তিনি এই টাকা বহন করেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীম সামাদ বলেছেন, অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।

বিমানবন্দরের মতো একটি রেস্ট্রিকটেড এরিয়ায়, যেখানে খুবই সীমিত মানুষের চলাফেরা, সেখানে একটি নাটক সাজানো হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে টাকা পরিবহন করার পরও বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য হীন চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একদল লোক বিভিন্ন ধরনের সাজানো ঘটনাগুলো দিয়ে জামায়াতে ইসলামি ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সামগ্রিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি এটি সুস্থ ধারার রাজনীতি নয়। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসীকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান অ্যাডভোকেট জুবায়ের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ, ড. মোশাররফ হোসেন এবং সিনিয়র সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান।

এসআর

তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি যে আহ্বান সাবেক সেনাপ্রধানের

নির্বাচনে টাকা বহনের সীমা নিয়ে যা জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, তার সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র

ভোট কেন্দ্র, ভোটার স্লিপ ও সিরিয়াল নম্বর জানবেন যেভাবে

নির্বাচনের আগের রাতে যে দোয়া চাইলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

কোনো অবস্থাতেই ভোটের মাঠ ছাড়বে না জামায়াত: জুবায়ের

টাকা বহন ইস্যুতে আমাকে মিসকোট করা হয়েছে: ইসি সচিব

‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সর্মথন জানিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

কিছু রাজনৈতিক দল ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ চালাচ্ছে: ইসলামী আন্দোলন

নির্বাচন নিয়ে যে ১৩ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ভোটাররা